চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ঈদ আনন্দ ভোজ’ আয়োজনকে ঘিরে কৃতিত্বের লড়াইয়ে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) ও শাখা ছাত্রদল।
একই আয়োজন নিয়ে দুই পক্ষের পৃথক ফেসবুক পোস্ট, দাবি ও বক্তব্যে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে আলোচনা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে কাছাকাছি সময়ে দেওয়া দুটি ফেসবুক পোস্টে ঈদ ভোজের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এর মধ্যে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের পক্ষ থেকে দেওয়া পোস্টে দাবি করা হয়, নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের দাবির প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
ওই পোস্টে জানানো হয়, চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুর ১২টায় ভোজ অনুষ্ঠিত হবে। আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল অফিস থেকে টোকেন সংগ্রহ করবে। অনাবাসিক ছাত্রদের জন্য সোহরাওয়ার্দী হলের গেস্টরুম এবং ছাত্রীদের জন্য বিজয় ২৪ হলের গেস্টরুম নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের টোকেন সংগ্রহের সময় রাখা হয় ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
অন্যদিকে একই সময়ে চাকসু সহসভাপতির (ভিপি) ইব্রাহীম রনির পক্ষ থেকেও একটি ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ‘ঈদ আনন্দ ভোজ’ এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে একই ভেন্যু, সময় ও টোকেন সংগ্রহের নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের বক্তব্য জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘নতুন ভিসিকে সংবর্ধনা দিতে গিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য এ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্য প্রভোস্টদের নির্দেশ দেন কোন হলে কতজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে, তার তালিকা করতে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই দিন পর চাকসু আগ বাড়িয়ে যদি ক্রেডিট নিতে যায়, সেটি প্রশ্নের। ছাত্রদল কিছু করবে, আর ক্রেডিট নেবে চাকসু, এটা কেন? তবে, ছাত্রদল ক্রেডিটবাজির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’
অন্যদিকে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাইদ বিন হাবিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রশাসন কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো রাজনৈতিক দলকে অর্থ দেবে না। প্রশাসন তার নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের মাধ্যমেই অর্থ ব্যয় করবে। একটি আয়োজন নিয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা চাকসু সবারই প্রস্তাবনা থাকতে পারে। কারণ, তারা সবাই শিক্ষার্থীদের নিয়েই কাজ করে।’
এদিকে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত চাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অর্থায়নে এবং চাকসুর সহযোগিতায় প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই ঈদ আয়োজন সম্পন্ন হবে।
একই আয়োজনকে ঘিরে দুই পক্ষের পৃথক দাবি, ব্যাখ্যা এবং কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা এখন ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ ভোজের উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, এর নেপথ্যের উদ্যোগ কার, সেই প্রশ্নেই মুখোমুখি অবস্থানে গেছে চাকসু ও ছাত্রদল।
ঈদ ভোজের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান খবরের কাগজকে বলেন, ‘চাকসু ও ছাত্রদল উভয় পক্ষই খুশি থাকুক, সেটিই আমরা চাই। শিক্ষার্থীদের আনন্দের কথা বিবেচনায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ আয়োজন করেছে। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে যাক।’
অমিয়/