সারা দেশে উদযাপন হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা। দোল উৎসব মূলত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেম ও ভক্তির স্মরণে উদযাপিত হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, হোম যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই দিন ভক্তরা আবির দিয়ে একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।
বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি। এ কারণে দোলযাত্রার দিন এ মতের বিশ্বাসীরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এ সময় তারা রঙ খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন।
বিশ্বের অনেক স্থানে উৎসবটি শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা নামে অধিক পরিচিত হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা প্রভৃতি স্থানে দোল উৎসব এবং উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারত ও নেপালে ‘হোলি’ নামে পরিচিত।
কোনো কোনো স্থানে এ উৎসবকে বসন্ত উৎসবও বলা হয়।
বাংলায় দোল উৎসব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি হিসেবেও উদযাপন হয়। তাই অনেক স্থানে এটি ‘গৌর পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত।
দোল এবং হোলি উদযাপনের রীতি, সময় এবং পৌরাণিক পটভূমিতে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। দোলযাত্রা উদযাপন হয় ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন। এটি মূলত বাঙালির উৎসব। অন্যদিকে, হোলি উদযাপন হয় পূর্ণিমার পরের দিন অর্থাৎ চৈত্র মাসের প্রথম প্রতিপদ তিথিতে। বাঙালিরা যেদিন দোল খেলেন, উত্তর ভারতে সেদিন পালিত হয় ‘হোলিকা দহন’ বা ছোট হোলি। অর্থাৎ, বাঙালির উৎসব যখন শেষ, অবাঙ্গালিদের রঙের উৎসব তখন শুরু।
পৌরাণিক পটভূমি:
দোলযাত্রা: বাংলায় দোলযাত্রার মূল ভিত্তি হলো শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার বৃন্দাবন লীলা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে শ্রীকৃষ্ণ রাধিকা ও গোপিনীদের নিয়ে আবির খেলায় মেতেছিলেন। এটি বৈষ্ণব সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া এই দিনটি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের শুভ জন্মদিন বা গৌর পূর্ণিমা হিসেবেও বাঙালির কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
হোলি: হোলির নেপথ্যে রয়েছে অসুররাজ হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকার কাহিনী। ভক্ত প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারতে গিয়ে হোলিকা নিজেই আগুনে ভস্মীভূত হন। অশুভের বিনাশকে উদযাপন করতেই জ্বালানো হয় ‘হোলিকা’ বা খড়কুটোর স্তূপ। পরদিন সেই ছাই মেখে বা রঙ খেলে আনন্দ উদযাপনই হলো হোলি।
অমিয়/