ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস সবার আগে শেষ নকআউটে মেক্সিকো বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ কানাডার উৎসব ম্লান ভয়াবহ চোটে গোলোৎসবের দিন মেসির গোল উদযাপনে বদলের পরামর্শ ২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ইকুয়েডর বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে মরক্কোর জয় বিদায়ের আগে আবেগঘন এক বন্ধনের গল্প বস্টনের মন জয় করেছে টার্টান আর্মি দ্রুততম গোলে এগিয়ে বিরতিতে মরক্কো সুইডিশ সমর্থকদের ‘ইয়েলো মার্চ’ রদ্রিকে নিয়ে সমালোচনা ‘অপমানজনক’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে স্পেন ৭২ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপে রেকর্ড মরক্কোর

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে কারসাজি আরও ৬০ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা আজ

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ এএম
আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ এএম
আরও ৬০ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা আজ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে কারসাজি করে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আরও ৬০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৬০টি মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিরা মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জনের কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ওই পরিমাণ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হচ্ছে। 

গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মামলা দায়েরের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) যেকোনো সময় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাগুলো করা হবে। 

এর আগে গত কয়েক মাসে একই ধরনের অভিযোগে অন্য ৪০টি এজেন্সির ১০৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৪০টি মামলা হয়। এই ৪০ মামলায় ২ লাখ ৫ হাজার ২৮৪ জনের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি ৯৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫৬০ জনের কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের মামলায় আসামির তালিকায় আছেন ১০০টি এজেন্সির মোট ২৩২ জন ব্যক্তি।

গতকাল দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অনুমোদিত এজাহারে একক মালিকানার এজেন্সির ক্ষেত্রে একজন এবং যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি আসামির তালিকায় এসেছেন। এজাহারে অন্তর্ভুক্ত ৬০টি এজেন্সি হলো সরকার ইন্টারন্যাশনাল, গাজীপুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, ঐশী ইন্টারন্যাশনাল, পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল, আল বোখারী ইন্টারন্যাশনাল, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড, আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল, দি সুপার ইস্টার্ন লি., ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, পিএন এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি ঢাকা লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিস লিমিটেড, আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল, দেশারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এসওএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেড, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, হায়দরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল, ইস্ট ওয়েস্ট প্যারাডাইস, বেসিক পাওয়ার অ্যান্ড কেয়ার ওভারসিজ, বিডি গ্লোবাল বিজনেস, ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল, আহাদ ইন্টারন্যাশনাল লি., আগা ইন্টারন্যাশনাল, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, আল-হেরা ওভারসিজ, এএনজেড মাল্টি ইন্টারন্যাশনাল, মদিনা ওভারসিজ প্রা. লিমিটেড, নেক্সট ওভারসিজ লি., ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, ম্যানেইজ পাওয়ার করপোরেশন লি. এশা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মুবিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, জেজি আল ফালাহ ম্যানেজমেন্ট, নিউ হেভেন ইন্টারন্যাশনাল, মনছুর আলী ওভারসিজ অ্যান্ড ট্রাভেলস, ম্যাচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নাতাশা ওভারসিজ, শান ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান অ্যান্ড সন্স, ত্রিবেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, আক্তার রিক্রুটিং এজেন্সি, মৃধা ইন্টারন্যাশনাল, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল, সুলতান ওভারসিজ লিমিটেড, রানওয়ে ইন্টারন্যাশনাল, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, জনতা ট্রাভেলস, উইন ইন্টারন্যাশনাল, কমফোর্ট ওভারসিজ কনসাল্ট্যান্ট লিমিটেড, কিসওয়া এন্টারপ্রাইজ, আমান এন্টারপ্রাইজ, রমনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড কনসালট্যন্সি, প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেড ও কাশীপুর ওভারসিজ। 

দুদক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাত। বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আবার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে দেশটি। ওই সমঝোতায় শ্রমিক পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়। ২০২২ সালে সরকারি আদেশে শ্রমিক ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে শ্রমিকপ্রতি সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেখানেও তৈরি হয় নতুন সিন্ডিকেট। মালয়েশিয়াগামী প্রত্যেকের কাছ থেকে নির্ধারিত খরচের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করেন ১০০ এজেন্সির মালিক ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) পরিবারসহ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয় ২০-২৫টি এজেন্সি। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেও প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষে অনেকেই মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। অনেকেই ছাড়পত্র পাননি, বাকিরা ছাড়পত্র পেলেও মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার সম্মতি না পেয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। এভাবে এজেন্সিগুলো ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়াগামী প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তির কাছ থেকে নির্ধারিত খরচের অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে দুর্নীতির বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক এমপি বেনজীর আহমদ ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ওই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চলতি বছরের শুরুর দিকে দুদকে অনেক অভিযোগ আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে জোর তৎপরতা শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১১ মার্চ প্রথমবারের মতো মামলা করে দুদক। এতে ৬৭ হাজার ৩৮০ জনের কাছ থেকে ১ হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ১২টি এজেন্সির ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১২টি মামলা করা হয়। এজেন্সিগুলো হলো অরবিটাল এন্টারপ্রাইজ, অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল, স্নিগ্ধা ওভারসিজ, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, বিএম ট্রাভেলস, বিএনএস ওভারসিজ, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড ও দ্য ইফতি ওভারসিজ। 

এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর ১৩ এজেন্সির ৩১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ১৩টি মামলা করে দুদক। এতে ৬৯ হাজার ২৪৩ জনের কাছ থেকে ১ হাজার ১৫৯ কোটি ৮২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এজেন্সিগুলো হলো আকাশ ভ্রমণ, উইনার ওভারসিজ, শাহীন ট্রাভেলস, নাভিরা লিমিটেড, আদিব এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইউনাইটেড ম্যানপাওয়ার কনসালট্যান্স, গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজ, পিআর ওভারসিজ, জাহরত অ্যাসোসিয়েটস, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং, জান্নাত ওভারসিজ, মিডওয়ে ওভারসিজ ও সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ। 

গত ৬ নভেম্বর ৩ হাজার ৩৩১ জনের কাছ থেকে ৫২৫ কোটি ২২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি এজেন্সির ১১ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করে দুদক। এজেন্সিগুলো হলো আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস, আরআরসি হিউম্যান রিসোর্স সার্ভিস ও থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল।

১১ নভেম্বর ৩১০ কোটি ৯৩ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। এজেন্সিগুলো হলো সেলিব্রিটি ইন্টারন্যাশনাল, অদিতি ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল এবং আর ভিং এন্টারপ্রাইজ। 

১৩ নভেম্বর ৩১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচটি রিক্রুটিং এজেন্সির ২২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করে দুদক। এজেন্সিগুলো হলো এমএস জিএমজি ট্রেডিং, জিএমজি অ্যাসোসিয়েট, কিউকে কুইক এক্সপ্রেস, এমইএফ গ্লোবাল ও দাহমাসি করপোরেশন।

রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর পল্টনের আবাসিক হোটেল রমনায় মো. আল আমিন (৪০) নামে এক সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা এক তরুণীকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে অচেতন অবস্থায় সৌদিপ্রবাসী আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরশাদী এলাকার ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা তরুণীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়ে গেছে।
  
তবে পুলিশ বলছে, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়।হোটেল রমনার বয় (কর্মী) মোহম্মদ হানিফ বলেন, ‘আল আমিন সৌদিপ্রবাসী। তিনি শুক্রবার (গতকাল) সকালে দেশে ফিরে হোটেল রমনা আবাসিকের ৯ তলার ৯২৩ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তার সঙ্গে একজন তরুণীও ছিলেন। তার নাম সাগরিকা আক্তার। পরে আমরা জানতে পারি, সৌদি আরবে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাগরিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিগত ছয় মাস তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই তরুণী বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার চরকান্দি গ্রামের সবুর শেখের মেয়ে। তিনি গাজীপুর নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন শিক্ষার্থী।’ 

অন্যদিকে আটক তরুণী সাগরিকা দাবি করেন, ‘আল আমিন ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হঠাৎ পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। ওয়াশরুমের দরজা খোলা ছিল এবং আল আমিন মেঝেতে পড়ে ছিলেন। পরে তার চিৎকারে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে যান। পরে তারা সবাই মিলে আল আমিনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

গতকাল রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদেকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল এখনো শেষ হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই, তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চায়। তবে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখি, তারা কী নির্দেশনা দেন।’

ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘নিহত সৌদিপ্রবাসী আল আমিনের বন্ধুর বোন সাগরিকা। সাগরিকার ভাইও সৌদি আরবে থাকেন। সেখান থেকে কিছু জিনিস আল আমিনকে দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেসব নিতে সাগরিকা ওই হোটেলে গিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক জানিয়েছেন, আল আমিন স্ট্রোক করে মারা গেছেন।’ 

আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ
পুলিশের ইউনিফর্ম

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ‘গাঢ় নীল’ এবং ‘হালকা অলিভ’ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণে আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ। পোশাক আগের রঙের হলেও এবার সবার প্যান্ট হবে খাকি।

পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সদর দপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলাসহ অন্য ইউনিটের পুলিশের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট হবে, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের এবং সব পুলিশের প্যান্টের রং হবে খাকি। এ ছাড়া এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‍্যাব এই পোশাকের আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ তাদের পোশাক পরিবর্তন হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছর ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। তবে এই পোশাক সাত মাসও টিকল না। এই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
রংপুরে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: খবরের কাগজ

আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। পদ্মা ব্যারাজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শিগগির আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ একনেকে পাস করানো হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে নীলফামারী জেলায় তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন আপনারা যান এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসেন যে আমি খুব শিগগির এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে পেছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি না এগোই তাহলে আমরা হোঁচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। আমরা সবার মতামত গ্রহণ করব। প্রয়োজনে দু-চারটা দেশের বিশেষজ্ঞদেরও।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন শিগগিরই এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজটা উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে তিনি তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির সদস্যসহ অন্যরা।

এদিকে লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘তিস্তা নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার দ্রুত পরিকল্পিত ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করবে। আমরা যদি পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তবে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাআল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হব।’ গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘উজানে গজলডোবায় যেভাবে পানির স্রোত আসছে, তারা তো তাদের গেটগুলো ওপেন করে দিয়েছে। এই খাড়া স্রোতের কারণে তিস্তার পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং নদীভাঙন বিশাল আকার ধারণ করেছে। পানি এত ওভারফ্লো হচ্ছে যে, এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তাপাড়ের সবদিক বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতীব প্রয়োজন। এটা শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই আজ আমরা টেকনিক্যাল টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা শুধু আপনাদের দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখন এই কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব, তখন হয়তো ছয়-সাত বছর সময় লাগে যাবে। কিন্তু এর যে বেনিফিট আসবে তা এ অঞ্চলের মানুষ পাবে। এতে সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে।’ 

পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ অন্যরা।

শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
শিশুস্বাস্থ্যে বড় উদ্যোগ, ৬ মাসে চালু ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

এর মধ্যে বরিশাল  ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।

এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। 

পুুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। 

বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। 

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে। 

গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি। 

নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’

এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে। 

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাসস/এসএন

ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব স্মরণে মিশরে আন্তর্জাতিক সেমিনার
ছবি: সংগৃহীত

ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি (কায়রো, মিশর) শাখার উদ্যোগে মিশরের রাজধানী কায়রোর গ্র্যান্ড কনফারেন্স হল বুর্জ আল-তাতবিকিয়্যিনে ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব বাহরে শরীয়ত শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ)-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগরিবের পর অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন পাক-ভারত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠতম আধ্যাত্মিক মারকাঝ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.)।


 
ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি মিশরের আহ্বায়ক সাইমুম আল-মাহদী আল-আযহারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মিশরের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব ফাদিলাতুশ শাইখ ক্বারী মোহাম্মাদ সাইদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সাইফুর রহমান আল-আযহারী। এ সময় আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেশের ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিবৃন্দ হযরত পীর সাহেব কেবলাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা, আরবী ও ইংরেজী ভাষায় ছারছীনা শরীফের খেদমত, শাহ মোহাম্মাদ মোহেব্বুল্লাহ (রহ.)-এর জীবনাদর্শ, তাজদিদি মিশনের কার্যক্রম, আধ্যাত্মিক অবদান এবং বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় তার বিপ্লবী ভূমিকা তুলে ধরেন।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ দেশের ছাত্র প্রতিনিধি, রুয়াসাউল ইত্তেহাদ, বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ফিলিস্তিনি দাতা সংস্থা One Ummah Foundation, আল-আযহার স্টুডেন্ট ফোরাম, ছারছীনা দারুসসুন্নাত সোসাইটি, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইত্তেহাদ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ছাত্রসংসদের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।

হযরত পীর ছাহেবকে উল্লেখিত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে মিশরের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি ছাত্রদের সংগঠন, ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা প্রধান শিহাবউদ্দিন আল-আযহারী সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। ভারতের ফুরফুরা দরবার শরীফের শাহ সাহেবগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে হুজুরকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। 

সকল সংগঠনের প্রধানগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে, শতাব্দী জুড়ে ছারছীনা শরীফের অবদানসমূহ তুলে ধরেন। ইত্তেহাদুল আরবের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মাদ মাখঝুমি, তাসাউফ চর্চা ও দ্বীন ইসলামের খেদমতে ছারছীনা দরবার শরীফের অবদানকে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ছারছীনা দরবার শরীফের বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সংস্থা হেমায়েতে ইসলাম বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে মিশরে অবস্থানরত উদ্বাস্তু ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনি মজলুম জনগোষ্ঠীর ২০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাপনী বক্তব্যে পীর ছাহেব হুজুর কেবলা আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে দ্বীনি শিক্ষা, আমল-আখলাক, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সুন্নতে নববীর আদর্শে নিজেকে উম্মাহর জন্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে ফিলিস্তিনসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে পরিশেষে দেশ-জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর  শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা মুনাজাত পরিচালনা করেন। 

এসএন/