বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে ইউরোপীয় নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত এ যুদ্ধ কত দ্রুত বন্ধ করা যায়। এ যুদ্ধের অভিঘাত সরাসরি ইউরোপ এবং তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর ওপর পড়বে। কারণ জ্বালানির অভাব এ দুই শ্রেণির রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতি করতে বাধ্য। বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে এখন থেকেই সরকারকে উঠে পড়ে লাগতে হবে। বর্তমান এই যুদ্ধ বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে।...

স্যার হেলফোর্ড মেকেন্ডার (১৮৬১-১৯৪৭) ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিশ্ববিখ্যাত ভৌগোলিক এবং শিক্ষাবিদ। তিনি হলেন ভূরাজনীতি (Geo-Politics) শিক্ষার প্রতিষ্ঠাতা। ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন তার প্রদত্ত বিখ্যাত হার্টল্যান্ড তত্ত্বের (Heartland Theory) জন্য। ১৯০৪ সালে প্রস্তাবিত এই ভূরাজনৈতিক মতবাদ বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যে কত সত্য প্রমাণিত হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অধুনা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই হার্টল্যান্ড তত্ত্বের পুনর্বিবেচনা অত্যন্ত জরুরি।
সহজ বাংলায় হার্টল্যান্ড তত্ত্বের দুটি পূর্বানুমান এবং একটি উপসংহার ছিল, যেভাবে যুক্তিবিদ্যায় আমরা প্রাক্কলিত বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে উপসংহারে উপনীত হই। মেকেন্ডার তার হার্টল্যান্ড তত্ত্বটি এভাবে উপস্থাপন করেছিলেন:
‘যে পূর্ব ইউরোপ নিয়ন্ত্রণ করবে, সে মূল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে,
যে মূল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে, সে বিশ্বদ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করবে;
যে বিশ্বদ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করবে, সে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করবে।’
মেকেন্ডার মূল ভূখণ্ড বলতে মূলত: পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়া-ইউরেশিয়াকে বুঝিয়েছিলেন। বিশ্বদ্বীপ বলতে ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকাকে অভিহিত করেছিলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, স্থলশক্তি নৌশক্তির চেয়ে ভবিষ্যতে বেশি শক্তিশালী হতে পারে, কারণ পরাশক্তিগুলোর মূল লক্ষ্য হবে সম্পদ আহরণের জন্য দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর ভূমি দখল করা। এ ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ভূকৌশল (Geo-Strategy)। সহজ কথায়, কীভাবে একটি রাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক চাল কাজে লাগিয়ে তার ভৌগলিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে, তার কৌশলগত পরিকল্পনা হলো ভূকৌশল। ভূকৌশল মূলত বৃহৎ শক্তিগুলোর আন্তর্জাতিক রাজনীতির অপরিহার্য মূলনীতি। ভূকৌশল ব্যতীত যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ভারত আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থায় তাদের প্রাধান্য বজায় রাখতে সক্ষম হবে না। তাই প্রতিটি রাষ্ট্রের একটি ভূকৌশল রয়েছে, যার অভিঘাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর এক ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জস্বরূপ।
মেকেন্ডার যে পূর্ব ইউরোপকে কল্পনা করে তার মূল খণ্ড চিত্রয়ায়িত করেছিলেন, উত্তর-স্নায়ুযুদ্ধ (Post-Cold War) যুগে, তার বাস্তব সংস্করণ হলো পশ্চিম এশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্য। পূর্ব ইউরোপের ভৌগলিক অর্থপূর্ণ তাৎপর্য প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্যদিয়ে ১৯৮৯ সালে হয়েছিল। ১৯৮৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের সময়কে আমরা এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। ধীরে ধীরে বিশ্বে চীন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে লাগল। অন্যদিকে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তার অপ্রতিদ্বন্দ্বী উত্থান সূচনা করল। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদান করে ইউরোপকে একটি মহাদেশীয় শক্তিতে পরিণত করতে সচেষ্ট হলো এবং এর নেতৃত্বে রয়েছে প্রধাণত ফ্রান্স এবং জার্মানি। বর্তমান এ সময়টিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বহুকেন্দ্রিক বিশ্ব বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কারণ তারা কোনো একটি পরাশক্তির বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতাকে অস্বীকার করেন। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে বাস্তবতা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের পরাশক্তি বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনকে সাহস জুগিয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভিন্ন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে ঔদ্বত্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত একপক্ষীয়ভাবে গ্রহণ করতে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য দেশগুলোর ওপর একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ, যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক তুলনামূলক সুবিধা অর্জন নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর প্রভাব খাটিয়ে অন্য রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা কিংবা সামরিক শক্তি ব্যবহার করে উসকানি ব্যতীত অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঢুকে রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি করা- এসবই পরাশক্তির এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা কায়েম করার পূর্বাভাস মাত্র।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য হলো সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু (Flash Point)। মধ্যপ্রাচ্যে ১৭টি দেশ রয়েছে। তারা হলো বাহরাইন, সাইপ্রাস, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, পেলেস্টাইন, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুর্কি, যুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়ামেন। সাইপ্রাস ব্যতীত প্রত্যেকটি দেশই মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম রাষ্ট্র। ইসলাম, খ্রিষ্টান এবং ইহুদি এই তিনটি ধর্মের পাদপীট জেরুজালেমও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত। মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে ধর্মীয় যুদ্ধ ক্রসেডের লীলাভূমি হলো এই মধ্যপ্রাচ্য। মুসলমানদের বড় দুটি ধর্মীয় গোষ্ঠী- শিয়া ও সুন্নিও এ অঞ্চলে অবস্থিত। ভেনেজুয়েলার পরে মধ্যপ্রাচ্য হচ্ছে খনিজ তৈল উৎপাদনের বিশ্বসেরা অঞ্চল; তার মধ্যে সৌদি আরব রয়েছে সর্বোচ্চ অবস্থানে এবং এর পরেই ইরানের অবস্থান।
অতএব, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বড় বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর একটা দৃষ্টি থাকা স্বাভাবিক। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো শিয়া এবং সুন্নিদের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপস্থিতিকে সুদৃঢ় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি সামরিক ঘাঁটি বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং যুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন রয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কেবলমাত্র ইরান ব্যতীত, তাদের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ওপর ন্যস্ত করে রেখেছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস না থাকার কারণেই মধ্য প্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তার এ করুণ পরিস্থিতি।
ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণ হলো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো রাশিয়াকে তাদের সাধারণ শত্রু হিসেবে গণ্য করে এবং রাশিয়ার বিশাল শক্তির মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শরণাপন্ন হয়। এখন প্রশ্ন হলো, মধ্যপ্রাচ্যে এমন শক্তিশালী রাষ্ট্র কে, যার ভয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্দিহান। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, এ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত শত্রু কে হতে পারে। স্বভাবত উত্তর পাই ইসরায়েল। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতি রাজকীয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক দেখে মোটেই তা মনে হয় না। এদের ভয়ের কারণ ইসরায়েল নয়, ইরান। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র যারা বর্তমানে পেলেস্টাইনের পক্ষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ইরানের পক্ষে হামাস এবং হিজবুল্লাহ ফিলিস্তিনিদের সহযোগিতা করে আসছে। অক্টোবর ২০২৩ হতে গাজা এবং পশ্চিম তীরে ইহুদিদের হাতে প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু ঘটেছে, যার অধিকাংশই হলো শিশু এবং মহিলা। গণহত্যার এ ধরনের নগ্ন আগ্রাসন সাম্প্রতিক ইতিহাসে নেই। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ব্যতীত কোনো মুসলিম রাষ্ট্রই ক্ষমতাধর ইসরায়েলের মুখোমুখী হতে রাজি নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হলো ইসরায়েল এবং রাজকীয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মিত্র। এতে প্রমাণিত হয় যে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিনি সৈন্যের উপস্থিতি ইরানের ওপরই একমাত্র হুমকি হিসবে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক খেলায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মুসলমান রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের দাঁড় করিয়ে তাদের যৌথ সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রথমে ইরাক, পরে লিবিয়া এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ইরাক, লিবিয়া এবং সিরিয়া ব্যর্থ রাষ্ট্রে পতিত হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইরানের ওপর যৌথ ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সরকার পরিবর্তনের (Regime Change) কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এবারের আক্রমণ সম্পূর্ণ এক ভিন্ন যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছে। একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলসহ তাদের মুসলিম মিত্র দেশগুলো। ইরান আক্রমণ চালিয়েছে কাতার, বাহরাইন, যুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের ওপর। লক্ষ্য- এসব দেশে নিয়োজিত সামরিক ঘাঁটি। ইরানের এ ব্যতিক্রমধর্মী ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য এ যুদ্ধকে এক ভিন্ন মাত্রায় উপনীত করেছে।
বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ কতদিন চলবে, নিশ্চিত করে বলাটা কঠিন। কিন্তু কোন যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরর্থক প্রমাণিত হয়। প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিশ্বাস ছিল যে, ইউক্রেনের যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। আজ প্রায় চার বছর হতে চলল এ যুদ্ধের, এরই মধ্যে সামরিক এবং বেসামরিক মৃত্যু সংখ্যা আমেরিকার প্রসিদ্ধ রাজনীতিবিদ, নেতা ক্রফডের গবেষণা অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ছিল ৩ লাখ ২৩ হাজার। এখানে উল্লেখ্য যে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের মেয়াদকাল ছিল প্রায় ১৩ বছর। সেখানে কেবলমাত্র আমেরিকান সৈন্য মৃত্যুবরণ করেছিল ৫৮ হাজার ২০০ জন এবং ভিয়েতনামের সামরিক এবং বেসামরিক নিহত সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯ লাখ। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোরূপ ফলপ্রসূ ভূরাজনৈতিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সফল করেনি। এতে প্রমাণিত হয় যে, শত্রুপক্ষ যদি জাতীগতভাবে একতাবদ্ধ থাকে, তাহলে সে সামরিকভাবে দুর্বল হলেও তাকে পরাস্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ভিয়েতনাম এবং ইউক্রেনের ক্ষেত্রে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। বিশ বছর নিরলস ধৈর্য এবং অটলতার মধ্যদিয়ে তালেবানরা প্রমাণিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মত পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে ক্ষমতায় ফিরে আসা যায়। আফগানিস্তানে তালেবান পরিবর্তন কৌশল সক্ষম হয়নি, ইরানের ক্ষেত্রে সক্ষম হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা দুষ্কর।
অতএব, বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে ইউরোপীয় নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত এ যুদ্ধ কত দ্রুত বন্ধ করা যায়। এ যুদ্ধের অভিঘাত সরাসরি ইউরোপ এবং তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর ওপর পড়বে। কারণ জ্বালানির অভাব এ দুই শ্রেণির রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ক্ষতি করতে বাধ্য।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে এখন থেকেই সরকারকে উঠে পড়ে লাগতে হবে। বর্তমান এই যুদ্ধ বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে। অথছ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করতে পারিনি। মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চিত্র অনুধাবনের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ প্রতিষ্ঠানটি যে কত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে বোঝার অপেক্ষা রাখে না।
লেখক: ডিস্টিংগুইস্ড এক্সপার্ট, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত
.jpg)
