পঞ্চগড়ে ধর্ম উপদেষ্টা আল্লামা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, 'ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ১৫ মাসে আমার যথেষ্ট সফলতা রয়েছে। যেগুলো করতে পারিনি, সেগুলো আমার ব্যর্থতা। তবে ১৫ বছরের জঞ্জাল ১৫ মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমরা একটি স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।'
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় জেলা শহরের জালাসী এলাকার দারুল উলুম মদিনাতুল ইসলাম মাদরাসা মাঠে ‘আজিমুশান শানে রিসালাত সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটির আয়োজন করে পঞ্চগড় জেলার তৌহিদী জনতা।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স ১৫ মাস। এই সময়ের মধ্যে আমরা বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছি। হজ ব্যবস্থাপনায় সংস্কার করেছি। যেসব মডেল মসজিদ নির্মাণে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো যাচাইয়ের জন্য শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা শিগগিরই আমাদের কাছে প্রতিবেদন দেবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিছু অনিয়মের বিষয়েও একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। তিনি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, এবং তার সুপারিশ অনুযায়ী আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও জানান, “হজের এজেন্সিগুলোর সৌদি আরবে আটকে থাকা ৩৯ কোটি টাকা আমরা ফেরত এনেছি। আমার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। আমি নিজেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। অফিসারদেরও যাতে দুর্নীতিমুক্ত রাখা যায়, সে বিষয়ে আমি সচেষ্ট আছি।”
অনুষ্ঠানে সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল হাই, সহসভাপতি ক্বারী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সুলতান মাহমুদ ও খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মীর মোর্শেদ তুহিন প্রমুখ।
এর আগে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ. ম. খালিদ হোসেনকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে পঞ্চগড় তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি ওলামায়ে কেরামগণ তাঁর হাতে তুলে দেন।
রনি মিয়াজী/রিফাত/