মক্কার মসজিদুল হারাম : হারামের সীমানা মক্কার চারপাশব্যাপী বিস্তৃত। তবে সব দিকের দূরত্ব এক সমান নয়। বর্তমানে মক্কা প্রবেশের সদর রোডে হারামের সীমারেখার একটি নির্দেশনা লাগানো আছে, যা নিম্নরূপ—
পশ্চিম দিকে জেদ্দার পথে ‘আশ-শুমাইসি’ নামক স্থান পর্যন্ত। যাকে ‘আল হুদায়বিয়া’ বলা হয়। এটি মক্কা থেকে ২২ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। দক্ষিণে ‘তিহামা’ হয়ে ইয়েমেন যাওয়ার পথে ‘ইজায়াত লিবন’ নামক স্থান পর্যন্ত, যা মক্কা থেকে ১২ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। পূর্বে ‘ওয়াদিয়ে উয়ায়না’ নামক স্থানের পশ্চিম কিনারা পর্যন্ত, যা মক্কা থেকে ১৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব দিকে ‘জি-ইরানা’ এর পথে। শারায়ে মুজাহেদিনের গ্রাম পর্যন্ত, যা মক্কা থেকে ১৬ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। উত্তরে ‘তানয়িম’ নামক স্থান পর্যন্ত। এটি মক্কা থেকে ৭ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। বর্তমানে এখানে একটি মসজিদ আছে, যা মসজিদে আয়েশা নামে বিখ্যাত।
মদিনার মসজিদে নববি : মদিনার নির্দিষ্ট একটি সীমা পর্যন্ত ‘হারাম’ বা বিশেষ সম্মানিত জায়গা। অনেকে শুধু মসজিদে নববির জায়গাটুকু হারাম মনে করে ভুল করে। মূলত এর বাইরেও বড় একটি অংশজুড়ে হারাম এলাকার বিস্তৃতি। বর্তমানে সময়ের ব্যবধানে ভূমির প্রসার ও বিস্তৃতির ফলে হারামের অংশ ছড়িয়ে অনেকটা দূর পর্যন্ত গেছে। তবে যে স্থান বর্তমানে হারাম সীমানার ভেতর আছে সেটিকে ‘হারাম’ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হারামের সীমা উল্লেখ করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আইর ও ছাওর পাহাড়দ্বয়ের মধ্যবতী স্থান মদিনার হারাম অংশ।’
বিশিষ্ট গবেষক ড. সালেহ বিন হামিদ রিফায়ি তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত হাদিস দ্বারা মদিনার চার দিক থেকেই হারাম সীমানা স্পষ্ট। দক্ষিণ থেকে এর সূচনা হয়েছে আইর পর্বত থেকে। এই পাহাড়টি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিক পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি পূর্ব দিক মসজিদে জুল হুলাইফা অর্থাৎ মদিনার মিকাত পর্যন্ত উঁচু। এটির পশ্চিম পার্শ্ব পূর্ব থেকে কুবা এলাকা পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। আর উত্তর দিকে রয়েছে ছাওর পর্বত। এটি উত্তরের একটি ছোট পাহাড়।
লেখক: সাবেক ইমাম, মসজিদ আত-তাওহিদ, মদিনা