সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মারা গেছেন।
সোমবার (২৫ মে) ভোররাত ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনটি হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি।
অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপি এবং আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে তার ছেলে রাসেলসহ তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর তিনটি হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে কারাগারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই সময়ে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতাসহ মোট আটটি মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। মামলার পর তারা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্ত করা হবে এবং পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/