ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় খবরের কাগজে প্রতিদিন ৪ পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজন কাজের আশায় রাশিয়ায়, প্রাণ গেল ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১১ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর: সেমিনারে বক্তারা জুলাই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জন নিহত মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু আইফোনের ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এয়ারপডসে হাংচৌতে চায়না এআই উদ্যোক্তা সম্মেলন শুরু রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম ইসাক-গাইকোরেস রসায়নে মুগ্ধ কোচ পটার মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান বাজেট কি শিশুবান্ধব ও শিশুর খাতে দৃশ্যমান? পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ হল ছাড়লেন জাকসুর জিএস, সময় চাইলেন ভিপি হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র আমরা সব ইরানির জন্য খেলি: তারেমি কালীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে মুখোমুখি বিএনপির দুই গ্রুপ ক্যারিয়ার গড়ুন সীমান্ত ব্যাংকে ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার
Nagad desktop

বিসিএসের পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধকে ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১০ এএম
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২২ এএম
বিসিএসের পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধকে ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা বিসিএস। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) পরিচালিত এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও মাননিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়। এই পরীক্ষায় জাতীয় ইতিহাসের প্রতি যথাযথ সংবেদনশীলতা বজায় রাখা হয়। তবে ধারাবাহিক ভুল ও অসঙ্গতি সেই আস্থার জায়গায় এরই মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ‘বাংলাদেশ বিষয়াবলি’ প্রশ্নপত্রে মুক্তিযুদ্ধকে ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করায় নতুন করে দেশব্যাপী তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ পর্যন্ত, সবার নজর এখন পিএসসির দিকে। প্রশ্নপত্রে এই ভুলের কোনো ব্যাখ্যা এখনো দেয়নি পিএসসি।

৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় গত ২৭ নভেম্বর। গত ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ বিষয়াবলি’ বিষয়ের পরীক্ষা। সেদিন ‘মহানন্দা’ সেটের প্রশ্নে লেখা হয়- ‘‘১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ‘দখলদার বাহিনীর’ বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ‘প্রতিরোধ যুদ্ধের’ সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন।’’ মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক নাম উল্লেখ না করে ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ শব্দচয়ন এবং পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ‘দখলদার বাহিনী’ নামে তুলে ধরায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ তৈরি হয়। শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। প্রশ্নপত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে মানুষ প্রশ্ন তুলতে থাকেন - এটি কি ভুল? না উদ্দেশ্যমূলক?

ইতিহাসবিদদের মতে, ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রচলিত বা স্বীকৃত পরিভাষা নয়। বরং একাত্তরের যুদ্ধকে এভাবে উল্লেখ করা পাকিস্তানের অতীত রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে অনেক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই শব্দচয়নকে অনেকেই ‘ইতিহাস বিকৃতি’ বা ‘ইতিহাসের ভাষা বদলে দেওয়ার একটি নীরব প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় ভুল বা বানানসংকট এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিসিএসের প্রশ্নপত্রে নানা ধরনের অসঙ্গতি দেখা গেছে। এর আগে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষায়ও একই ধরনের প্রশ্নবিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর, পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম প্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন রাখা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তখনো প্রশ্ন উঠেছিল, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যখন মুক্তিযুদ্ধ, তখন তা কি এড়ানোর চেষ্টা চলছে?

সেবার ৪৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে প্রশ্ন ছিল, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত?’ আবার প্রশ্ন করা হয়েছিল- ‘১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?’ এর পাশাপাশি বাংলা ভাষা আন্দোলন ও ব্যাকরণ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নেও ভুল বা অসংগতি দেখা যায়। ফলে পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের কাছে পিএসসির প্রশ্নপত্র প্রণয়ন পদ্ধতি ও নেপথ্যের ব্যক্তিরা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।

এরও আগে, চলতি বছরের ২১ মে প্রকাশিত ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের সিলেবাস নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারের জন্য নির্ধারিত সিলেবাসে জাতীয় ইতিহাসের মূল অংশ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, এসবকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, সিলেবাসের এমন পরিবর্তন আকস্মিক এবং ব্যাখ্যাতীত।

বিসিএসের প্রশ্নপত্রের এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক লেখক ও গবেষক সালেক খোকন বলেন, প্রশ্নে পাকিস্তান শব্দটি বাদ দিয়ে কেবল ‘দখলদার বাহিনী’ বলা হয়েছে। এটি পাকিস্তান শব্দটিকে এড়িয়ে যাওয়ার সচেতন প্রয়াস হতে পারে। বাংলাদেশ তো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, লাখো শহিদের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীন হয়েছে। সেই ইতিহাসের প্রশ্নপত্রেই যদি শব্দচয়ন বদলে যায়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখানে এক ধরনের টেকনিক্যাল ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এর চেয়ে ৭১-এর প্রশ্ন না দিলেই ভালো। বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করা উচিত নয়।

তার মতে, আগে ইতিহাসের অতিরঞ্জন দেখেছি, এখন দেখছি সরাসরি ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে- পিএসসি এমন সব প্রশ্ন করেছে। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কোনো জবাব চাওয়া হয়নি! তার মানে এ সংস্থায় যারা রয়েছেন তারা ৭১-কে মানেন কি না, এমন প্রশ্ন দাঁড়ায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গবেষক, শিক্ষক, প্রশাসনিক প্রশিক্ষক- সবাই এখন পিএসসির ব্যাখ্যা চাচ্ছেন। তারা বলছেন, বিসিএসের মতো ইতিহাস-সংবেদনশীল পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল বা বিকৃতি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যে পরীক্ষার্থীরা একদিন দেশের রাষ্ট্র কাঠামোর পদে যাবে, তাদের মূল্যায়নের প্রশ্নেই যদি ইতিহাসের ভাষা বিকৃত হয়, তবে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক বোধ ও চিন্তাব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের সঙ্গে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তাই কিছু বলা যাচ্ছে না।

বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই
ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক কার্যকারিতা, বিমান সংকট এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে রুটটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

পর্যটন মন্ত্রী বলেন, জাপানের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

আফরোজা খানম বলেন, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওয়াইড বডি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ভবিষ্যতে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়া এবং বাণিজ্যিক চাহিদা বৃদ্ধির ভিত্তিতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী ২০ জুন থেকে এ রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টিকিট বিমানের ওয়েবসাইটসহ সব অনুমোদিত ট্রাভেল অ্যাজেন্টে পাওয়া যাবে।

অমিয়/

দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব
ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে

প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়েকে তলব করে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ৩টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে অসন্তোষ জানানো হয়।

ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলবের বিষয়‌টি নি‌শ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে রবিবার দিল্লির বিমানবন্দরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তাতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনায় বিকেলের মধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, দিল্লির ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এই পরিস্থিতিতে কেন এমন ঘটনা ঘটল এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।

ভারতের ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রবিবার দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকেই ফিরে আসেন।

খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক পলিসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি/খবরের কাগজ

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রিপারপাসিং এগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশস এগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব খাতে সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। এই বরাদ্দ কতটুকু কার্যকরভাবে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে, তা যাচাইয়ে গবেষণা ও মূল্যায়নকে সরকার সবসময় গুরুত্ব দেয়। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশ নীতি নির্ধারণে কার্যকর সহায়তা করে।’

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাটবীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা হ্রাস এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

আমদানি-নির্ভরতা কমাতে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি সরবরাহ, ফল ও সবজি সংরক্ষণে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ, চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ উৎপাদন ও কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হচ্ছে।

কৃষিকে বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষক যাতে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়, সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। চাহিদার সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা আশা করছি, আগামী দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা ও রসুন উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাট ও পেঁয়াজ বীজের আমদানি নির্ভরতা থেকেও পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক, সানেম (SANEM), বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে কৃষিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

জয়ন্ত সাহা/আমান

ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)।

সোমবার (১৫ জুন) এক নির্দেশনায় আইভ্যাক জানায়, পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পূর্ববর্তী কার্যদিবসে প্রকাশ করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করা যাবে। যেসব আবেদনকারী সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, তাদের জন্য বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুরু হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। কোনো পরিবর্তিত, সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল গ্রহণযোগ্য হবে না।

মেডিকেল ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনায় আইভ্যাক জানায়, মেডিকেল ভিসা আবেদনকারীদের অবশ্যই সেই নির্ধারিত হাসপাতালে যেতে হবে, যার জন্য ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) অনুমতি নিতে হবে।

এফআরআরও-এর অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিবর্তন ভিসা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং ভবিষ্যতে ভারতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।

অন্তরা/

মহাখালী বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, আলোচনায় সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
মহাখালী বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, আলোচনায় সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়া
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সরিয়ে পূর্বাচলে নেওয়া হচ্ছে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালও সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান ও দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা। 

সোমবার (১০ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে তৃতীয় সভা শেষে তারা এসব কথা জানান।

রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিকল্পনা নিয়েছেন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, যানজট নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান, ফুটপাত জনসাধারণের চলার উপযোগী করা নিয়ে কথা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পে অনেক বিনিয়োগ হয়ে গেছে, ১২ বছর অনেক ভোগান্তি হয়েছে। এখন পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে বাজে উদাহরণ হবে। এ প্রকল্পকে কীভাবে ইমপ্রুভ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে করা যায়, জনগণ যেন সর্বোচ্চ সুবিধা পায় সেটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। তিনজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলেছেন তিনি। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিকল্প উপস্থাপন করা হবে।

এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ঢাকা শহরে টার্মিনাল কেন্দ্রিক যানজট নিরসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে। সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প জায়গা দেখা হয়েছে। স্থায়ী জায়গা নিয়েও কাজ চলবে।

আগামী সপ্তাহে শাহবাগে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কাঁচপুরে আন্তঃজেলা টার্মিনাল দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। হকার উচ্ছেদও নয়, আবার বিশৃঙ্খলার মধ্যেও ছেড়ে দেওয়া নয় এমনভাবে কীভাবে দ্রুত হকার ব্যবস্থাপনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, যানজট রোধে কি করণীয় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মহাখালীতে রাস্তার ওপরে যেন বাস না থাকে, সেজন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে পূর্বাচলে বাস ডিপো হবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

খাদিজা রুমি/অমিয়/