নিষিদ্ধ বস্তুর বিকল্প চিকিৎসা উপাদান না থাকলে করণীয় বিষয়ে ফকিহবিদদের দুই ধরনের মতামত রয়েছে। একদলের মতামত, চিকিৎসা খাদ্যের মতো অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়, তাই এর জন্য নিষিদ্ধ বস্তুর ব্যবহার বৈধ নয়। প্রমাণ হিসেবে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস পেশ করে থাকেন। হাদিসটি হলো, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা হারাম জিনিসের মধ্যে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ১৩৯১)
আরেক দলের মতামত হলো, চিকিৎসা খাদ্যের মতোই প্রয়োজনীয় বিষয়। দুটিই মানুষের বাঁচা ও টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। এই মতের প্রবক্তাদের দলিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই হাদিসটি যে, আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) চর্মরোগ-জাতীয় সমস্যার জন্য আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) এবং জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)-কে রেশমি কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছিলেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৮৩৯, মুসলিম, হাদিস: ২০৭৬)
অথচ রেশমি কাপড়ের নিষিদ্ধতা-বিষয়ক ঘোষণা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই দিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর থেকে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে।
প্রতিটি আইন-কানুন ও উপদেশের মধ্যে মানুষের জীবনের যে অনিঃশেষ গুরুত্ব ইসলামে এসেছে, তাতে এই দ্বিতীয় বক্তব্যটি ইসলামি চিন্তাধারার সঙ্গে অধিক জুতসই বা সমীচীন মনে হয়। তবে নিষিদ্ধ বস্তুর মিশ্রণে তৈরি ওষুধ খাওয়ার বৈধতার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। যথা—
১. নিষিদ্ধ বস্তু মিশ্রিত ওষুধ গ্রহণ না করলে শারীরিক ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।
২. বিকল্প কোনো হালাল ওষুধ নেই, এমন হতে হবে।
৩. চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে অভিজ্ঞ আস্থাভাজন একজন দ্বীনদার চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে।
বাস্তবতার নিরিখে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকদের বক্তব্য থেকে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কোনো রোগ এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি, যার জন্য ওষুধ হিসেবে হারাম কিছুর ব্যবহার অপরিহার্য। তবু সতর্কতাবশত মূলনীতিবিষয়ক আলোচনা এখানে করা হলো। হয়তো পৃথিবীর কোথাও কারও জন্য কোনো মুহূর্তে হারাম-মিশ্রিত ওষুধ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা উপকরণ না-ও থাকতে পারে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক