চট্টগ্রামে তিনটি আসনে আট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকি। তার দাখিল করা মনোনয়নপত্রে ভোটারদের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ১০ জন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে নানা অনিয়মের কারণে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)-এর শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) এ কে এম আবু ইউসুফ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।
এদিকে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং নয়জন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পাশাপাশি তথ্য ঘাটতি পূরণের জন্য তিনজনকে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় এবং তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার, আহমদ কবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব।
জানা গেছে, জিন্নাত আক্তারের দাখিল করা এক শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়। এরমধ্যে আটজন স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। একইভাবে নিয়মানুযায়ী এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় আহমদ কবিরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ও হলফনামা দাখিল না করায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুবের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
তথ্য ঘাটতি পূরণের জন্য সময় পাওয়া প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ও মো. ওসমান আলী এবং গণ অধিকার পরিষদের রবিউল হাসান। বিএসপি প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদকে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। একই আসনে একই দলের প্রার্থী মো. ওসমান আলী উপস্থিত না থাকলেও তথ্য ঘাটতি থাকায় তাকেও বিকেল ৪টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়। অপরদিকে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসানের সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় তা দাখিলের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির সরওয়ার আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী।
অপরদিকে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং পাঁচজন জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ও জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলাউদ্দিন।
এই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
তারা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ ছালাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা।
জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ ছালামের মনোনয়নপত্রে দলের একাংশের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষর ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নই বৈধ। ফলে রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা ঋণখেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক উল্লেখ করলেও গ্রিনকার্ড দাখিল করেননি। তার সর্বশেষ ভ্রমণের তথ্যসহ অন্যান্য নথি জমা দেওয়ার জন্য শুক্রবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ৪ জানুয়ারির পর চার দিনের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।
রিফাত/