ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

জাহান্নামের সংখ্যা কতটি, কোন স্তরে কাদের রাখা হবে?

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৩৪ পিএম
আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৪, ১১:০৬ পিএম
জাহান্নামের সংখ্যা কতটি, কোন স্তরে কাদের রাখা হবে?
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত জাহান্নামের প্রতীকী ছবি।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘জাহান্নামের সাতটি দরজা (স্তর) রয়েছে। প্রত্যেকটি দরজার বা স্তরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দল নির্ধারিত।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৪)

জাহান্নামের বিভিন্ন স্তর রয়েছে এবং প্রত্যেক স্তরের জন্য আলাদা আলাদা দলের জন্য আলাদা শাস্তির ব্যবস্থা নির্ধারিত রয়েছে। সবাইকে এক স্তরে রেখে একই মাত্রা বা পরিমাণের শাস্তি দেওয়া হবে না। অপরাধীর অপরাধ অনুপাতে আলাদা আলাদা স্তরে আলাদা আলাদা শাস্তির ব্যবস্থাসম্পন্ন একটি শাস্তিঘরের নাম জাহান্নাম। (জান্নাত-জাহান্নাম, শাইখ ড. উমার সুলাইমান, অনুবাদ : মাওলানা আকরাম হুসাইন, সমকালীন প্রকাশন, পৃষ্ঠা : ২১২)

 

কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় জান্নাতের বিভিন্ন স্তর বোঝাতে ‘লিল-জান্নাতি দারাজাতুন’ অর্থাৎ জান্নাতের বিভিন্ন স্তর এবং জাহান্নামের বিভিন্ন স্তর বোঝাতে ‘লিন-নারি দারাকাতুন’ অর্থাৎ জাহান্নামের বিভিন্ন স্তর ব্যবহৃত হয়েছে। আগুন বা জাহান্নামের স্তর যত নিম্নমুখী, তার উত্তাপ ও শাস্তি তত ভয়াবহ। (আত-তাজকিয়া, আল্লামা কুরতুবি, পৃষ্ঠা : ৩৮২) আব্দুর রহমান ইবনে জায়িদ ইবনে আসলাম (রহ.) বলেন, ‘জান্নাতের স্তরগুলো উর্ধ্বমুখী আর জাহান্নামের স্তরগুলো নিম্নমুখী। (আত-তাখওয়াইফ মিনান্নার, ইবনে রজব, পৃষ্ঠা : ৫)

 

জাহান্নামের স্তরগুলো হলো

১. জাহান্নাম : জাহান্নামের প্রথম স্তরের নাম হলো জাহান্নাম। অনেকে একে ‘নার’ বলেও অভিহিত করেছেন। জাহান্নামের এ স্তরে গুনাহগার মুমিনদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই জাহান্নাম গোপন ফাঁদ।’ (সুরা নাবা, আয়াত : ২১-২২)

 

২. লাজা : জাহান্নামের দ্বিতীয় স্তরের নাম লাজা। অর্থ লেলিহান আগুন। জাহান্নামের এ স্তরে ইহুদিদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘সেটা আগুন। যারা কুফুরি করে, আল্লাহ তাদের এর ওয়াদা করেছেন।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭২) 

 

৩. হুতামা : জাহান্নামের তৃতীয় স্তরের নাম হলো হুতামা। অর্থ প্রজ্বলিত আগুন। জাহান্নামের এ স্তরে খ্রিস্টানদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘কখনও নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়।’ (সুরা হুমাজাহ, আয়াত : ৪)

 

৪. সাইর : জাহান্নামের চতুর্থ স্তরের নাম সাইর। অর্থ জ্বলন্ত আগুন। জাহান্নামের এ স্তরে ভূত-পেত ও চন্দ্র-তরকা পূজাকারীদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘একদল থাকবে জান্নাতে আরেকদল থাকবে সাইর বা জ্বলন্ত আগুনে।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত : ৭)

 

৫. সাকার : জাহান্নামের পঞ্চম স্তরের নাম সাকার। অর্থ ঝলসে দেওয়া আগুন। জাহান্নামের এ স্তরে অগ্নিপূজকদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘কিসে তোমাদের জানাবে সাকার বা ঝলসে দেওয়া আগুন কী? (এটা এমন আগুন) যা অবশিষ্টও রাখবে না আবার ছেড়েও দিবে না।’ (সুরা মুদ্দচ্ছির, আয়াত : ২৭-২৮)

 

