ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত? আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ফিফায় আলজেরিয়ার অভিযোগ সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া জয়ী ৭ রানে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ নামফলকে নিজের নাম থাকলে উদ্বোধন করব না: এমপি মমিনুল ঈশ্বরদীতে রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল গফরগাঁওয়ে মাদরাসা থেকে ফেরার পথে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস

মেরুদণ্ড ভেঙে বেকার মিজান, পঙ্গুত্ব নিয়ে মুছার ৩ বছরের যুদ্ধ

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
মেরুদণ্ড ভেঙে বেকার মিজান, পঙ্গুত্ব নিয়ে মুছার ৩ বছরের যুদ্ধ
(বামে) দুই সন্তানসহ কাটার ম্যান মিজান হোসেন এবং (ডানে) পাইপ ফিটার আবু মুছা। ছবি: খবরের কাগজ

খসে খসে পড়ছে মাটির ভিটার দেয়াল। বাঁশের বেড়াও নড়বড়ে। টিনগুলো জং ধরেছে। কালবৈশাখী ঝড়ে যেকোন সময় উড়ে যাওয়ার শঙ্কা শতাভাগ। ঘরে আসবাবপত্র বলতে পুরোনো একটি খাট, একটি টেবিল, একটি খাঁচা ফ্যান। দুই ছেলে সন্তানকে কোলে নিয়ে ঘরের চৌকাঠে বসে আছেন তিনি। মাঝেমাঝেই পিঠের ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। 

বলছিলাম সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের যুবক মিজান হোসেনের কথা। যিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বাড়ির পাশের শিপইয়ার্ড ম্যাক করপোরেশনে জীবিকার তাগিদে শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। সেখানে এক যুগ কাজ করার পর তাকে একই কোম্পানীর এ পি এস করপোরেশনে কাটারম্যান হিসেবে বদলী করা হয়। সেখানে কর্মঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করেও ন্যূনতম মজুরি পেতেন না তিনি। ওই ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় ২০২৪ সালের ১২ মে বিকালে গ্যাসের মাধ্যমে জাহাজ কাটতে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট উপর থেকে সাগরের বালুচরে পড়ে যান। এরপর তাকে স্থানীয় বিএসবিআরএ হাসপাতালে নেওয়া হলেও ভালো চিকিৎসা পাননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন মিজান। ক্ষতিপূরণ চাইলেও দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত শ্রম আদালতে মামলা করেও বিশেষ কোনো লাভ হয়নি। একপর্যায়ে দারিদ্রের কষাঘাতে গত বছরের ২৮ আগস্ট মাত্র এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি।

শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৫১ এবং তপসীল ৫ অনুসারে জাহাজভাঙা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিধিমালা অনুসারে মারাত্মক আহত শ্রমিকের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একইসঙ্গে ১ বছরের বেতনসহ ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও ছুটি দেওয়ার কথা। সেই হিসেবে মিজানের পাওয়ার কথা ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মিজানকে দেওয়া ক্ষতিপূরণ শ্রম আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। 

এরপর দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি বেকার হয়ে ঘরেই দিন পার করেছেন। দুই সন্তান, স্ত্রী, ভাবী, মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যেদের নিয়ে পড়েছেন চরম বেকায়দায়। মিজান ভারী কিছু বহনেও অক্ষম। ঘুমাতে হলে তাকে বেল্ট পরিধান করতে হয়। এখনও মাঝ রাতে তার ঘুম ভেঙে যায়। কবে নাগাদ নিজে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠবেন তাও জানেন না মিজান। ইয়ার্ড মালিকের গাফিলতি আর অমানবিক সিদ্ধান্তে তিনি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

মিজানের সাথে খবরের কাগজের কথা হয় বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে। তিনি জানান, শিপইয়ার্ড কর্তপক্ষের হুমকি ও তারা প্রভাবশালী হওয়ায় নিজেকে সেই যুদ্ধ থেকে গুটিয়ে নেন। তার এক ভাই সড়ক দূর্ঘটনায় ৬ মাস আগে মারা যান। এতে সংসারের পুরো চাপ তার উপর আসে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিনি প্রতিদিন চাচার দোকানে সময় দিচ্ছেন। তার দেওয়া সামান্য কিছুতে টানছেন সংসার। বলতে গিয়ে কান্নায় চোখ ভাসান মিজান। বলেন, আমি না মরে বেঁচে আছি। পরিবারকেও মারছি। 

