প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোটের প্রচার চালাতে সংবিধানের কোথাও বিপত্তির কথা উল্লেখ নেই। দেশের প্রবীণ বিচারপতি, প্রবীণ নেতা, আইনজীবী ও আইনপ্রণেতাদের নিয়ে বসে ঠিক করা হয়েছে, সরকার নিজেই রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জনগণের দ্বারে দ্বারে যাবে। এ গণভোট সংবিধান সংস্কারের জন্য, কোনো দল-মতের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণকে বুঝিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের স্টেডিয়াম মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘যারা প্রচার করছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা প্রচার করতে পারেন না, তারা বিধান সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করছেন অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে এটা প্রচার করছেন। বাংলাদেশে যে সরকার এখন ক্ষমতায় আছে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে। এই অন্তর্বর্তী সরকারও বাংলাদেশের সংবিধানে নেই। তিনটি এজেন্ডা নিয়ে এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে–নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার। এখন যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা সেদিন অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।’
অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে নাগরিক এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কিছু দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও নাগরিক দুটোই। তাই দেশের সম্পদ, সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, “পাঁচ কোটি ভোটার বিগত ১৫ বছরে ভোট দিতে পারেননি। প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি। সংস্কারের বড় ম্যান্ডেট এসেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার মাধ্যমে সেই ম্যান্ডেটকে পূর্ণতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।”
বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন, “গণভোটে যারা ‘না’-এর পক্ষে কথা বলেন, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদের পক্ষেই কথা বলেন।”
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।