ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অরণ্যের অন্ত্যজ কথা বরিশালে গ্রেপ্তার এড়াতে ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতার মৃত্যু ইরান ম্যাচে বেলজিয়ামের মূল ফোকাস নিজেদের খেলায়: গার্সিয়া কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন সামাজিক অস্থিরতায় মানবতা হত্যা: প্রতিকার কোথায়? জার্মানির জয়ের নায়ক কে এই ডেনিজ উন্দাভ? অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ বাংলাদেশে সমৃদ্ধি ও বঞ্চনার পাহাড় গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা স্বাগতিকদের সিরিজ পরাজয়ে গ্যালারিতে দর্শক ফাঁকা কেন মন্টেরি স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা? মৌয়ের জন্মদিনে বাবার গানে আবেগঘন উপহার বিপ্লব সাহার প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার জাপানের কাছে হারের পর যা বললেন তিউনিসিয়া কোচ বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার ইস্টার্ন ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন নেওয়া শুরু উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন

টিকার অভাবে বাড়ছে হামের প্রকোপ

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
টিকার অভাবে বাড়ছে হামের প্রকোপ
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ৯ মাস বয়সের আগে শিশুদের সাধারণত হামে আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়, কারণ এ সময় পর্যন্ত তারা মাতৃগর্ভ থেকে পাওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতার সুরক্ষায় থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ৯ মাসের আগেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে, এমনকি বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও।

তবে এত অল্প বয়সী শিশুরা কেন আক্রান্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদিও এ ধরনের কোনো গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবে শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ‘দলগত ভাবে’ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্তত ছয় মাস বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বজায় রাখা প্রয়োজন। কমে গেলে ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রমে নিয়ে আসা যেতে পারে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। বেসরকারি হাসপাতালসহ জেলা পর্যায়ের সার্বিক তথ্য বিবেচনায় এ সংখ্যা ৪৬ বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুদের অনেকের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সংক্রমণও ছিল। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৮৪ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে কয়েক হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, ময়মনসিংহ-সহ বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার, রাজশাহীতে তিন ও পাবনায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজ মোবারক সাংবাদিকদের জানান, এবার ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা সচরাচর ঘটে না। মায়েদের টিকা নেওয়া না থাকলে বা শিশুর সঠিক সময়ে টিকা না দিলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। 

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত সোমবার জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত সুপারিশের বাইরে গিয়ে ছয় মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে সরকার। 

সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুন মাসের শুরুতে মাসব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হতে পারে। এতে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ডোজ দেওয়ার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হতে পারে, তবে এটি শুধুমাত্র এই বিশেষ কর্মসূচির জন্য প্রযোজ্য হবে। যদিও কম বয়সে টিকা দেওয়ার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হামের বিস্তারের পেছনে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত ও সময়মতো অপারেশন প্ল্যানিং বা ওপি না করাকে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ইপিআইয়ের পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, গত বছর নানা কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি তিনবার ব্যাহত হয়েছিল। ভিটামিন-এ এবং কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোর কর্মসূচি নিয়মিত না হওয়ায় শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে। এটিও হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হামের টিকার মজুত প্রায় শেষের দিকে এবং মাঠপর্যায়ে মাত্র এক মাসের সরবরাহ রয়েছে। তবে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় টিকা ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৬০৪ কোটি টাকার টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিল মাস থেকেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের এই অস্বাভাবিক সংক্রমণের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা এবং শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। দেশে হাম এখন মহামারি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। 

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকলে হাম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু গত বছর টিকাদান কার্যক্রম ও ‘ওপি’র মতো বিশেষ কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে। এর ফলে শিশুদের শরীরে হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় সমষ্টিগতভাবে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, মায়েদের সচেতন হতে হবে বেশি। যত বেশি শিশুকে একসঙ্গে টিকার আওতায় আনা যাবে, তত দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে আবার নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ফিরে আসা যেতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু
ছবি: মাসুদ মিলন

হামের উপসর্গে নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩ শিশু হাসপাতালে এসেছে।

রবিবার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার এক জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১ জন।

আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৫৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭২ হাজার ৮৪৯ জন।

রিফাত/

প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অনুমোদন পেয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি আবেদনকারী। ইসির প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি নিবন্ধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। অন্যদিকে তদন্তে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনও আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৯টি এনআইডি স্মার্টকার্ড প্রিন্টের উপযোগী হয়েছে। এছাড়া ২২ হাজার ১৮টি স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনে পাঠানো হয়েছে।

দেশভিত্তিক আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩০ জন প্রবাসী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি এবং ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি।

এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যার সংখ্যা মাত্র ১২৬।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব স্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসীরা আবেদন, বায়োমেট্রিক প্রদান এবং এনআইডি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। স্টেশনগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।

প্রবাসীদের ভোটার হতে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়।

এলিস/রিফাত/

বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর অধীনে আয়োজিত বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদ লাইব্রেরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের আহ্বান জানান।’

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এমপি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ এবং জনগণ এর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যভিত্তিক সংসদ গঠনে বাজেট ডিব্রিফিং সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপরা, আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এলিস/রিফাত/

সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার
মো. সারওয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ড’ নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে যা বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি আজই জারি করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ নেই।

মো. সারওয়ার আলম সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথমদিকে তার কিছু কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হলেও তার কথার সাথে কাজের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাদাপাথর লুটের ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তিনি সাদাপাথর লুটের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত করতে পারেননি।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজও তিনি এগোতে পারেননি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেছিলেন, ২/৩ মাসের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে। এই আশ্বাসের প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কের এক চতুর্থাংশ জমিও অধিগ্রহণ করা হয়নি।

এরপর গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পের পর বলেছিলেন, নগরের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সব ভবন ভেঙে ফেলা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ফুটপাত থেকে হকার সরানোসহ আরও কিছু কর্মকাণ্ড আছে।

তবে সম্প্রতি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকার স্বচ্ছতা আনার নামে মাজারের তিনটি ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করান।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করানো হয় এবং ডেগের পাশে আনসার সদস্যও নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান। এতেই জনগনের তোপের মুখে পড়েন মো. সারওয়ার আলম। এই ঘটনার তিনদিনের মাথায় প্রত্যাহার হন ডিসি মো. সারওয়ার আলম।

শাকিলা ববি/তামান্না রুপা

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন , মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। এতে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। এ সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে তিনি ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

আমান/