নিজস্ব নিয়োগবিধি পেয়েছেন নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (২০ অক্টোবর) নিবন্ধন অধিদপ্তরের (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ নামে গেজেট প্রকাশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
এর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্ট্রাররা পদোন্নতি পাবেন মহাপরিদর্শক (আইজিআর) পর্যন্ত। শুধু তাই নয় অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও উপ-মহাপরিদর্শক পদও সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইন্সপেক্টর অব রেকর্ডস ও সহকারী ইন্সপেক্টর অব রেকর্ডস পদ বেড়ে ১৭টি হয়েছে।
বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার জামীলুর রহমান বলেন, এই নিয়োগ বিধি প্রয়োগের ফলে এখন থেকে এ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাএকই পদে দীর্ঘ সময় চাকুরি করে বিদায় নিতে হবে না, এখন হতে পদোন্নতি পাবে; যা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে পারিবারিক, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার আসনে আসীন হতে সাহায্য করবে। সাব রেজিস্ট্রার পদ হতে মহাপরিদর্শক হওয়ার সুযোগ রয়েছে; যা কি না নন-ক্যাডার বিভাগে প্রাপ্ত সম্মানে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ জানান, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৯ সালে দ্য গেজেটেড অফিসার্স (রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট) রিক্রুটমেন্ট রুলস প্রণয়ন করা হয়, যা সংশোধন করা হয় ১৯৯৬ সালে। এভাবে চলে আসছিল। কিন্তু এ বিভাগের জন্য নিজস্ব নিয়োগবিধি প্রণয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও সেটি নানা কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর ২০২১ সালে এসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেটি ২০২২ সালের ১২ মে উপস্থাপন করা হয় প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে। এরপর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালা ঘুরতে থাকে চরকির মতো। এভাবে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রক্রিয়া পার হয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি পিএসসির মতামতসহ বিধিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই বিধিমালা আর আলোর মুখ দেখছিল না।
পরে সম্প্রতি বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআরএস) সাবেক মহাসচিব শেখ কাওসার আহমেদ এবং সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ রমজান খান বিধিমালা জারির দাবিতে সোচ্চার হন। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বর্তমান কমিটির মহাসচিব ও খিলগাঁও সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ এবং চাঁদপুর জেলা সাবরেজিস্ট্রার ও বিআরএস-এর সাবেক আইন সম্পাদক আকবর আলী।
বিআরএসের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, এ বিধিমালার গেজেট জারি হওয়ার পরে কিছু জরুরি দাবিদাওয়া পেন্ডিং রয়েছে। বিশেষ করে জেলা রেজিস্ট্রারদের জন্য গাড়ি প্রাধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। এরপর আমরা ই-রেজিস্ট্রেশন চালুসহ কীভাবে সেবার মান আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কিছু পরিকল্পনা সরকারের কাছে তুলে ধরব।
জয়ন্ত/মেহেদী/