গণতন্ত্র মূলত পারস্পরিক আস্থার ওপর নির্ভরশীল। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হলেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলকে বিশ্বাস করব, বিরোধী দলও আমাদের বিশ্বাস করবে গণতন্ত্র এভাবেই এগিয়ে যাবে।’
রবিবার (১২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও মাহমুদুল হক রুবেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ জানান, শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হবে বা প্রয়োজনে তাকে অবহিত করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাই সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ‘মানুষের স্বার্থে সরকার জ্বালানি খাতে আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই অর্থ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চায়।’
ব্রিফিংয়ে তিনি সংসদে বিরোধী দলের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘শেরপুরে নির্বাচন চলাকালে এক বিরোধী দলীয় সদস্য দাবি করেছিলেন যে জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। কিন্তু পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি জীবিত আছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি পরবর্তী অধিবেশনে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করবেন বলেও জানান।’
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশে সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং বাকি ১১৭টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে পাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচ দিনে ১১৭টি বিল পাস হওয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দলের ওয়াকআউট গণতন্ত্রেরই একটি অংশ এবং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে সামান্য সংশোধনী ইস্যুতে ওয়াকআউট করায় সরকার দুঃখ পেয়েছে।’
জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এ সব ঐতিহাসিক ঘটনাকে একত্র করে একটি সমৃদ্ধ ‘জুলাই জাদুঘর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি জাদুঘর নয়, বরং জীবন্ত ইতিহাসের প্রতিফলন হবে। এজন্য মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততা থাকলে কাজের গতি বাড়বে।’
এলিস/রিফাত/