ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তৃতীয়বার মা হচ্ছেন অ্যানি হ্যাথাওয়ে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই অদ্ভুত ঠোঁটের রহস্যময় শুবেল নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও, সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন জনাব মো. ফজলুর রহমান ব্রিটিশ ভারতের পথিকৃৎ নারী চিকিৎসক ডা. যামিনী সেন জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, আখাউড়া থানায় অভিযোগ নারীর সফল ক্যারিয়ারের ৬ টিপস রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল জাপান বদলির সাড়ে চার মাসেও দায়িত্বভার হস্তান্তরে গড়িমসি ইউএইচএফপিওর ইরাক ম্যাচের আগে ছোটখাটো পরিবর্তনের পথে ফ্রান্স শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী নিউমার্কেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ৪ শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন চলতি বছরেই: বিমানমন্ত্রী রূপগঞ্জে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস পালিত প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জার্মানদের ওপর চটেছেন আইভরি কোস্টের কোচ নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোচালক নিহত, সড়ক অবরোধ লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের বেফাঁস মন্তব্যে প্রত্যাহার কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে জাপান পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

মদিনার দর্শনীয় স্থান

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৯ এএম
মদিনার দর্শনীয় স্থান
মদিনা শহরে প্রবেশফটক। ইন্টারনেট

মসজিদে নববি

সৌদি আরবের মদিনা নবির (সা.) শহর। মদিনার প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে ‘মসজিদে নববি’। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্মাণ করেন। এখানে রওজায়ে আতহারসহ রয়েছে বাবে জিবরাইল, সবুজ গম্বুজ, আসহাবে সুফফা, দৃষ্টিনন্দন মিম্বার ও রিয়াজুল জান্নাহ।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা

মসজিদে নববিতে আয়েশা (রা.)-এর হুজরায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক অবস্থিত। মসজিদে নববির বাবুস সালাম গেট দিয়ে প্রবেশ করলে রওজা মোবারক। রওজার সামনে সোনালি গ্রিলের বেষ্টনী রয়েছে।

 

জান্নাতুল বাকি

মদিনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কবরস্থান জান্নাতুল বাকি। এটি মসজিদে নববির পূর্ব দিকে অবস্থিত।

 

মসজিদে কুবা

মসজিদে নববি থেকে প্রায় ৪ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে মসজিদে কুবা অবস্থিত। এটি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় গিয়ে সর্বপ্রথম এ মসজিদ নির্মাণ করেন।

 

মসজিদে কিবলাতাইন

মসজিদ আল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ মদিনায় অবস্থিত। নামাজ চলাকালে আল্লাহর নির্দেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদে কিবলা পরিবর্তন করেছিলেন।

 

ওহুদ পাহাড় ও প্রান্তর

মসজিদে নববির প্রায় পাঁচ কি.মি. উত্তরে ওহুদ পাহাড় অবস্থিত। ঐতিহাসিক এ পাহাড়ের পাদদেশে ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ পাহাড়ের কাছেই শুহাদায়ে উহুদ আরাম করছেন। 

 

মসজিদে জুমা

মসজিদে কুবা থেকে ৯০০ মিটার উত্তরে এবং মসজিদে নববির ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে মসজিদে জুমার অবস্থান। মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম এই স্থানে জুমার নামাজ আদায় করেন।

 

মসজিদে জিরার

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য মদিনার মুনাফিকরা মসজিদে কুবার কাছে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল। ইতিহাসে মসজিদটি ‘মসজিদে জিরার’ নামে পরিচিত। 

 

মসজিদে গামামা

মসজিদে নববির ৫০০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এই মসজিদটি অবস্থিত। রাসুল (সা.) ও তার সাহাবিরা এই স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। বৃষ্টির নামাজও পড়েছিলেন। 

 

মসজিদে আবু বকর

এটি মসজিদে গামামার কাছে অবস্থিত। আবু বকর (রা.)-এর সম্মানে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর শাসনামলে এটি নির্মাণ করা হয়।

 

মসজিদে আলি

এটি মসজিদে আবু বকরের কাছে অবস্থিত। আলি (রা.)-এর স্মরণে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর সময়ে এটি নির্মিত হয়।

 

মসজিদে বিলাল

বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর স্মরণে নির্মিত এই মসজিদ। মসজিদে নববির কাছে খানিকটা দক্ষিণ-পূর্বে এটি অবস্থিত।

 

খন্দকের যুদ্ধক্ষেত্র

পঞ্চম হিজরিতে আরবের সম্মিলিত মুশরিক বাহিনীর আক্রমণের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে মদিনার প্রতিরক্ষায় মদিনার উত্তর সীমান্তের উন্মুক্ত স্থানে খন্দক খনন করেন। বর্তমানে খন্দকের কোনো চিহ্ন না থাকলেও এখানে খন্দক যুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ সাতটি মসজিদ নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। 

 

ওয়াদিয়ে জিন

মদিনা থেকে ৩০-৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত একটি ঢালু উপত্যকা। মূলত কিছু অতিলৌকিক কারণে এই স্থানটি ভ্রমণার্থীদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। 

 

বিরে শিফা

মদিনার একটি দূষিত ও বিষাক্ত পানির কূপ ছিল বিরে শিফা। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে থুথু নিক্ষেপ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে এর পানি সুপেয় হয়ে যায়। 

 

বিরে উসমান

মদিনার অন্যতম সুপেয় পানির উৎস ছিল বিরে উসমান। শুরুতে এই কূপটি মদিনার এক ইহুদির মালিকানাধীন ছিল। পরে উসমান (রা.) এটি কিনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এখানে উমরাযাত্রীরা ভিড় করেন।  

 

বাদশাহ ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স

মদিনা শহরের তাবুক সড়কে বাদশাহ ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স। এখানে প্রতিবছর লাখো কপি কোরআন ছাপা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কোরআনের অর্থ ও তাফসির মুদ্রণ, ভিডিও, সিডি, ক্যাসেট প্রকাশ করা হয়। এখানে রয়েছে কোরআন গবেষণা কেন্দ্র ও পাঠাগার। প্রতি বছর লাখো কপি কোরআন ছাপা হয়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতরণ করা হয়। 

 

বদর প্রান্তর

মদিনা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর প্রান্তরের অবস্থান। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে অবিশ্বাসী বাহিনীর সঙ্গে ইসলামের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রথম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। আর শত্রু বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল ১ হাজার। এতে মুসলমানরা বিজয়ী হয়

 

বিরে গারস

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসিয়ত অনুযায়ী এই কূপের পানি দিয়ে ইন্তেকালের পরে গোসল দেওয়া হয়।

 

সানিয়াতুল ওয়াদা

রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় প্রবেশের সময় এখানে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানটি মসজিদে কুবার পাশে অবস্থিত।

 

জাবালে বারকান

কিয়ামতের আলামত হিসেবে এই পাহাড়ের ভেতর থেকে আগুন বের হবে। কুখ্যাত ইহুদি কাব বিন আশরাফের আবাসস্থল এটি।

 

কোরআন মিউজিয়াম

মসজিদে নববির দক্ষিণ পাশের ৫ নম্বর গেট সংলগ্ন ৩ এবং এবং ৪ নম্বর কার পার্কিংয়ের পেছনে কোরআন জাদুঘরের অবস্থান।  

 

লেখক: প্রধান নির্বাহী, আওয়ার ক্যানভাস

 

মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!
ছবি: সংগৃহীত

খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামল। ইয়েমেন থেকে প্রতিবার হজযাত্রী বা সাহায্যকারী দল মদিনায় এলে উমর (রা.) ভিড়ের ভেতর একজন মানুষকে খুঁজতেন। নাম তার উওয়াইস আল-কারনি। অপরিচিত, গরিব, সাধারণ এক রাখাল। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জীবনে একবারও দেখতে পাননি–কারণ ইয়েমেনে তার এক অসুস্থ বৃদ্ধা মা ছিলেন, যাকে ছেড়ে তিনি হিজরত করতে পারেননি। মায়ের সেবাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইবাদত।