মিজানের মা হোসনে আরা বেগম ছলছল চোখে বলেন, এক সন্তান গাড়ি চাপায় মারা গেছেন। আর সন্তান বেঁচেও মরার মতো। শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ তাকে ঠকিয়েছে। আমার ছেলেকে কোন ব্যবস্থা না করে দিয়ে তারা আরামসে ব্যবসা করছে।

মিজানের মতোই গল্প আবু মুছার। তিনিও একই মালিকের ভাইয়ের শিপইয়ার্ডে পাইপ ফিটার বিভাগে কাজ করতেন। শিপইয়ার্ডে তার কাজের অভিজ্ঞতা ১২ বছরের। শিপইয়ার্ডে কাজের একপর্যায়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। ৩ বছর আগে দেশে এসে স্থানীয় ম্যাক করপোরেশনের মালিক মাস্টার আবুল কাশেমের ভাই হাশেমের শিপইয়ার্ডে কাজ নেন। হঠাৎ করেই জাহাজের উপর থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন তিনি। তার ডান পা ভেঙে ও থেতলে যায়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন মুছাকে মৃত ভেবে, বাড়ি দূরে বলে ইয়ার্ডে দীর্ঘ সময় ধরে ফেরে রাখা হয়েছিল। পরে প্রথমে চমেক হাসপাতালে নিয়ে মেঝেতে বিনা চিকিৎসায় রেখে দেওয়া হয়। এরপর ক্ষোভে স্থানীয়রা শিপইয়ার্ড ঘেরাও করলে তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার ডান পায়ে দুটি রড ও ১৪ টি স্ক্রু লাগানো হয়। দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় আবু মুছাকে। তিনিও আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণ পাননি। দীর্ঘ ৩ বছরের বেশি সময় ধরে তিনিও বেকার। বর্তমানে পরিবার নিয়ে আছেন চরম বেকায়দায়। তবে তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। 

সীতাকুণ্ডের আকিলপুরে বিয়ে করেন সাতক্ষীরার এই যুবক। তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী যখন পায়ে আঘাত পায় তখন আমরা সীমাহীন কষ্টে পড়ে যাই। আমার গর্ভে তখন সন্তান। একদিকে নিজে অসুস্থ, অন্যদিকে স্বামী মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। অবর্ণনীয় কষ্টের সেই দিনগুলি কোনদিন ভুলব না। তিনি বলেন, আমার স্বামী এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি। সামনে তার পায়ের রড়গুলো খুলতে হবে। মালিক খরচ দেবেন বলেছেন। হয়তো চক্ষু লজ্জায় আমার স্বামী কথা বলছেন না গণমাধ্যমে। 

জানতে চাইলে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, শিপইয়ার্ড মালিকরা আমাদেরকে একাধিক বৈঠকে শ্রমিকদের নিন্মতম মজুরি বাস্তবায়ন করবে বলে জানালেও আসলে তা করেনি। বছরের পর বছর শ্রমিকরা বঞ্চনার শিকার। তাদের কোন উন্নতি নেই। কর্মঘন্টা বেশি, বেতন কম, নিয়োগপত্র নেই। আহত হলেও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ মিলছে না। ইতিমধ্যে এই শিল্পে ১৫ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। আমরা ডিসির মাধ্যমে শিল্প উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছি।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মো. শিপন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ৩৫ টি ইয়ার্ড থাকলেও জাহাজ আছে ২৫টিতে। সবকটি ইয়ার্ডে মোট শ্রমিক কাজ করছে আনুমানিক সাড়ে ১০ হাজার। তাদের মজুরি রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, ক্ষতিপূরণ আদায়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ৮ ঘন্টা কর্মঘন্টা ঠিক রাখতে আমরা কাজ করছি। শিপইয়ার্ড গ্রীণ হওয়াতে আগের চেয়ে উন্নতিও হচ্ছে এসব দিকে।

সিফাত/

দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
দূষণের শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার অবস্থান কত?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বড় বড় শহরের সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণও। তবে কখনও কখনও বৃষ্টির কারণে বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা কম-বেশি হয়।

শনিবার (১৯ জুন) সকাল সোয় ৯টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাংকিংয়ে ৮৬ স্কোর নিয়ে ঢাকা আছে ১৬তম অবস্থানে। আজ ঢাকার বাতাস  ‘সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত।

বায়ুদূষণে আজকের দিনে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার স্কোর ১৭০। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ১৬১। পাকিস্তানের শহর লাহোর ১৬০ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা, এই শহরের স্কোর ১৫৬। ১১৮ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো।

উল্লেখ্য, আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় আট বিভোগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ বিদ্যুৎ চমকাতে পারে এবং হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেও সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাঈম/

রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর পল্টনের আবাসিক হোটেল রমনায় মো. আল আমিন (৪০) নামে এক সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে অচেতন অবস্থায় সৌদিপ্রবাসী আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরশাদী এলাকার ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়ে গেছে।
  
তবে পুলিশ বলছে, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়।হোটেল রমনার বয় (কর্মী) মোহম্মদ হানিফ বলেন, ‘আল আমিন সৌদিপ্রবাসী। তিনি শুক্রবার (গতকাল) সকালে দেশে ফিরে হোটেল রমনা আবাসিকের ৯ তলার ৯২৩ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তার সঙ্গে একজন তরুণীও ছিলেন। তার নাম সাগরিকা আক্তার। পরে আমরা জানতে পারি, সৌদি আরবে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাগরিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিগত ছয় মাস তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই তরুণী বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার চরকান্দি গ্রামের সবুর শেখের মেয়ে। তিনি গাজীপুর নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী।’ 

অন্যদিকে আটক তরুণী সাগরিকা দাবি করেন, ‘আল আমিন ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হঠাৎ পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। ওয়াশরুমের দরজা খোলা ছিল এবং আল আমিন মেঝেতে পড়ে ছিলেন। পরে তার চিৎকারে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে যান। পরে তারা সবাই মিলে আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদেকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল এখনো শেষ হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়। তবে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখি, তারা কী নির্দেশনা দেন।’

ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘নিহত সৌদিপ্রবাসী আল আমিনের বন্ধুর বোন সাগরিকা। সাগরিকার ভাইও সৌদি আরবে থাকেন। সেখান থেকে কিছু জিনিস আল আমিনকে দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেসব নিতে সাগরিকা ওই হোটেলে গিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, আল আমিন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।’ 

আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ
পুলিশের ইউনিফর্ম

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ‘গাঢ় নীল’ এবং ‘হালকা অলিভ’ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণে আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ। পোশাক আগের রঙের হলেও এবার সবার প্যান্ট হবে খাকি।

পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সদর দপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলাসহ অন্য ইউনিটের পুলিশের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট হবে, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের এবং সব পুলিশের প্যান্টের রং হবে খাকি। এ ছাড়া এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‍্যাব এই পোশাকের আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ তাদের পোশাক পরিবর্তন হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছর ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। তবে এই পোশাক সাত মাসও টিকল না। এই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
রংপুরে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: খবরের কাগজ

আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। পদ্মা ব্যারাজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগির আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাস করানো হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারী জেলায় তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন যে আমি খুব শিগগির এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পেছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না এগোই তাহলে আমরা হোঁচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করব। প্রয়োজনে দু-চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন শিগগিরই এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজটা উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে তিনি তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির সদস্যসহ অন্যরা।

এদিকে লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘তিস্তা নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে। আমরা যদি পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তবে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাআল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হব।’ গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘উজানে গজলডোবায় যেভাবে পানির স্রোত আসছে, তারা তো তাদের গেটগুলো ওপেন করে দিয়েছে। এই খাড়া স্রোতের কারণে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং নদীভাঙন বিশাল আকার ধারণ করেছে। পানি এত ওভারফ্লো হচ্ছে যে, এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের সবদিক বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতীব প্রয়োজন। এটা শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আজ আমরা টেকনিক্যাল টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা শুধু আপনাদের দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখন এই কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব, তখন হয়তো ছয়-সাত বছর সময় লাগে যাবে। কিন্তু এর যে বেনিফিট আসবে তা এ অঞ্চলের মানুষ পাবে। এতে সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে।’ 

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ অন্যরা।