২০০১ সালে রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় ঘোষণা বৃহস্পতিবার (৮ মে) শুরু হয়েছে।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় এই রায় পড়া শুরু করেন যা দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। রায়ের পরবর্তী অংশ আগামী ১৩ মে ঘোষণা করা হবে বলে দিন ধার্য করেছেন বেঞ্চ।
হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে সেগুলো ‘কিউরিয়া অ্যাডভিসারি ভাল্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর অর্থ- যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণের দিন রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানট আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা হামলায় ১০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার একটি আদালত মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন ওরফে হেলালুদ্দীন, মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই এবং আরিফ হাসান সুমনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান, মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান, মাওলানা আবদুর রউফ ও শাহাদাত উল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হরকাত-উল-জিহাদ আল-ইসলামীর সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে।কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল মুফতি আবদুল হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানোর দায়ে হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই মামলার আরও কয়েকজন আসামি পলাতক।
আসামিদের পক্ষে শিশির মনিরসহ একদল আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন করেন, আর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি শুনানিতে অংশ নেন।