৬. জাহিম : জাহান্নামের ষষ্ঠ স্তরের নাম জাহিম। অর্থ কঠিন অগ্নিদাহ। জাহান্নামের এ স্তরে মুশরিকদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘আর জাহিম বা জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়।’ (সুরা নাজিয়াত, আয়াত : ৩৬)

 

৭. হাবিয়া : জাহান্নামের সপ্তম স্তরের নাম হাবিয়া। অর্থ গভীর বা পাতাল। এটা সর্বনিম্ন ও সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাহান্নাম। জাহান্নামের এ স্তরে মুনাফিকদের রাখা হবে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার আবাস হবে হাবিয়া। আর তোমাকে কিসে জানাবে হাবিয়া কী? তা প্রজ্বলিত অগ্নি।’ (সুরা কারিয়াহ, আয়াত : ৮-১১)

 

এ ছাড়া বিভিন্ন বর্ণনায় আরও কিছু জাহান্নামের নাম পাওয়া যায়। অনেক স্কলার বলেছেন, এগুলো জাহান্নামের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন ঘাটি।

 

ক. দারুল বাওয়ার : ধ্বংসের ঘর। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘তুমি কি তাদের দেখো না, যারা আল্লাহর নিয়ামতকে কুফরি দ্বারা পরিবর্তন করেছে এবং তাদের কওমকে ধ্বংসের ঘরে নামিয়ে দিয়েছে? তারা জাহান্নামে দগ্ধ হবে, আর তা কতই না নিকৃষ্ট অবস্থান।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ২৮, ২৯) আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, দারুল বাওয়ার হলো জাহান্নাম।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/৫৩৯)

 

খ. গাছ্ছাক : একটি হ্রদ। জাহান্নামিদের রক্ত, ঘাম ও পুঁজ প্রবাহিত হয়ে সেখানে জমা হবে।

 

গ. গিছলিন : জাহান্নামিদের মলমূত্র জমা হওয়ার স্থান।

 

জাহান্নামিরা যখন খুব ক্ষুধা-তৃষ্ণা অনুভব করবে তখন গাছছাক ও গিছলিন থেকে তাদের পান করতে দেয়া হবে।

 

ঘ. তীনাতুল খাবাল : বিষ ও পুঁজে পরিপূর্ণ একটি কুপ

 

ঙ. সাউদ : তীনাতুল খাবালের পাড়ে অবস্থিত একটি বিশাল পাহাড়। এক শ্রেণির জাহান্নামিদের এই পাহাড়ের ওপর উঠিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলা দেওয়া হবে, আবার উঠানো হবে এবং আবার ফেলা দেওয়া হবে। এভাবে শাস্তি দেয়া হবে। (সুরা মুদ্দচ্ছির, আয়াত : ১৭)

 

চ. জুববুল হুজন : এখানে অহংকারী লোকদের শাস্তি দেয়া হবে।

 

ছ. গাই : জাহান্নামের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা। এর ভীতিজনক হুঙ্কার শোনার পর জাহান্নামের অন্যান্য স্থান প্রতিদিন গাই’ থেকে ৪০০ বার আশ্রয় চায়। (জান্নাত-জাহান্নাম, শাইখ ড. উমার সুলাইমান, অনুবাদ : মাওলানা আকরাম হুসাইন, সমকালীন প্রকাশন, পৃষ্ঠা : ২১৫)

 

লেখক : আলেম ও গবেষক

কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?
ছবি: সংগৃহীত

সুরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহতায়ালা সেই দোয়ার উত্তর দিয়েছেন, যা সুরা ফতিহার শেষ অংশে প্রার্থনা করা রয়েছে। এরশাদ হয়েছে: এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আয়াতের শুরুতে জালিকা (সেটি) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত দূরবর্তী বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অথচ কোরআন আমাদের সামনেই রয়েছে। এখানে দূরবর্তী ইশারা ব্যবহারের রহস্য হলো–এই কিতাবটি আমাদের সেই প্রার্থিত ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’-এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা।

আল্লাহ যেন আমাদের বলছেন, তোমরা যে হেদায়েত চেয়েছিলে, এই সেই উজ্জ্বল সূর্যসম কিতাব; যার জ্ঞান ও গাম্ভীর্য সাধারণের নাগালের অনেক ঊর্ধ্বে। এতে কোনো সন্দেহ নেই–এই ঘোষণাটি এক অকাট্য সত্য। কারও বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে মনে সংশয় জাগতে পারে, কিন্তু কিতাবের সত্যতায় বিন্দুমাত্র খামতি নেই।

