মায়ানমারের জান্তা সরকারের গণহত্যা ও নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগণকে ১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে জাপান। জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার মাধ্যমে এই সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার জাপান দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
জাপান দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের প্রতি জাপানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে যে অর্থমূল্যের মোট পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ লক্ষ্যে জাপান সরকার এই মাসে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে পাঁচটি নতুন অনুদান সহায়তা প্রকল্পে স্বাক্ষর এবং নোট বিনিময় করেছে।
ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, আইওএম, ডব্লিউএফপি এবং ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ মাসে ২ থেকে ৫ মার্চ ঢাকায় এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। উল্লিখিত পাঁচ প্রকল্পের মাধ্যমে জাপান কক্সবাজার ও ভাসানচরে জরুরি অগ্রাধিকারকে সহায়তা করবে, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, নারী ও মেয়েদের সুরক্ষা, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন, আশ্রয় উপকরণ, পরিষ্কার রান্নার সমাধান, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকা এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতাসহ স্থানীয় কৃষকদের জন্য সহায়তা। এই সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশি সম্প্রদায়গুলোকেও উপকৃত করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের মুখে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়গুলোকে সমর্থন করার জন্য জাপান দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের সংস্থার সঙ্গে এই পাঁচটি নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে জাপান জীবন, মর্যাদা এবং স্থিতিস্থাপকতা রক্ষার জন্য সময়োপযোগী এবং ব্যবহারিক সহায়তা প্রদান করছে। আমরা আশা করি, এই সহায়তা ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা এবং বিশ্বব্যাপী সম্পদ সংকুচিত হওয়ার সময়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’