ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ছিল ফাঁকা। এ সময়ে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোনো চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির খবর পাওয়া যায়নি। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি ছিল। এ কারণে অনেকটাই নিরাপদে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন নগরবাসী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় পুলিশ ও র্যাবের সাড়ে ৭০০ টহল টিম, শতাধিক চেকপোস্ট, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। মাঠে সার্বক্ষণিক টহল ও তল্লাশি পরিচালনা করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, মার্কেট ও শপিংমলেও হাজারের বেশি আনসার সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন থানা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানা পরিদর্শন করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, গত ৫ থেকে ১০ জুন দুপুর পর্যন্ত রাজধানীতে ৩১টি চুরি ও ৫টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ডাকাতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনায় পুলিশের অভিযানে ৬৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৯৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।
ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপির যে পরিকল্পনা ছিল তা চলমান রয়েছে। ডিএমপির প্রতিটি থানার পুলিশ পর্যপ্ত টহল ও তল্লাশি চালাচ্ছে। এবার ফাঁকা নগরীতে অপরাধীরা বড় কোনো অপরাধ ঘটাতে পারেনি। ছুটির বাকি দিনগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’