পবিত্র কোরআন যদিও গোটা মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক, তবুও আয়াতে বলা হয়েছে এটি ‘মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত’। এর কারণ হলো, হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এক স্তর সবার জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু পরকালীন মুক্তি ও আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের যে উচ্চতর স্তর, তা কেবল তারাই পায় যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে। হেদায়েত কেবল তথ্যের নাম নয়, বরং তা আমলের বিষয়। তাই যারা সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখে (মুত্তাকি), কোরআন তাদের জীবনকেই আমূল বদলে দেয়।

আল্লাহতায়ালা মুত্তাকিদের বিশেষ তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলের মূল ভিত্তি:

আল্লাহ, ফেরেশতা, পরকাল ও জান্নাত-জাহান্নাম–যা আমরা চর্মচক্ষে দেখি না, কিন্তু আল্লাহর বাণীর ওপর ভিত্তি করে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। এটিই ঈমানের আসল পরীক্ষা।

কেবল নামাজ পড়াই নয়, বরং নামাজের নিয়মকানুন ও একাগ্রতা বজায় রেখে তা জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।

আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে খরচ করা। এটি মানুষের মনে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

যাদের মধ্যে এই গুণগুলো বিদ্যমান, তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা হলো: তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। অর্থাৎ প্রকৃত সফলতা কেবল জাগতিক অর্থ বা ক্ষমতায় নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া পথে অবিচল থেকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার মধ্যেই নিহিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিধান পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?
ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের প্রধান শর্ত হলো পবিত্রতা গোসল হলো শরীরকে পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র করার একটি মাধ্যম তবে অনেক সময় মুসল্লিদের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে যদি কেউ একান্ত ব্যক্তিগত স্থানে (যেমন- বাথরুমে) সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে গোসল করেন, তবে কি সেই গোসলের মাধ্যমে ওজু সম্পন্ন হবে? নাকি নামাজের জন্য তাকে পুনরায় নতুন করে ওজু করতে হবে? ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর একটি সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে

ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, সতর বা শরীর উন্মুক্ত থাকা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক নয় অর্থাৎ, নির্জনে বা গোসলখানায় কেউ যদি কাপড় ছাড়া গোসল করেন, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে এবং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে পবিত্র বলে গণ্য হবেন

বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (/৩৬৩) এবং ফাতাওয়া সিরাজিয়া (পৃষ্ঠা: ৭৩)- উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোসলের স্থানে প্রয়োজনবশত কাপড় সরানো বা বিবস্ত্র হওয়ায় কোনো বাধা নেই সুতরাং কেউ যদি ফরজ বা সাধারণ গোসল সম্পন্ন করেন, তবে সেই গোসলের মাধ্যমেই তার ওজু সম্পন্ন হয়ে যায়

গোসল শেষ করার পর নামাজের জন্য আলাদাভাবে ওজু করা বাধ্যতামূলক নয় কারণ, গোসলের সময় ওজুর অঙ্গগুলো (মুখমণ্ডল, হাত, পা ইত্যাদি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধোয়া হয়ে যায় সতর খোলা থাকা ওজুকে বাতিল করে না সুতরাং গোসলের পর ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ (যেমন- বায়ু ত্যাগ বা অন্য কোনো কারণ) না ঘটলে ওই গোসল দিয়েই নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ সহিহ

যদিও বিবস্ত্র হয়ে গোসল করলে পবিত্রতা অর্জিত হয়, তবুও শরিয়তের আদব হলো নির্জনেও সতর ঢেকে রাখা বা অন্তত একটি লুঙ্গি বা গামছা ব্যবহার করা উত্তম তবে কেউ যদি একান্ত প্রয়োজনে কাপড় ছাড়াই গোসল করেন, তবে তার ইবাদতে কোনো ত্রুটি হবে না

দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত সহজ যুক্তিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি পৌঁছানো কাপড় থাকা বা না থাকা এখানে মুখ্য নয় তাই গোসলের পর নতুন করে ওজু না করলেও আপনার নামাজ অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে ইনশাআল্লাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে যেমন লুকিয়ে থাকে স্বর্ণ বা হীরার খনি, মানুষের ভেতরেও কি তেমন কোনো গোপন খনি রয়েছে যা কেবল সঠিক আলো পেলেই জ্বলে ওঠে?মানবচরিত্রের মনস্তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের এক অনন্য রূপরেখা এঁকেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনি মানুষকে তুলনা করেছেন খনির সাথে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ যেমন পরিশোধন করলে মূল্যবান হয়ে ওঠে, মানুষের সুপ্ত প্রতিভাও তেমনি দ্বীনি জ্ঞান সত্যের ছোঁয়ায় বিকশিত হয় ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে যারা নৈতিকভাবে উত্তম মর্যাদাবান ছিলেন, ইসলামের আলো পেয়ে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পর তারাই সমাজের সবচেয়ে খাঁটি শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন

তবে এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটে দুটি জায়গায়, নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং  জীবনযাপনের সততায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিভাষায়, শাসনক্ষমতা নেতৃত্বের পদের জন্য তারাই সবচেয়ে যোগ্য, যারা ক্ষমতার লোভ রাখে না, বরং এর গুরুদায়িত্বকে ভয় পায় এবং পদকে অপছন্দ করে আর সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হলোদু-মুখোবা সুবিধাবাদীরা, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী একেক দলের কাছে একেক রূপ ধারণ করে

চরিত্রের এই খাঁটিত্ব ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলোসত্যবাদিতা সত্য কেবল একটি গুণ নয়, এটি মানুষের ভেতরের খনিকে হীরার মতো উজ্জ্বল করার মাধ্যম নিয়মিত সত্য বলার অভ্যাস মানুষকে পুণ্যের পথে চালিত করে, আর পুণ্য তাকে পৌঁছে দেয় জান্নাতে এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে আল্লাহর দরবারে সেই ব্যক্তিসিদ্দীকতথা সত্যবাদী হিসেবে অমরত্ব পায়

বিপরীতে, মিথ্যার পথটি অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি ছোট মিথ্যা মানুষকে ক্রমান্বয়ে নির্লজ্জতা পাপাচারের অতলে তলিয়ে দেয়, যার অবধারিত পরিণতি হলো জাহান্নাম আর যে ব্যক্তি ক্রমাগত মিথ্যা বলতে থাকে, সে আল্লাহর খাতায়কাজজাবতথা মিথ্যাবাদী হিসেবে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়

এই দুটি হাদিসের মেলবন্ধন আমাদের শেখায় যে, নেতৃত্ব বা সামাজিক মর্যাদা কোনো বাহ্যিক অলংকার নয় ক্ষমতার লোভ বর্জন, দ্বিমুখী আচরণ পরিহার এবং কথার সততাই মানুষের ভেতরেরখনিজকেখাঁটি সোনায় রূপান্তর করে আল্লাহর দেওয়া খনিকে আমরা সত্য দিয়ে সাজাব নাকি মিথ্যা দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

শামায়েল সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের রঙের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা আজ কত গবেষণাই না করছেন! কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রঙের পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা রুচিবোধ পবিত্রতার চূড়ান্ত প্রতীক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন মার্জিত পোশাক পরতেন, তেমনই সাহাবিদের তথা গোটা মুসলিম উম্মাহকে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অনুসরণ অনুকরণের পাতায় রাখার মতো তাঁর সেই চমৎকার নির্দেশনা আপনাকেও ভাবাতে পারে

পোশাকের বহুবিধ রঙের ভিড়ে মহানবি (সা.) উম্মতের জন্য সাদা রংকে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন দেয় কেননা, সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৩২৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস: ৯৫৬৬)

রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাদা পোশাক কেবল জীবিতদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের শেষ বিদায়ের সম্বল কাফনের জন্যও এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ

সাদা রংকে কেন এত প্রাধান্য দেওয়া হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সাহাবি হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র উত্তম আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও (আল-মুজামুল কাবীর, হাদিস: ৯৬৪; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস: ২০২৭)

সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সামান্য ময়লা লাগলেও তা দ্রুত চোখে পড়ে ফলে পোশাকটি দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করার তাগিদ তৈরি হয় ইসলাম যেহেতু ‘পবিত্রতা’কে ঈমানের অঙ্গ করেছে, তাই সাদা পোশাক পরার মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো মানুষকে সব সময় বাহ্যিক অভ্যন্তরীণভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী নির্দেশনা আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা ফ্যাশন মানেই চটকদার জমকালো রঙের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া নয় বরং সরলতা, শুভ্রতা পরিচ্ছন্নতার মাঝেই লুকিয়ে আছে পোশাকের আসল সৌন্দর্য জীবিত অবস্থায় সাদা পোশাকের শুভ্রতা ধরে রাখা এবং মৃত্যুর পর সেই একই শুভ্রতায় আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার মাঝে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

.৫১ মিনিট

এশা

.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন