ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে আইভরি কোস্টকে হারাল জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ে যে দলকে এগিয়ে রাখলেন ইব্রাহিমোভিচ দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ১৫ অক্টোবর দুই ছাড়েই সম্ভব সমঝোতা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৩ এএম
দুই ছাড়েই সম্ভব সমঝোতা

সমঝোতার প্রায় কাছাকাছি এলেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইস্যুতে এখনো আটকে আছে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এই দুটি ইস্যু হলো গণভোট ও পিআর পদ্ধতি (ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে আসন বণ্টন)।
 
বিএনপিসহ তার সমমনা দলগুলো নির্বাচনের দিনেই গণভোটের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনের আগে নভেম্বরে জুলাই সনদের বাস্তবায়নে গণভোট চাইছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো খবরের কাগজকে জানাচ্ছে, নির্বাচনের দিনে গণভোটে জামায়াতসহ দলগুলো রাজি হলে সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত ছাড় দিতে পারে বিএনপি। অন্যদিকে, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নেওয়া হলে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনের আগে গণভোটের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে। তবে দুই পক্ষের এই ‘ছাড়ের’ বিষয়টি সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। জানা গেছে, গণভোটের বিষয়ে জামায়াতসহ দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে বিএনপির এখনকার অবস্থান হলো, তারা পিআর পদ্ধতিরই বিপক্ষে।

তবে দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হবে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো এতে যোগ দেবে।

যতদূর জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ সব দলই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। তবে স্বাক্ষরের আগে সব ইস্যুতে ঐকমত্য না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সরকারের কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে গণভোট কবে হবে সেই বিষয়টি সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে চায় ঐকমত্য কমিশন।

অবশ্য সমঝোতার জন্য আরও চার দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ওই আলোচনার ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য মধ্যপন্থি কয়েকটি দল কাজ করছে। ইতোমধ্যে দলগুলো অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদ প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে কিছুটা ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে আলোচনা আছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে দলটি ইতোমধ্যে অনেক ইস্যুতে ছাড়ও দিয়েছে। তবে গণভোটসহ অনেক ইস্যুতে অন্য দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে বিএনপি বিষয়টি প্রকাশ করেনি। সমঝোতার আগেই এ বিষয়ে আলোচনা তুললে দলগুলো আরও অনেক ইস্যু সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে তারা মনে করছে। ফলে ওই দলগুলোর কাছ থেকে ছাড়ের বিষয় বুঝে শেষ পর্যন্ত তারা ছাড়ের  কথা বিবেচনায় নেবে। সে ক্ষেত্রেও অন্য দলগুলোর ছাড় দেওয়ার মনোভাব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তারা দেখতে চাইছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘নভেম্বরে গণভোট সম্ভব কি সম্ভব না- এটা আলোচনার বিষয় না। আলোচনার বিষয় যতটুকু ঐকমত্য হবে তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যতটুকু ঐকমত্য হবে, তার মধ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। তার বাইরে তো প্রত্যেক দলের অনেক কিছু আছে, যেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিরও অনেক ইস্যু আছে যেখানে ঐকমত্য হয়নি। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, আমরা তো মেনে নিয়েছি। আর যে বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো আগামী নির্বাচনের পর সমাধান হবে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় বাকি আছে। এর আগে গণভোটের মতো মহাযজ্ঞ আয়োজন করা সম্ভব নয়। আগে গণভোট করার প্রস্তাব জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়াস হবে।

বিএনপির সূত্র জানায়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বিএনপি। গণভোটের ‘হ্যাঁ বা না’ ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাস্তবায়ন করবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে একই আয়োজন, একই অর্থ ব্যয়ে করা সম্ভব বলে মনে করে দলটি।

জানা গেছে, ৬টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে জুলাই সনদ। কিন্তু এই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। দুই ভাগে বিভক্ত দলগুলো। 

বিএনপির মতোই জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট দেওয়ার পক্ষে মত তুলে ধরে ১২-দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চে ৬ দল, বাংলাদেশ জাসদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, খেলাফত মজলিস। আর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অপ্রয়োজনীয়। অপর দিকে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। গণভোটের প্রশ্ন কী থাকবে, ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে- এসব প্রশ্নেও সুরাহা হয়নি।

১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা খবরের কাগজকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হলে কোনো সমস্যা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের তিনটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভিন্ন দিনে গণভোট হলে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। এতে আটকে যেতে পারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। যদি কোনো কারণে ভোট বিপক্ষে যায় তাহলে ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
 
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই সনদের আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া বিষয়গুলোর সমাধান হওয়া জরুরি। আমি মনে করি, জুলাই সনদ নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না।
 
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এখন গণভোট অপ্রয়োজনীয়। ঐকমত্য বলতে যতটুকু সবাই একমত হয়েছি, এটাকে ঐকমত্য ধরে এগোলে সমস্যার সমাধনের পথ সহজ। যেগুলো এখন বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে তা বাস্তবায়ন করা দরকার এবং সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো আগামী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
 
তিনি বলেন, এর বাইরে গিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া এবং ঘোরতর দ্বিমতের বিষয়গুলো গণভোটের পদক্ষেপ নতুন সংকট তৈরি করবে। সনদ বাস্তবায়ন জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার। জনগণের ওপর সবাইকে ভরসা রাখতে হবে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠানে ঐকমত্য হলেও এখনো সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলের ভিন্নমত অব্যাহত আছে। আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে দেখেছি, উচ্চকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে পিআর যদি বিএনপি মেনে নেয় তাহলে সমাধান সহজ হবে। আমরা আশা করছি, শেষ মুহূর্তে হলেও বিএনপি এ ব্যাপারে নমনীয় হবে।’

নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত-এনসিপিসহ চার দল 
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলগুলো মনে করে, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা বিষয়। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট হতে পারে। অতীতে রেকর্ড আছে, বাংলাদেশে ১৯ দিনের ব্যবধানেও গণভোট হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানেও গণভোট হয়েছে। নভেম্বর মাঝামাঝি গণভোট হলে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরও এক মাস সময় পাবে সরকার। আর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সময় থাকবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট যারা করতে চাইছে তারা মূলত সংস্কার প্রক্রিয়া বানচাল করতে চাইছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হলে জটিলতা তৈরি হবে। অনেক ভোটার বুঝতে পারবে না কোনটা জাতীয় নির্বাচনের ভোট, কোনটা গণভোট? নানা গোলযোগ সৃষ্টি হতে পারে।’

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুলাই সনদ স্থায়ী বাস্তবায়নের জন্য আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। নতুন সংবিধান প্রয়োজন। নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে জুলাই সনদের গুরুত্ব কমে যাবে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রীয় অনেক প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা যাবে। এতে সংঘর্ষ-হানাহানিমুক্ত নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। তা না হলে আগের মতোই নির্বাচন হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘ছাড় দেওয়ার মনোভাব সব দলের থাকতে হবে। রাজনীতির আগের সিস্টেমের পরিবর্তন দরকার। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমের পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর- এমন কোনো কিছু ছাড় দেওয়া যাবে না।’

তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আশঙ্কা দেখছেন না সামান্থা শারমিন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন অসাধ্য অনেক কাজ শেষ করেছেন। আশা করছি, কমিশন বাকি কাজও শেষ করে জুলাই সনদের স্থায়ী সমাধান করবে। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সংস্কার হয়েছে কিন্তু স্থায়ী অনুমোদন না হওয়া জনগণ সুফল পায়নি।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘সনদের সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলো ঐকমত্য হয়েছে। কিছু প্রস্তাবে ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু জুলাই বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। এখন সনদ বাস্তবায়নে আইনি প্রক্রিয়া ঠিক করবে সরকার। যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যর্থ হয় তাহলে এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনের দিনে গণভোট হলে জুলাই সনদে আগ্রহ থাকবে না। অনিয়মের অভিযোগে কোনো ভোট কেন্দ্রে যদি ভোট বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কি হবে? জুলাই সনদে বাস্তবায়নে সরকার যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে আমরা ইতিবাচক ভাবে দেখব।’

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:২৬ এএম
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব বাবা দিবস আজ। 

বাবা—একটি শব্দ নয়, একটি ছায়া; যে ছায়া রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে সন্তানকে আগলে রাখে নীরবে, নিঃশব্দে। সন্তানের প্রথম হাঁটা থেকে জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে বাবাই হয়ে থাকেন সবচেয়ে নির্ভরতার নাম।

আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা।

বাবা দিবসের ধারণাটি পশ্চিমা বিশ্বের হলেও এখন বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশেই এটি উদযাপন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাবাদের সম্মান জানাতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা এবং নানা আয়োজন।

জানা যায়, সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১৯০৯ সালের আগে বাবা দিবস বলে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। তখন স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি থাকলেও বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে অবাক হন তিনি। এরপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগী হন।

ডডের মায়ের মৃত্যুর পর তাদের ৭ ভাইবোনকে বড় করেন তাদের বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন পালন হবে না? বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার।

তারপর অনেক চেষ্টা করে এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। পরে ১৯১০ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস।

বাবা দিবস প্রসঙ্গে সমসাময়িক আরেকটি ঘটনা জানা যায়। সেটি হচ্ছে, ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এক কয়লার খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩৬২ জন পুরুষ। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন সন্তানের বাবা। ফলে প্রায় ১ হাজার শিশু তাদের বাবাকে হারায়। পরের বছর ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এক গির্জায় একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। মৃতদের সম্মান জানাতে তাদের সন্তানরা মিলে এ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। এটিই ছিল বাবাকে সম্মান জানাতে ইতিহাসের প্রথম আয়োজন।

উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর উত্তরার সেন্টারপয়েন্টে অবস্থিত ভূমি গ্যালারিতে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনী ‘পারসিসটেন্স’ পরিদর্শন করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীতে দেশের খ্যাতিমান ১০ শিল্পীর ৬৬টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয় বহন করে। প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতির নানা রূপ ও বৈচিত্র্যের প্রকাশ ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কাজ বাস্তবধর্মী, কোনোটি ইমপ্রেশনিস্টিক, আবার কোনোটি সুরিয়ালিস্টিক হলেও প্রতিটি শিল্পকর্মই বাংলাদেশের নিজস্ব গল্প তুলে ধরছে।’

ভূমি গ্যালারির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে ক্যানভাস, মিশ্র মাধ্যম ও ওয়াটার কালারে আঁকা চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন তরুণ ঘোষ, ফরিদা জামান, মোহাম্মদ ইউনুস, জামাল আহমেদ, আহমেদ সামসুদ্দোহা, রোকেয়া সুলতানা, কনকচাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, শহিদ কাজী ও আব্দুল্লাহ আল বশির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুদ্দিন হাসান রশিদ, ভূমি গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান সাইফুর রহমান লেলিন এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।

এলিস/রিফাত/

রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানাস আপ দল, সেরা খেলোয়ার, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো ভালো খেলছে, মেসি খেলছে, এমবাপ্পে খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়ার হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি বলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করব। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে সবাই চিনবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। যে গান করতে চায়, ছবি আকতে চায় বা কোরআন তেলাওয়াত করতে চায়— সব ব্যবস্থা সরকার করবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু খেলাধুলা নয় এর, পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই কিন্তু আমরা সুন্দর ও স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারবো। খেলা ছাড়লে হবে না। যে যে খেলা পছন্দ করবে সে সেই খেলা করতে হবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশকে একটা স্ট্রং বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি ফেমাস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার'স কাপ’ চালু হবে। অ্যাম্বাসাডর হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিশুদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিন রাজশাহী বিভাগের পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে প্রমিলা ফুটবলারদের নৈপুণ্যে মেতে উঠেন সরকার প্রধানসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা।

পরে চ্যাম্পিয়ন জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশব্যাপী গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ২২ লাখ শিক্ষার্থী।

এসএন/

প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

সহায়ক পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরেও যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। 

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশে কখন সফর হবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপক্ষীয় প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে; কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়। আমরা কোন দেশে যাব তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমাদের যাওয়া প্রয়োজন।’

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলোতে সফরের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন আমরা যাব। যখন চীন যাওয়ার দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাব। মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে সফট পাওয়ার শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে আপনারা পরাধীনতার নীতি দেখেছেন। আমরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন অবস্থান থেকে কাজ করছি।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যকে তার নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন। এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান।

দুই পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, দৃঢ় জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ ও প্রাণবন্ত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের অবদানের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই প্রবাসী সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে চলেছে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এদিকে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বলেছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকট বাংলাদেশের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। গত শুক্রবার মায়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। শনিবার সকালে ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সালাহউদ্দিন নোমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। যদিও দীর্ঘায়িত এ সংকটের কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও মায়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরতে চায়। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সমর্থন ও অব্যাহত মনোযোগ কামনা করেন।

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের দ্রুত ফেরাতে বিশ্ব ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই দূত।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মায়ানমারে ফেরানোর মধ্য দিয়েই এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মনে করে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।