অথচ এই অপরিচিত মানুষটি সম্পর্কেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আগেই বলে গিয়েছিলেন–ইয়েমেন থেকে উওয়াইস নামে এক ব্যক্তি আসবে, যে তার মায়ের প্রতি অত্যন্ত অনুগত; সে যদি আল্লাহর নামে কসম করে, আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করে দেন। নবিজি (সা.) বলেছিলেন, সম্ভব হলে তার কাছে নিজেদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া চেয়ে নিও। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলিম জাহানের খলিফা উমর (রা.) নিজে এই অখ্যাত যুবকের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, আমার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চেয়ো। (মুসলিম, ২৫৪২)

মানুষের জীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম, অপরিশোধ্য। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। (নির্দেশ এই যে) তুমি আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা লুকমান, ১৪)
লক্ষ করুন, আল্লাহ এখানে নিজের শুকরিয়ার পাশেই মা-বাবার শুকরিয়াকে যুক্ত করেছেন এবং মা সন্তানকে কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, কষ্ট সয়েই জন্ম দিয়েছে। এই কষ্টের কারণেই মায়ের অধিকার বাবার চেয়েও বহুগুণ বেশি।

একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার উত্তম সঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ আবার জিজ্ঞেস করলে আবারও বললেন, ‘তোমার মা।’ চতুর্থবার বললেন, ‘এরপর তোমার বাবা।’ (বুখারি, ৫৯৭১; মুসলিম, ২৫৪৮)। তিনবার ‘মা’ আর একবার ‘বাবা’–এ যেন স্রষ্টার নির্ধারিত মর্যাদার নিক্তি।

মাকে অবহেলা করার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। যে সন্তান এই নিয়ামতকে অবহেলা করে, তার পরিণতি ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার বললেন, ‘তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক!’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে সে, হে আল্লাহর রাসুল?’ তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা অথবা তাদের একজনকে বার্ধক্যে পেল, অথচ (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (মুসলিম, ২৫৫১)

বৃদ্ধ মা যখন সবচেয়ে অসহায়, ঠিক তখনই যদি সন্তান মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে খোলা জান্নাতের দরজাও তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিরকের পরই সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহের মধ্যে গণ্য করেছেন (বুখারি)। আর সবচেয়ে ভীতিকর বার্তা এই যে, এর শাস্তি কেবল আখিরাতে নয়–দুনিয়াতেই নেমে আসে। 
আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব গুনাহের শাস্তি আল্লাহ যতটা ইচ্ছা কিয়ামত পর্যন্ত পিছিয়ে দেন, কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি তিনি বান্দার জন্য মৃত্যুর আগে, এ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করে দেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, ৪/১৫৬)

লেখিকা: আলেমা ও গৃহিণী

 

২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২১ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২২ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশ এখন আগুনঝরা। বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বইছে তাপপ্রবাহ; কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। রাস্তায় বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে আছেন। এমন সময়ে একজন মুমিনের কর্তব্য কেবল গরমে হাঁসফাঁস করা নয়; বরং ঈমান, সবর ও সতর্কতা মিলিয়ে নিরাপদভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করা উচিত।

ইসলাম তাপকে নিছক প্রাকৃতিক বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে না, দেখে এক গভীর স্মারক হিসেবে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘বলো, জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও কঠিন উত্তপ্ত, যদি তারা বুঝত!’ (সুরা তাওবা, ৮১)। দুনিয়ার সামান্য রোদের এই অসহনীয় তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; আখিরাতের কঠিন উত্তাপের কথা। তাই গরম যেন আমাদের গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং বেশি বেশি ইস্তিগফারের তাগিদ দেয়।

