দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের কারণে নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসেব প্রকাশ করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিজের দুটি ব্যাংক হিসাবে মোটের ওপর প্রায় ১০ লাখ টাকা জমা আছে দেখিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার বাবার ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তবে আসিফের বাবার যে ঋণ রয়েছে, সেটির সঙ্গে সমন্বয় করলে তিনি দেনায় রয়েছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীতে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানান আসিফ। সব মিলিয়ে তার ও পরিবারের মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ্য করে আসিফ মাহমুদ বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার পর থেকে নতুন করে প্রোপাগান্ডা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। মোট ৫৬ জনের হিসাব চাওয়া হলেও শুধু তার বিষয়টি আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এনসিপির এই নেতা বলেন, তদন্ত করতে চাইলে তারা করতেই পারে। কিন্তু একটি কনফিডেনশিয়াল চিঠির তথ্য সাংবাদিকদের গ্রুপে দিয়ে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে- স্যালারি, সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। সব মিলিয়ে সেখানে জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তার বাবা ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যার বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সব হিসাব সমন্বয় করলে তার বাবা দেনায় রয়েছেন। আসিফের মায়ের একটি হিসাবে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা। স্ত্রীর একটি হিসাবে রয়েছে ৬১৩ টাকা।
নিজের হিসাবের বিবরণ তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ জানান, ব্যক্তিগত দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। একটি সোনালী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহৃত স্যালারি অ্যাকাউন্ট। ওই হিসাবে জমা আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।
আসিফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বেতন ও ভাতা পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া পাঁচটি বিদেশ সফরের টিএ/ডিএ বাবদ কয়েক দফায় অর্থ এসেছে। সব মিলিয়ে ওই হিসাবে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ওই হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে জানান তিনি।
সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বাইরে অন্য কোনো উৎস থেকে এক টাকাও জমা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও রেকর্ড সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার ও দলের বিরুদ্ধে ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করছে। দুদকে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন ক্রিকেটারকে দেশে খেলতে না দেওয়ার কারণে দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সাবেক স্থানীয় সরকারের এই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা নেয়। মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সীমিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ই-জিপি পদ্ধতি স্বচ্ছ এবং যে কেউ চাইলে প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, হুমায়রা নূর প্রমুখ।
রাজু/এসএন