ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলয় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ রেকর্ড থেকে ৫ কদম দূরে দিবু মার্তিনেস সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জুহান্নুস: ফিনল্যান্ডের সেই অনন্য উৎসব, যখন পুরো দেশ চলে যায় প্রকৃতির কোলে জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

নব্বইয়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সময়ের সাহসী বুদ্ধিজীবী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫, ১০:২৬ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৫, ১০:৩৩ এএম
সময়ের সাহসী বুদ্ধিজীবী
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

আজ ২৩ জুন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে তিনি ছিলেন আমার সরাসরি শিক্ষক। প্রথমে তাকে দেখেছি দূর থেকে, তার পর দেখেছি শ্রেণিকক্ষে, যেখানে তার একেকটি বক্তৃতাকে মনে হতো একেকটি মহাকাব্যিক ঘটনা, যার সম্পূর্ণ তাৎপর্য বুঝে ওঠার ক্ষমতা তখনো অর্জন না করলেও পরিষ্কার বুঝতাম যে, আমার এই অসাধারণ বাগ্মী শিক্ষক শুধুই বলেন না, দেখানও। আর বিষয়কে একই সঙ্গে সহজ ও সুন্দর করে উপস্থাপনও করেন, যেখানে তার নিজস্বতা সব সময় স্পষ্ট হয়ে থাকে। দেশে ও বিদেশে আমি নিজেই ইংরেজি সাহিত্য পড়েছি এবং পড়িয়েছি। অবশ্যই বলতে হবে যে, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো মনীষাসম্পন্ন ও প্রতিভাবান ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক খুব কম দেখেছি। কিন্তু এখানে শুধু শিক্ষক হিসেবে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রশংসা করা আমার উদ্দেশ্য নয় বরং তার কাজের সমগ্রকে বিবেচনায় রেখেই এ রচনার সংক্ষিপ্ত পরিসরে তার বিশাল কর্মকাণ্ডের দু-একটি তাৎপর্য সামনে আনতে চাই। 

ইংরেজি সাহিত্যের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক তো বটেই, তিনি একাধারে সংস্কৃতি সমালোচক, সমাজ বিশ্লেষক, রাজনীতি বিশ্লেষক, ইতিহাসবেত্তা, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, কলামিস্ট, সম্পাদক, অ্যাকটিভিস্ট, সংগঠক। এমনকি তিনি কিশোরদের জন্য গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন বিস্তর। তাদের জন্য বিদেশি সাহিত্য থেকে অনুবাদও করেছেন। তার বইয়ের সংখ্যা ১২০টি। এ ছাড়া রয়েছে তার অসংখ্য অসংকলিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ-রচনা। অর্থাৎ প্রায় সারা জীবন তিনি ক্লান্তিহীনভাবে লিখে চলেছেন। অপ্রতিরোধ্য লেখনীশক্তি তার তারুণ্যকে চিহ্নিত করে রেখেছে ৯০ বছর বয়সেও। 

পরিষ্কার যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অনেক এলাকায় বিচরণ করেছেন। বিষয়ের বিবেচনায় তার কাজের বড় এলাকা হচ্ছে সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সাহিত্য। কার্ল মাকর্সের প্রিয় প্রবচন ছিল, ‘যা কিছু মানুষের তা আমার অনাত্মীয় নয়।’ কথাটা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাজের ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবহার করা যাবে। বুদ্ধিজীবী প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেছেন যে, বুদ্ধিজীবী কেবল বিশেষজ্ঞ নন, সব ব্যাপারেই আগ্রহ তার। হ্যাঁ, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী শুধু বিশেষজ্ঞ নন, চূড়ান্ত দৃষ্টান্তে তিনি বুদ্ধিজীবী। জোর দিয়েই বলা দরকার তার সব পরিচয় ছাপিয়ে যে পরিচয় স্পষ্ট হয়ে থাকে, তা হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার পরিচয়। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বুদ্ধিজীবী। আর বুদ্ধিজীবী বলেই তিনি দায়বদ্ধ। সেই দায় দেশের ও দুনিয়ার মেহনতি মানুষের প্রতি, যার পক্ষে তিনি তার চিন্তায় ও কাজে, লেখায় ও কথায়, লড়ে গেছেন আজীবন। এভাবেও বলা যায়, তার লেখা ও লড়াইয়ের মাঝখানে কোনো বিভাজন রেখা নেই। 

বুদ্ধিজীবী প্রসঙ্গে বিশ শতকের বুদ্ধিজীবীরাই লিখেছেন তাদের দায় ও দায়িত্ব নিয়ে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যাবে ইতালীয় মাকর্সবাদী আন্তোনিও গ্রামসির কথা; আরও বলা যাবে পরবর্তী সময়ের নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড সাঈদের কথা। এরা সবাই তাদের মতো করেই লড়াকু, প্রতিরোধী, দায়বদ্ধ বুদ্ধিজীবীকে আলাদা করে দেখেছেন বিশেষজ্ঞ ও এমনকি সনাতন বুদ্ধিজীবী থেকে। এ ঐতিহ্যেই আমাদের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও লিখেছেন বুদ্ধিজীবীর দায় ও দায়িত্ব নিয়ে তার একাধিক রচনায়। তবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তার অসাধারণ প্রবন্ধ ‘বুদ্ধিজীবীদের কাজকর্ম ও দায়দায়িত্ব’। এ প্রবন্ধে তিনি দেখিয়েছেন যে, বুদ্ধিজীবী তিনি, যিনি মানুষের মুক্তির প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেই বিরাজমান নিপীড়ক ও আধিপত্যবাদী ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করেন সে ব্যবস্থাকে বদলাবেন বলেই; তিনি ক্ষমতাকে দাঁড় করিয়ে দেন সত্যের মুখোমুখি। শুধু তা-ই নয়, তিনি তার লড়াকু চিন্তাকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতেও সচেষ্ট থাকেন নিরন্তর। 

বুদ্ধিজীবী নিয়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এসব চিন্তা তার নিজের কাজের বেলায়ও খাটে বটে। তিনি আজীবন বিরাজমান নিপীড়ক ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করে গেছেন। আর ওই ব্যবস্থাকে বদলানোর স্বার্থেই, অর্থাৎ মানুষের মুক্তির স্বার্থেই তিনি তার লড়াকু প্রশ্ন ও চিন্তাকে অন্যের কাছে নিয়ে গেছেন ক্লান্তিহীনভাবে। আমি মনে করি, এটাই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তার কাজে চিন্তা শুধু চিন্তাই থাকে না, প্রশ্ন শুধু প্রশ্নই থাকে না, সেগুলো হয়ে ওঠে মেহনতি মানুষের লড়াইয়ের হাতিয়ারও। 

কিন্তু কোন ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী? এখানেও তিনি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেন বিরাজমান ব্যবস্থাকে। বলা দরকার, স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা শুধু তার অনন্ত পাঠযোগ্য গদ্যের শৈলীগত বৈশিষ্ট্যই নয়, তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রশ্নও। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাজ বারবারই প্রমাণ করে যে, শৈলীর প্রশ্নও রাজনৈতিক প্রশ্ন। সরাসরি যারা বিরাজমান ব্যবস্থাকে স্পষ্ট করে চিহ্নিত করতে পারেন না, তারা তো কোনো না কোনোভাবে ওই ব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নেন। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথার চরকিবাজিতেও যারা সত্য বলতে চান এবং ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করতে চান, তারা আসলে সত্যের প্রতি অবিচারই করেন এবং পরোক্ষভাবে হলেও বিরাজমান ব্যবস্থার পক্ষেই থাকেন। এদের বিপরীতে দাঁড়িয়েই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বিরাজমান ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করে এসেছেন দীর্ঘসময় ধরেই। এসব ব্যবস্থা হচ্ছে পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ/উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও পিতৃতন্ত্র/পুরুষতন্ত্র। 

স্পষ্ট করেই বলা দরকার যে, আমাদের সময়ের প্রধান পুঁজিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, উপনিবেশবাদবিরোধী, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ও পিতৃতন্ত্রবিরোধী লড়াকু লেখক ও বুদ্ধিজীবীর নাম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। যিনি মনে করেন যে, এসব নিপীড়ন ও শোষণের ব্যবস্থাকে বদলানো ছাড়া এবং সেগুলো থেকে মুক্তি ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়। এও স্পষ্ট করে বলা দরকার যে, তার প্রায় সব কাজের কেন্দ্রে থাকে জনগণের মুক্তির প্রসঙ্গ, যে কারণে বিপ্লবী রাজনীতিতে তার আগ্রহ ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে অংশগ্রহণ অক্ষুণ্ন থেকেছে আজীবন। আর এ বিপ্লবী রাজনীতি মানে শুধু বিরাজমান ব্যবস্থাকে বিরোধিতা করা নয়, তার অর্থ পক্ষাবলম্বনও। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্পষ্টত সমাজতন্ত্রের পক্ষে। সমাজতন্ত্রের প্রতি তার অঙ্গীকার অটুট থেকেছে আজীবন, যিনি মনে করেন, সত্যিকার গণতন্ত্রের সঙ্গে সমাজতন্ত্রের কোনো বিরোধ নেই। সমাজতন্ত্রী বলে তিনি গণতন্ত্রীও; গণতন্ত্রী বলেই তিনি সমাজতন্ত্রীও। 

সমাজতন্ত্র নিয়ে বস্তাপচা ভুল ধারণার আধিপত্যের সময়ে এবং তথাকথিত বামপন্থিদের সুবিধাবাদের এ দুঃসময়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আমাদের অনেকের জন্য নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণা। আর যারা সমাজতন্ত্রী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে না চেনে বা সেই পরিচয়কে বাদ দিয়ে তিনি যে কত ভালো শিক্ষক বা কত ভালো লেখক এই প্রশংসায় গদগদ করেন, তারা আসলেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রতি অবিচার করেন বলেই আমি মনে করি। আর গ্রামসির মতোই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার কাজের ভেতর দিয়েই বুঝিয়ে দেন যে, আমরা কোন বিষয়ের ওপর জোর দিই আর কোন বিষয়ের ওপর দিই না, কোন বিষয়কে উহ্য রাখি আর কোন বিষয়কে যুক্ত রাখি, তা রাজনৈতিকভাবে বা মতাদর্শিকভাবে মোটেই নিরীহ বা নিরপেক্ষ নয়।

২ 

ফিরি জনগণের মুক্তি প্রসঙ্গে, যা আগেই বলা হয়েছে, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাজের কেন্দ্রীয় বিষয়। শুধু বিষয়ই নয়, নিরিখও বটে। অর্থাৎ জনগণের মুক্তির নিরিখেই তিনি সাহিত্য সমালোচনা করেন, সংস্কৃতিকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেন, সমাজকে বিচার-বিশ্লেষণ করেন, যেমন তা করেন রাজনীতির ও ইতিহাসের পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও। তবে ওই প্রশ্নটা এখন তোলা জরুরি: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্য জনগণ কারা? সবাই তো জনগণের নামে কথা বলতে চান। আমাদের শাসকশ্রেণি জনগণের নামে কথা বলে, ব্যবসায়ীরাও জনগণের নামে কথা বলে, এমনকি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও জনগণের নামে কথা বলে থাকে। উদারনৈতিক মানবতাবাদের ঐতিহ্যেও ‘জনগণ’ বা ‘মানুষ’ কথাটা বারবার ফিরে আসে মানবপ্রেমের নামে, যে প্রেম আমরা দেখেছি, বিরাজমান অসম ক্ষমতা-সম্পর্ক বা অসম শ্রেণি-লিঙ্গ-বর্ণ-জাতি সম্পর্ককে ধোঁয়াশা করে থাকে। বলাই বাহুল্য, এই উদারনৈতিক মানবতাবাদ জনগণের বিপ্লবকে ভয় পায় এবং সে কারণেই তার কোনো সম্ভাবনাকে সে প্রশ্রয় দেয় না। 

ওই ধারার বিপরীতেই ‘জনগণ’কে বা ‘মানুষ’কে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ফাঁকা বুলি হিসেবে না নিয়ে উদারনৈতিকতাকে শুধু তুমুল সমালোচনাই করেন না; তিনি বিভিন্ন রচনায়; বরং জনগণকে বা মানুষকে দেখেন বিরাজমান অসম উৎপাদন-সম্পর্ক ও ক্ষমতা-সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে; তাদের দেখেন তিনি শ্রেণি-লিঙ্গ-বর্ণ-জাতির অসম ক্ষমতা-সম্পর্কের নিরিখে, যাতে সাম্যবাদী বিপ্লবী রাজনীতির স্বার্থেই বিরাজমান অসমতাকে চিহ্নিত করা যায় এবং তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। অন্য কথায়, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্য ‘জনগণ’ বা ‘মানুষ’ তারাই, যারা বাংলাদেশে ও বিশ্বে অধিকাংশ মানুষ- যারা শোষিত ও নিপীড়িত, যারা পুঁজি ও সাম্রাজ্যের সবচেয়ে নির্মম শিকার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ জনগণ হচ্ছে কৃষক, শ্রমিক, নারী, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা। সিরাজুল ইসলাম এদের পক্ষেই আজীবন লিখেছেন, বলেছেন, লড়াই করেছেন। কেননা তিনি বুঝে গেছেন এবং বুঝিয়েও দিয়েছেন যে, এদের মুক্তি ছাড়া মানবতার সার্বিক মুক্তি সম্ভব নয়।

মুক্তির বিষয়টা কেন্দ্রীয় বলেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য নিয়ে প্রচুর লিখেছেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আমাদের জাতীয় মুক্তির লড়াইয়ের অর্জনগুলোকে চিহ্নিত করেই অনেকের আগেই- সেই সত্তরের দশক থেকেই বলে এসেছেন যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অসমাপ্ত। এ কারণে ১৯৯৩ সালে জাহানারা ইমাম এক কথোপকথনে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন যে, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাজ আমাদের দিকনির্দেশনা দেয় এবং আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। আমরা জানি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের তিনটি ঘোষিত নীতি ছিল।  

সেগুলো হলো সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সেই প্রথম দিককার বই নিরাশ্রয় গৃহী (১৯৭৪) থেকে শুরু করে তার স্বাধীনতা স্পৃহা ও সাম্যের ভয় (১৯৮৮)-এর ভেতর দিয়ে বিচ্ছিন্নতায় অসম্মতি (২০১৪) পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে মুক্তিযুদ্ধের ওই তিনটি ঘোষিত নীতি কখনো হয়ে উঠেছে সরাসরি বিষয়বস্তু এবং প্রায়ই থেকেছে বিচার-বিবেচনার লিপ্ত নিরিখ। এদিক থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে একজন সার্বক্ষণিক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও গণ্য করা চলে।  

৩ 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রথমত ও প্রধানত বাংলাদেশের লড়াকু বুদ্ধিজীবী বলেই বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের সমস্যা ও সংগ্রাম তার অসংখ্য রচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও পিতৃতন্ত্র ছাড়াও তার প্রিয় বিষয় হচ্ছে জাতীয়তাবাদ। এখানে তার জাতীয়তাবাদ-সংক্রান্ত ধ্যানধারণার বিশদ মূল্যায়ন পরিসরের স্বল্পতার কারণে সম্ভব নয়। তবে অবশ্যই বলা যাবে যে, তিনি আমাদের সময়ে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক। তিনি যেমন ঐতিহাসিক কারণে জাতীয়তাবাদের ভেতরে ক্ষেত্রবিশেষে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও উপনিবেশবাদবিরোধী উপাদান শনাক্ত করেছেন, তেমনি তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদের সমালোচনাও করেছেন, এটা বুঝিয়ে যে, সব জাতীয়তাবাদ এক ধরনের নয়। 

কিন্তু সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আন্তর্জাতিকতাবাদীও। ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, চীনা বিপ্লব, কিউবার বিপ্লব, ভিয়েতনামের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মুক্তির লড়াইসহ তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন উপনিবেশবাদবিরোধী লড়াই নিয়েও লিখেছেন তিনি। প্রমাণ করেছেন যে, বিপ্লব ও সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা ব্যতিরেকে বিপ্লবী রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথ শনাক্ত ও প্রশস্ত করা সম্ভব নয়। তবে শুধু এ ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও তার আন্তর্জাতিকতাবাদ স্পষ্ট হয়ে থাকে, যেমন তা থাকে ইংরেজি সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্য নিয়ে তার বিস্তর আলোচনায়। এ ক্ষেত্রে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন বটে। 

এবার তার কাজের বিষয় নিয়ে আরও কয়েকটা কথা বলে নেওয়া যাক। তিনি অসংখ্য বিষয় নিয়ে লিখেছেন । এখানে তার কিছু প্রিয় বিষয়বস্তুর একটা সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া যেতে পারে এভাবে- বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, মধ্যবিত্তের সংস্কৃতি, সাম্য ও স্বাধীনতা, বামপন্থি রাজনীতি, বিপ্লবী রাজনীতি, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, পিতৃতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন, সমাজ ও সংস্কৃতি, শ্রেণি ও সাহিত্য ইত্যাদি। 

যদিও বর্তমান রচনার প্রধান বিষয়বস্তু সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাহিত্য সমালোচনা ও সংস্কৃতি সমালোচনা নয়, তবু এ বিষয় নিয়ে দু-একটা কথা না বললেই নয়। তিনি সমান দক্ষতায় বিচরণ করেছেন বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের সমালোচনার এলাকায়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বিশিষ্ট প্রশ্ন তোলার জন্য। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি প্রধান সাহিত্যিকদের নিয়ে তিনি লিখেছেন প্রচুর। লিখেছেন তিনি বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, নজরুল, জসীমউদ্দীন,  জীবনানন্দসহ অসংখ্য লেখককে নিয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রায় সমান্তরালবিহীন। কিন্তু তিনি আরও বিশিষ্ট এ কারণে যে, সাহিত্যিক মহারথীদের বন্দনা করা বা আনুগত্যের সংস্কৃতিতে তিনি সাহিত্যিক এস্টাবলিশমেন্টকে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন করেছেন সাহস নিয়ে। কিন্তু তিনি প্রশ্ন করার জন্যই শুধু প্রশ্ন করেননি। প্রশ্ন করেছেন বঙ্কিমকে, শরৎচন্দ্রকে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে রবীন্দ্রনাথকেও, জনগণের সমষ্টিগত মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের পরিপ্রেক্ষিতেই। ইংরেজি সাহিত্যের সমালোচনার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। যখন ইংরেজির ডাকসাইটে অধ্যাপকরা আইরিশ-ইঙ্গ-মার্কিন আধুনিকতাবাদীদের, অর্থাৎ ইয়েটস, পাউন্ড, এলিয়ট, লরেন্স, জয়েস্ প্রমুখকে বন্দনা করতে ব্যস্ত, ঠিক তখন বিস্ফোরণের আকারে প্রকাশিত হয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বই প্রতিক্রিয়াশীলতা আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যে, যেখানে তিনি অসাধারণ দক্ষতাসহকারে ওই সব সাহিত্যিক মহারথীর ফাঁক ও ফাঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক অবস্থানের সমস্যাগুলো চিনিয়ে দেন। হ্যাঁ, তিনি ‘ক্রিটিক’-এর পর ‘ক্রিটিক’ হাজির করেছেন, সেগুলো বাংলাদেশে সাহিত্য সমালোচনার শুধু নতুন দিগন্তই উন্মোচন করেনি, সেগুলো জনগণের মুক্তির সংগ্রামে হাতিয়ার হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। 

জনগণের মুক্তির সংগ্রামের স্বার্থেই আমাদের সময়ের অন্যতম প্রধান লড়াকু বুদ্ধিজীবী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর আরও দীর্ঘ জীবন কামনা করি। তাকে জানাই লড়াকু অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা তার ৯০তম জন্মদিনে।

লেখক: গবেষক, ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক, যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহুদিনের। উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এই সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বকে ছাড়িয়ে বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে সেই কৌশলগত সহযোগিতা নতুন মাত্রায় নেওয়া হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এখন চীনের কাছে শুধু অনুদান বা প্রকল্প সহযোগিতা নেওয়ার সম্পর্কে থাকতে চাইছে না। এই সম্পর্কের ব্যাপ্তি এখন আরও গভীরে নিতে চায়। নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ঢাকা-বেইজিং। বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতার অধিকাংশই চীনের। নতুন করে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন তৈরিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে কৌশলগত সহযোগিতার ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে সম্মত দুই দেশ। এই সফরে উভয় দেশের মধ্যে এক ডজন সমঝোতা স্মারক সই করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি খাত, গণমাধ্যম ও শিক্ষাক্ষেত্রে এসব সমঝোতা স্মারক সই হবে। 

