বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটির বিরুদ্ধে সরকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়।
মঙ্গলবার (৬ মে) সংস্থাটির একটি দল স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় মাত্র ৬৯০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার বাজার থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়। উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির লাইসেন্স নেই এমন প্রতিষ্ঠানকেও সংস্থাটি থেকে সিলিন্ডার নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি পুরো জেলায় ৩০০ ডিলার থাকলেও সিন্ডিকেট করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডার তুলে নেওয়ার তথ্য মিলেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম, উপসহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন, উপসহকারী পরিচালক মেরিন আক্তারের নেতৃত্বে একটি টিম স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে অভিযান চালায়। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ অভিযান বেলা ৩টায় শেষ হয়। অভিযানে সরকারি ৬৯০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার দ্বিগুণ দামে বিক্রির বিষয়টি দুদক কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখেন।
তারা জানান, সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রিতে বিপিসির বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স না নিয়েই অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৩০০ ডিলারের মধ্যে সিন্ডিকেট করে মাত্র কয়েকজন এসব সিলিন্ডার নিয়ে গেছেন। এ ছাড়াও সরকারি এলপিজি গ্যাস অন্য সিলিন্ডারে রিফিল করে বেশি দামে বিক্রির তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে লাইনের গ্যাসের সংকটকে পুঁজি করে সাম্প্রতিক সময়ে সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেই সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন- বিপিসি মাত্র ৬৯০ টাকায় গ্রাহক পর্যায়ে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করে। বছরে ১৪ লাখ সিলিন্ডার গ্রাহক পর্যায়ে সরকারিভাবে সরবরাহের কথা থাকলেও বাজারে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দুদক জানিয়েছে, ডিলার ও বিপিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি সিলিন্ডারের গ্যাস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারে রিফিল করে দ্বিগুণ দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির তথ্যমতে, সরকার প্রতি বছর ১৪ লাখ সিলিন্ডার গ্যাস উৎপাদন করে। সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ টাকা নেওয়া হলে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়।
দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স না নিয়েই অনেক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার তুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৩০০ ডিলার থাকলেও সিন্ডিকেট করে মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী সরকারি সংস্থাটির সব গ্যাস সিলিন্ডার তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি এলপিজি অন্য সিলিন্ডারে ভরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তদন্তে এসব বিষয় উঠে এসেছে।’
সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে বিপিসি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ। তিনি তখন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার দিনভর বিপিসির কার্যালয় ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উঠে আসে ভয়াবহ চিত্র। সাধারণ মানুষের কাছে যে গ্যাস সিলিন্ডার ৬৯০ টাকায় পৌঁছানোর কথা, সেই গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারে রিফিল করে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।’