ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রবাসীকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার তার ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের অধিকার সুরক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্বোধনী দিনে টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৫০০ কৃষকের হাতে সরাসরি এই কার্ড তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতি কার্ডধারী কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার, উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা ও কীটনাশক সুলভমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ পেতে কৃষি বিমা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণও এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে। মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। কর্মসূচির পরিধি শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি খামারিদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ প্রয়োজনীয় কৃষি তথ্য সরবরাহ করা হবে।
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন জানান, এটি মূলত সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনার একটি অংশ। এর আগে নারীদের ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও রিকশা শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের উন্নয়নের মধ্য দিয়েই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।