২৪ অক্টোবর মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ওপরের বিষয়ে যা লিখেছেন তা নৈতিক ও আইনগত দিক থেকে সঠিক। তবে যার জমির পরিমাণ ১৮০০, ১২০০, ২০০০ বা ১১০০ বর্গফুট তিনি তার গৃহনির্মাণের সময় মাটি কেটে রাখবেন কোথায়। পাইলিং করবেন কী করে? ইট, বালু, রড, কাঠ, সিমেন্ট রাখবেন কোথায় এবং তার শ্রমিক রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ট্রাককর্মী, ছোটখাটো একজন প্রকৌশলী, ফিতা, কোদাল, খন্তা, শাবল, মোজাইক, বেসিন, পাইপ, হাতুড়ি এবং এখনকার প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি কোথায় রেখে কাজ করবেন ও করাবেন? চারদিকে দেয়াল তুলে নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রাখলে কর্মীদের চলাচল ও সামান্য ঘোরাফেরার স্থানই তো থাকে না। এগুলো ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণের ক্ষেত্রসমূহে প্রকট সমস্যা। ফলে তার মালামাল, মাটি ও কর্মী সামনের ও আশপাশের রাস্তা ও মানুষের মালিকানাধীন জমি এবং জনরাস্তায় রাখতেই হয়। ডেভেলপাররাও তুলনামূলক ছোট প্লটে এ কাজ করতে বাধ্য হয়। এতে মানুষের চলাচলে ও জীবন যাপনে নানা অসুবিধার সৃষ্টি করে সন্দেহ নেই। ঘর বানিয়েছি সাতজনের থাকার জন্য। কারণ জমিটাই সাতজনের জন্য ঠাসাঠাসি। অথচ থাকছি ২০ জনের ঘর করে। তেমনি ঢাকায় UNFPA-র মতে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মানুষ বসবাস করতে পারে। আমরা আছি প্রায় আড়াই কোটি। কাজেই সবকিছু উপচে অন্য মানুষের জমিতে পড়বেই। আবার যারা এভাবে কষ্টে আছেন তারাও তাদের গৃহ তৈরির সময় তাদের এলাকার মানুষের ও পথচারীদের একইভাবে নির্মাণসামগ্রী অন্যের সম্পত্তি ও জনপথে রেখে কষ্ট দিয়েছেন। সবকিছুরই একটি সর্বোচ্চ বহনক্ষমতা আছে। কেবল জনসংখ্যার প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে আমরা সেই বহনক্ষমতার অনেক বেশি বহন করতে বাধ্য হচ্ছি। এক সন্তানবিশিষ্ট পরিবার গঠন ছাড়া মানুষের এ কষ্ট দূর করা এক অলীক কল্পনা।
মাসুদ আহমেদ
কথাসাহিত্যিক ও প্রজাতন্ত্রের সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল