আমাদের কাছে প্রায়ই মানুষ জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মাসয়ালার উত্তর জানতে চান। বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চান। যেমন একজন জানতে চেয়েছেন, দেশে প্রচলিত প্রথা হিসেবে এক ব্যক্তি এক বিঘা জমি এক লাখ টাকার বিনিময়ে বন্ধক নিয়েছেন। যখন জমিওয়ালা পূর্ণ এক লাখ টাকা ফেরত দেবে তখন বন্ধকওয়ালা জমি ছেড়ে দেবে। এদিকে যতদিন বন্ধকওয়ালা টাকা ফেরত না পাবে, ততদিন সে জমি চাষাবাদ করে ফসল ভোগ করবে। তবে সে প্রতি বছর খাজনার টাকা জমিওয়ালাকে দিয়ে দেবে। এ নিয়মে জমি বন্ধক রাখা বা দেওয়া শরিয়তে জায়েজ হবে কি না?
উল্লিখিত পদ্ধতিতে জমি বন্ধক রাখা শরিয়তসম্মত নয়। এভাবে কাউকে টাকা দিয়ে বন্ধকি জমি ভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ ধরনের লেনদেন করা যাবে না। এমনকি জমি ভোগ করা বাবদ খাজনার টাকা দিলেও প্রশ্নোক্ত চুক্তি বৈধ হবে না। এই চুক্তি বাতিল করা আবশ্যক।
শরিয়ত সমর্থিত পন্থায় অন্যের জমি ভোগ করতে চাইলে ঋণ প্রদান ও বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে জমি গ্রহণের চুক্তি না করে শুরু থেকেই পত্তন বা ভাড়া চুক্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে জমির মালিকের একত্রে বেশি টাকার প্রয়োজন হলে জমির ভাড়া ধার্য করে একসঙ্গে কয়েক বছরের জন্য জমি ভাড়া দেবে এবং অগ্রিম ভাড়া নিয়ে নেবে।
যেমন কারও ১ লাখ টাকার প্রয়োজন, এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া হয় ১০ হাজার টাকা। তখন সে ১০ বছরের জন্য জমিটি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম ১ লাখ টাকা ভাড়া হিসেবে নিতে পারবে। এরপর যে কয় বছর অর্থদাতা জমি ভোগ করবে সে কয় বছরের ভাড়া ওই টাকা থেকে কাটা হবে। ১০ বছরের আগে জমি ফেরত দিলে আনুপাতিক হারে অবশিষ্ট টাকা জমিওয়ালা ভাড়া গ্রহীতাকে ফেরত দিয়ে দেবে।
আর কেউ যদি আগে থেকে ভাড়াচুক্তি না করে বন্ধকি চুক্তি করে, তবে সেক্ষেত্রে অর্থদাতা বন্ধকি জমি থেকে উপকৃত হতে চাইলে, আগের বন্ধকি চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে ভাড়াচুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে। তবে এক্ষেত্রে জমির ভাড়া যুক্তিযুক্ত হতে হবে। এলাকার এই মানের জমির ভাড়া সাধারণত যে পরিমাণ, তার সমান বা কাছাকাছি হতে হবে। অর্থাৎ নামমাত্র ভাড়া ধরা চলবে না; বরং তা বাস্তবসম্মত হতে হবে। (মাজমাউল আনহুর, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৭৩; জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া, কিরমানি, পৃষ্ঠা: ৫০৭; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪৮২)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক