প্রসূন বিশ্বাস যশোর কালেক্টরেট স্কুল থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তার প্রাপ্ত ফল হচ্ছে ৪ দশমিক ৭৮। সে তিনটি বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছে। এর মধ্যে সাধারণ গণিতে পেয়েছে ৭৯ নম্বর। জীববিজ্ঞানে ৭৪ নম্বর ও ইংরেজি দুটি বিষয়ে পেয়েছে ১৫৭ নম্বর।
এই তিনটি বিষয়ে ১২৫ টাকা করে পুনর্নিরীক্ষার জন্য ফিস দিতে হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী মাগুরা জেলার আসিফ হোসাইন। সে মাগুরা সরকারি হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। আসিফও কয়েকটি বিষয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে রসায়নে ৭৪ ও পদার্থ বিজ্ঞানে ৭৭ নম্বর পেয়েছে।
শুধু এই দুই শিক্ষার্থী নই। এভাবে যশোর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে ৪৯ হাজার ৭৭৯ শিক্ষার্থী, যা যশোর বোর্ডের এযাবৎকালের সর্বোচ্চসংখ্যক আবেদন। এর আগে ২০২৩ সালে আবেদন পড়েছিল ৪৩ হাজার ৯৬২টি। আর গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার আবেদন বেশি পড়েছে।
আগামী ১০ আগস্ট পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য ৩৭ হাজার ৭৪০টি আবেদন জমা পড়ে। ২৪টি বিষয়ের খাতা আবার নিরীক্ষার পর ২০৩ শিক্ষার্থীর ফলে পরিবর্তন আসে। এর আগের বছর ২০২৩ সালে প্রকাশিত ফলে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় চ্যালেঞ্জ করেছিল ৪৩ হাজার ৯৬২ জন পরীক্ষার্থী। এতে ৫৩৪ জনের ফলাফল পরিবর্তন আসে। তাদের মধ্যে অকৃতকার্য হওয়া ৫৯ পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষার বিভিন্ন গ্রেড পয়েন্ট পেয়ে পাস হয়। এর মধ্যে অকৃতকার্য থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ জন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর গত ১০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। যশোর বোর্ড থেকে এসএসসিত পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। পাশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন ছেলে ও ৫৫ হাজার ৭৩২ জন মেয়ে।
বিভাগভিত্তিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে, বিজ্ঞান বিভাগে ৩৬ হাজার ১৭৭ জন, মানবিক বিভাগে ৫৩ হাজার ৮৩১ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে ১২ হাজার ৩১১ জন। গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম। একইভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪১৯ জনে। ২০২৪ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি স্কুল থেকে এসব শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।