শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু পড়াশোনার চাপ, প্রযুক্তি আসক্তি, পারিবারিক অশান্তি, বৈষম্য ও সহিংসতার কারণে অনেক শিশু মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন মানসিক সমস্যার শিকার। বাংলাদেশেও এ হার প্রায় ১৬ শতাংশ। পারিবারিক কলহ, অভিভাবকের অনুপস্থিতি ও অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ শিশুদের নিরাপত্তাহীন করে তোলে। মোবাইল, ইন্টারনেট আসক্তি, সহপাঠীদের বুলিং, দরিদ্রতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জেনেটিক কারণও শিশুদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। উদ্বেগ, ভয়, অতি চঞ্চলতা, একাকিত্ব, ডিপ্রেশন, ফোবিয়া, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা, এমনকি আত্মঘাতী প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। এগুলো উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদে জটিল মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশে প্রতি ১ লাখে সাইকিয়াট্রিস্ট মাত্র শূন্য দশমিক ১৬ জন। স্বাস্থ্য বাজেটের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশেরও কম মানসিক স্বাস্থ্যে বরাদ্দ হয়। তাই পরিবারে ভালোবাসা ও শান্ত পরিবেশ, বিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা নিয়োগ, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও বাজেট বৃদ্ধি জরুরি।
শিশুর মানসিক সমস্যায় হোমিওপ্যাথি একটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। ইগ্নেশিয়া, কফিয়া ক্রুডা, ক্যালকেরিয়া ফসফোরিকা, স্ট্রামোনিয়াম ইত্যাদি ওষুধ শিশুর স্বভাব অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়। তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য উপেক্ষা মানে গোটা জাতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে শিশুদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]