আবার পানির অপরিহার্যতা স্মরণ করিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি পানি থেকেই প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, ৩০)। গরমে শরীরের পানিশূন্যতাই সবচেয়ে বড় বিপদ, তাই পানির এই নিয়ামতের কদর করা ঈমানি দায়িত্ব। পানাহারে আল্লাহর নির্দেশ হলো সংযম, তিনি এরশাদ করেছেন, ‘খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ, ৩১)।

তীব্র গরমে নামাজ নিয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন স্বস্তির নির্দেশনা। তিনি বলেছেন, ‘গরম যখন প্রচণ্ড হয়, তখন (জোহরের) নামাজ ঠাণ্ডার সময়ে আদায় করো; কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের নিশ্বাস থেকে।’ (বুখারি, ৫৩৩-৫৩৪; মুসলিম, ৬১৫)। অর্থাৎ দুপুরের তীব্র রোদে কষ্ট করে নয়, একটু দেরিতে; যখন তাপ কমে আসে, তখন জোহর পড়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এ যেন গরমকালে মুসল্লির জন্য রহমতস্বরূপ ব্যবস্থা।


তাপপ্রবাহে নিরাপদ থাকতে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান মিলিয়ে পরামর্শগুলো মেনে চলা যায়–

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি বা খাবার-স্যালাইন পান করুন। অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়, তাই স্যালাইন বিশেষ উপকারী। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পানীয় ছিল মিষ্টি ও ঠাণ্ডা পানীয় (তিরমিজি, ১৮৯৫)।

তীব্র গরমে ডাবের পানি, লেবু-পানি বা ঠাণ্ডা পানি যে শরীর ও মনকে স্বস্তি দেয়, নবিজি (সা.)-এর এই পছন্দে তারই ইঙ্গিত আছে। আর পানি পানের পদ্ধতিও তিনি শিখিয়েছেন–এক নিশ্বাসে ঢকঢক করে নয়, বরং কয়েক নিশ্বাসে ধীরে ধীরে পান করতেন (মুসলিম, ২০২৮)। গরমে হঠাৎ অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি একসঙ্গে গলায় ঢালার চেয়ে এ পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ।

দ্বিতীয়ত, রোদ এড়িয়ে চলুন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত সূর্য সবচেয়ে প্রখর থাকে। এ সময় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো; বের হলে ছাতা, টুপি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘক্ষণ এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন, যাতে শরীরের একাংশ রোদে আর একাংশ ছায়ায় থাকে; তিনি একে শয়তানের বসার স্থান বলেছেন (আবু দাউদ, ৪৭৮৮)। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এর একটি হিকমত হলো রোদের তাপে কষ্ট পাওয়া এড়ানো। অর্থাৎ দুপুরের প্রখর রোদকে নবিজি (সা.) নিজেই এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।

তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। ইসলাম পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে আরামদায়ক পোশাকের অনুমতি দেয়। সুতির, হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় তাপ শোষণ কম করে এবং বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। আনাস ও উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল ‘কামিস’ (লম্বা, ঢিলেঢালা জামা) (আবু দাউদ, ৪০২৫; তিরমিজি, ১৭৬২) 
উষ্ণ আবহাওয়ায় তার পরিধেয় ছিল মূলত ঢিলেঢালা ও আবৃত পোশাক, যা শরীরকে রোদ থেকে রক্ষা করত আর বাতাস চলাচলেও বাধা দিত না। 

চতুর্থত, হালকা খাবার খান। ভারী, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও বেশি ভাজাপোড়া খাবার গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায়। মৌসুমি ফল, শসা, লেবু-পানি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম-সন্তান পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমাই তার জন্য যথেষ্ট। তবু যদি বেশি খেতেই হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাসের জন্য রাখুক।’ (তিরমিজি, ২৩৮০; ইবনে মাজাহ, ৩৩৪৯) । ভারী ও অতিরিক্ত খাবার গরমে হজমে চাপ ফেলে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে–এই পরিমিতির সুন্নাহই তখন সবচেয়ে উপকারী।

পঞ্চমত, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমিভাব বা অজ্ঞান হওয়া–এসব দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে নিয়ে শরীরে পানি দিন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, তাই তা পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করো।’ (বুখারি, ৩২৬৩; সহিহ মুসলিম, ২২০৯) শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে পানি দিয়ে শীতল করার এই নির্দেশনা সরাসরি হিটস্ট্রোক মোকাবিলার সঙ্গে মিলে যায়–আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অজ্ঞানভাব দেখা দিলে দ্রুত শরীর ঠাণ্ডা করার পরামর্শ দেয়।

তীব্র গরমে শুধু নিজে বাঁচলেই হবে না, অন্যকে বাঁচানোও ঈমানের দাবি। সাহাবি সাদ ইবনু উবাদা (রা.) যখন তার প্রয়াত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন কোন সদকা সর্বোত্তম। তিনি উত্তর দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৬৮৪; আবু দাউদ, ১৬৭৯) 
এরপর সাদ (রা.) মদিনায় একটি কূপ খনন করে দিয়েছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে রাস্তার পাশে তৃষ্ণার্ত পথিক, রিকশাচালক বা শ্রমিকদের জন্য একটু ঠাণ্ডা পানি বা স্যালাইনের ব্যবস্থা করা–এ এক মহৎ সদকা।

এমনকি অবলা প্রাণীর তৃষ্ণা মেটানোও আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। নবিজি (সা.) সেই ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে তৃষ্ণার্ত এক কুকুরকে কূপ থেকে পানি তুলে পান করিয়েছিল, আর তাতেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবন্ত প্রাণের সেবায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি, ২৩৬৩; মুসলিম, ২২৪৪)। তাই বাড়ির ছাদে বা উঠানে পাখি ও প্রাণীর জন্য এক পাত্র পানি রেখে দেওয়াও এক নীরব ইবাদত। এই তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য দ্বিমুখী পরীক্ষা–সবরের পরীক্ষা এবং প্রজ্ঞার পরীক্ষা। গরমকে গালি না দিয়ে বরং একে আখিরাতের স্মারক হিসেবে নিয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করি, সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের নির্দেশনা মেনে নিজেকে নিরাপদ রাখি, আর তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়াই। 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ

ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগে এসে আমাদের লাইফস্টাইল ও বিনোদনের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। কনসার্ট, পার্টি, ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন আর নাইটলাইফ আজ আমাদের কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে মানবতার মুক্তির দূত রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সময়ের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা আজকের সমাজের চিত্রকে হুবহু ফুটিয়ে তোলে। বুখারি শরিফের ৫৫৯০ নম্বর বর্ণনায় তিনি বলেন, অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু দল আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মাদক এবং গান-বাজনার বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য হালাল বা বৈধ মনে করবে।

বর্তমান সময়ে বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল আর গান ছাড়া আমাদের যেকোনো উৎসব যেন জমেই না। অথচ সাহাবিদের জীবনে আত্মিক পবিত্রতা রক্ষার তাগিদ ছিল। হাদিসে এসেছে, একবার চলার পথে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে হযরত ইবনু উমর (রা.) তার দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে যান এবং নাফে-কে জিজ্ঞেস করেন কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে কি না। নাফে না বললে তিনি আঙুল বের করে বলেন, একদা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে থাকা অবস্থায় এমন শব্দ শুনে রাসুল (সা.) ঠিক একইভাবে কানে আঙুল দিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছিলেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়, গান-বাজনার কলুষতা থেকে কানকে বাঁচিয়ে রাখা কতটা জরুরি।

আজকের দিনে সমাজের একশ্রেণির বিত্তশালী মানুষ বিলাসবহুল পার্টি আর উইকএন্ড নাইটে মেতে ওঠেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, উম্মতের কিছু দল রাতে আমোদ-প্রমোদ ও ভোগবিলাসে মত্ত থাকবে, আর সকালে তাদের আকৃতি শূকর ও বানরে রূপান্তরিত হবে (সিলসিলায়ে সহিহাহ, ১৬০৪)। এর মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য হলো,তাদের চাল-চলন, পোশাক ও সংস্কৃতি হবে বিজাতিদের মতো; হালাল-হারামের কোনো তোয়াক্কা থাকবে না। তাদের ঘরে কুকুর ও মূর্তির ছড়াছড়ি থাকবে এবং ব্যভিচার হয়ে পড়বে এক সাধারণ বিষয়।

