জাপানের কাছে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বাজেট সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন জাপান সফরের সময় এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। এ ছাড়া এ সময় মোট সাতটি এমওইউ সই হবে।
প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর উপলক্ষে সোমবার (২৬ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক কার্টেন রেইজার অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী।
টোকিওতে আগামী ২৯ ও ৩০ মে ‘ফিউচার অব এশিয়া’ শীর্ষক নিক্কেই ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা আজ রাত আড়াইটায় জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, নিক্কেই সম্মেলনের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার উপস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সই হতে যাওয়া এমওইউর মধ্যে রয়েছে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনে জাপানের জেবিআইসি ঋণচুক্তি, ওনডা ও নাকসিসের সঙ্গে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) আলাদা দুটি ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত সমঝোতা, ব্যাটারি ও সাইকেল কারখানা স্থাপন নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে সমঝোতা, বিডায় ওএসএস প্রযুক্তি স্থাপন নিয়ে জাইকার সঙ্গে সমঝোতা এবং দক্ষতা ও ভাষা উন্নয়নে মানবসম্পদবিষয়ক বিএমইটির সঙ্গে আলাদা দুটি সমঝোতা। এ ছাড়া জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীতকরণে এক্সচেঞ্জ অব নোটস সই হতে পারে।
রুহুল আলম সিদ্দিকী আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশ নেবেন এবং বক্তৃতা দেবেন। আগামীতে জাপানের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ কোন কোন সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারে, সে বিষয়ে সেমিনারে আলোকপাত করা হবে। প্রায় ৩০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী এই সেমিনারে উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা কমছে। কর্মক্ষম মানুষের চাহিদা জাপান বিদেশ থেকে পূরণ করছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের একটি সমঝোতা রয়েছে। এর পরিধি বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের বিএমইটির সঙ্গে জাপানের দুটি বেসরকারি কোম্পানির সমঝোতা হবে। ওই কোম্পানি দুটি জাপানের ভাষা শিক্ষা এবং বিশেষায়িত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেস্কের মহাপরিচালক নুর এ আলম জানান, জাপান মোট ১৬টি খাতে লোক নিতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে তারা ভাষা ও নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ দেবে। এর মধ্যে কেয়ারগিভার, হসপিটালিটিসহ অন্যান্য খাত রয়েছে।