এ বিষয়ে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ খবরের কাগজকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে এবং অনেকগুলো সমঝোতা চুক্তিও হবে। কিন্তু কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও চুক্তির কারণে তা অন্য কোনো দেশের জন্য যেন দুশ্চিন্তার কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, প্রতিবেশী ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এসব সফরের দিকটি পর্যবেক্ষণে রাখে। ফলে এসব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক যাতে বজায় থাকে, সেদিকটি লক্ষ রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক বাংলাদেশের থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা যেন কারও জন্য উসকানিমূলক না হয়। কেননা এসব দেশের নিজেদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে থাকে। যেমন, চীন ও ভারতের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধ থাকলেও আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে। কাজেই এই তিন পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই লক্ষ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে তড়িঘড়ি করে প্রথম সফর মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করা হচ্ছে, তা আবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার খাতিরে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র কোন দেশকে কখন অগ্রাধিকার দেবে, সেটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেই মনে করেন কেউ কেউ।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অনেক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সহায়তা রয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের ইতিহাসে সড়ক, সেতু, রেল, বিদ্যুৎ, বন্দর এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর অনেক প্রকল্পে চীনের অবদান রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে নদীর নাব্যসংকট, ভাঙন, পানির স্বল্পতা এবং সেচ সমস্যা রয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা এবং সেচ অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে। যদিও এই প্রকল্পটি এককভাবে চীনকে দেওয়ায় ভারতের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি সরকার কীভাবে সমন্বয় করবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। 

তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট উৎপাদন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো আগামী দিনের অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ যদি এসব খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আকৃষ্ট করতে পারে, তাহলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের একটি।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। অন্যদিকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
 
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রত্যাবর্তনকারী ৬০ হাজার ৫৮৮ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। সৌদি আরবে মারা যাওয়া ৫৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্তরা/

দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তার। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সতর্কবার্তাটি ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্তরা/

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ
ছবি: খবরের কাগজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২৫ সালে তাদের দেশের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এসএনবি।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ সমান ১৫৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর ২০২৪ সাল শেষে এই জমার পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০২৩ সালে যার অনেকটাই সরিয়ে নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ জমা হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসেবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি সুইস ব্যাংকে না গিয়ে বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেল ও মধ্যবর্তী গন্তব্যের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমা হয়েছে, যা মূলত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো এবং এক বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধু বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তার মতে, এই অর্থের একটি বড় অংশ আগের কয়েক বছরে দেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বের হয়ে গেছে এবং ধাপে ধাপে বিদেশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাচার কমবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং যাদের হাতে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল, তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পদ নিরাপদ রাখতে বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশে বিনিয়োগ, সম্পদ সংরক্ষণ বা ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের মধ্যেই অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ে। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার রোধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশই অর্থ পাচার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অর্থ পাচার বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি ঘটে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বাড়ে, পাচারের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে থাকা এই দায়ের মধ্যে গ্রাহকের আমানত এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা অন্তর্ভুক্ত। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই হলো ব্যাংকগুলোর দায়, যা মূলত বাণিজ্য-সম্পর্কিত লেনদেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা অর্থের একটি অংশ পাচার হওয়া সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। অতীতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারীদের তথ্য চেয়ে সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যক্তির তথ্য পায়নি। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করা হলে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএফআইইউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্দেশে আমরা শুরু থেকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। সুইস ব্যাংকেও আমরা যোগাযোগ করব। কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চিত অর্থের সবই পাচারকৃত, তা বলা যাবে না। কারণ সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বৈধভাবে দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ জমা রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। একসময়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। গোপনে অর্থ গচ্ছিত রাখার জন্য খ্যাত ছিল সুইজারল্যান্ড। কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে সুইস ব্যাংকগুলো। ফলে সুইস ব্যাংকে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকির টাকা জমা রাখা হয় বলে এক বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এ ছাড়া অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সঙ্গেই সুইজারল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। এতে বিভিন্ন দেশের আমানতের পরিমাণ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। যার পরিমাণ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যদিও তাদের জমার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীত চিত্র হিসেবে এখানে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান সুইস ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের জমার পরিমাণ বেড়েছে।

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।