বর্তমান সমাজে মদের আধুনিক সব নাম দিয়ে তাকে আভিজাত্যের অনুষঙ্গ বানানো হচ্ছে। হযরত আবু মালিক আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে এবং তার নাম রাখবে ভিন্ন। আর সমাজ বা রাষ্ট্রের একশ্রেণির নেতাকে গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বরণ ও সম্মান করা হবে। এই চরম নৈতিক স্খলনের কারণে আল্লাহতায়ালা তাদের ভূমিকম্পের মাধ্যমে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রকে বানর ও শূকরে পরিণত করবেন (ইবনে মাজাহ, ৪০২০)।

আধুনিকতা ও অন্ধ অনুকরণের জোয়ারে আমরা যেন আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। সাময়িক আনন্দ আর অপসংস্কৃতির এই কর্দমাক্ত পথ পরিহার করে নৈতিক ও পবিত্র জীবন গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটি কেমন ছিল এবং সেটি কোন দেশ থেকে আসত? আর যখনই তিনি কোনো নতুন পোশাক গায়ে দিতেন, তখন তিনি এমন একটি কাজ করতেন যা আমাদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামে পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়, বরং পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় মার্জিত পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতেন তবে তাঁর একটি বিশেষ চাদরের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের তালিকায় সবচেয়ে প্রিয় ছিল ‘হিবারা’ সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কাপড় ছিল হিবারা (ইয়ামানে তৈরি এক বিশেষ চাদর)’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮১৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৬২)

তৎকালীন আরব বিশ্বে ইয়েমেনের তৈরি পোশাকের বিশেষ খ্যাতি ছিল সুতি বা কাতান কাপড়ের ওপর লাল, নীল কিংবা সবুজ রঙের ডোরাকাটা কারুকার্যময় বিশেষ চাদরকে ‘হিবারা’ বলা হতো এটি যেমন ছিল আরামদায়ক, তেমনই দেখতেও ছিল অত্যন্ত মার্জিত আকর্ষণীয়

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও মার্জিত পোশাক পরিধান করেছিলেন হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, একদা রাসুল (সা.) (অসুস্থতার কারণে) উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর কাঁধে ভর করে বাইরে বের হলেন সময় তাঁর দেহে পরা ছিল একটি ইয়ামেনি নকশি কাপড় তার পর তিনি লোকদের নামাজের ইমামতি করেন (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৩৭৮৭) এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি পরিপাটি সুন্দর পোশাক পরিধান করাকে পছন্দ করতেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো নতুন পোশাক (যেমন- পাগড়ি, জামা বা চাদর) লাভ করতেন, তখন তিনি আনন্দের সঙ্গে সেটির নাম উচ্চারণ করতেন এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক চমৎকার দোয়া পাঠ করতেন হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন কাপড় পরিধানের পর বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাসাওতানিহি, আসআলুকা মিন খাইরিহি ওয়া খাইরি মা সুনিআ লাহ, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিআ লাহ

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা যেহেতু তুমিই আমাকে তা পরিধান করিয়েছ আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আরও কল্যাণ চাচ্ছি যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরি করা হয়েছে তার আর আমি তোমার শরণাপন্ন হচ্ছি এর যাবতীয় অনিষ্ট হতে এবং যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে তার অনিষ্ট হতে (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১২৬৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের এই পছন্দ অভ্যাস থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে রুচিশীলতা পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কতখানি অপচয় না করে সাধ্যের মধ্যে সুন্দর মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং নতুন পোশাকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত সুন্দর একটি সুন্নাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক