ঠাকুরগাঁওয়ে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতায় শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এ অঞ্চল পরিদর্শন করে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা যাচাই করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের শহিদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম-এ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগে আয়োজিত স্কুলব্যাগ ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩০৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলব্যাগ ও বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রদূত আমার একজন ব্যক্তিগত বন্ধু। ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য আমি তাকে এখানে আসার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনি কথা দিয়েছেন, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে চীনা প্রতিনিধিদের একটি দল এখানে পাঠাবেন। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
চীনের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না। চীন নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে চীন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র। তারা শুধু নিজেদের উন্নয়নই করেনি, জনগণের কল্যাণও নিশ্চিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তবে উন্নয়নের জন্য নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।’
অভিভাবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলবেন, যেন তারা বড় হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হয়। আমাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে, তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের উন্নয়ন ও শিক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।’ তিনি শিক্ষকদেরও শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নতুন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি মেডিকেল কলেজের অনুমোদনও পাওয়া গেছে, যার কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করছি।’
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন সবসময় পাশে থাকবে।’
তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই একটি বিশেষ চীনা প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও সফর করে শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করবে।
এ সময় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে চীনা রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। পরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর আহ্বানে শিক্ষার্থীরা ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ লং লিভ’স্লোগান দেয়।
নবীন হাসান/রিফাত/