ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি দেশের সামাজিক কাঠামোকে ক্রমশ দুর্বল করবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেশের অর্থনীতিকে যেমন দুর্বল করবে তেমনি বৈশ্বিক অবস্থানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও দুর্বল করে দেবে।’
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার: বর্তমান বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ধর্মভিত্তিক যে বিভাজনের রাজনীতি হচ্ছে এইটা শেষ বিচারে যে দেশের সার্বভৌমত্বকেই কিন্তু দুর্বল করবে। এটা শেষ বিচারে বাংলাদেশের সমাজকে দুর্বল করবে। এই বিভাজনের রাজনীতি, ধর্মভিত্তিক বা জাতিগত পরিচয়ের রাজনীতি আমাদের অর্থনীতিকে দুর্বল করবে। আগামী দিনে বৈশ্বিক অবস্থানের ক্ষেত্রে আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও দুর্বল করে দেবে।’
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন প্রতিবেশী ভারতকে যে ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখে, একইরকম রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেখা যাবে না।’
তিনি আইরও বলেন, ‘ভারতবর্ষে বর্তমানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি যে আচরণগুলো হয়েছে তা আমার দেশের সংখ্যালঘু যে জীবনমানের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে বিপত্তি সৃষ্টি করছে। এ ঘটনাগুলোকে আমাদের দেশের যারা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে একইরকম আচরণ করতে উৎসাহ যোগায়৷ ভারতবর্ষে কী হচ্ছে তার দায়দায়িত্ব বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নেওয়ার কোনো কারণ নাই।’
এ আলোচনা সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের পাশাপাশি খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, বুড্ডিস্ট ফেডারেশন এবং দলিত সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করা হয়, তা নয়। এখানে এমন একটা ফোর্স কাজ করে, যার পিছনে মূল শক্তি হল রাজনৈতিক। এদের লক্ষ্য দলবাজি, দখলবাজি। রাজনৈতিক কলুষতায় রাষ্ট্রকে সংখ্যালঘু বিরোধী বচর্চার ধারক হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষায় বৈষম্য নিরোধ আইনের খসড়াকে এবার অধ্যাদেশে পরিণত করার কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। বৈষম্য নিরোধ আইনের খসড়ায় নানা ধারা সংশোধনের পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংখ্যালঘু ও জাতিগত নিপীড়নের ঘটনায় 'যথাযথ ভূমিকা নিতে পারছে না' বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই এ লক্ষ্যে এখন 'ডাইভারসিটি কমিশন' গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোটের প্রস্তাবনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করায় কঠোর সমালোচনা করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আলোচনা সভার শেষ দিকে যোগ দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন।
জয়ন্ত/রিফাত/