ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রিটিশ ভারতের পথিকৃৎ নারী চিকিৎসক ডা. যামিনী সেন জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, আখাউড়া থানায় অভিযোগ নারীর সফল ক্যারিয়ারের ৬ টিপস রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল জাপান বদলির সাড়ে চার মাসেও দায়িত্বভার হস্তান্তরে গড়িমসি ইউএইচএফপিওর ইরাক ম্যাচের আগে ছোটখাটো পরিবর্তনের পথে ফ্রান্স শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী নিউমার্কেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ৪ শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন চলতি বছরেই: বিমানমন্ত্রী রূপগঞ্জে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস পালিত প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জার্মানদের ওপর চটেছেন আইভরি কোস্টের কোচ নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোচালক নিহত, সড়ক অবরোধ লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের বেফাঁস মন্তব্যে প্রত্যাহার কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে জাপান পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক? গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা ৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন

তথ্যসুরক্ষা ইবাদত ও গুজব রটানো পাপ

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
তথ্যসুরক্ষা ইবাদত ও গুজব রটানো পাপ
তথ্য সুরক্ষার ছবি। ইন্টারনেট

আজ খতমে তারাবিতে পবিত্র কোরআনের সুরা আহকাফ, সুরা মুহাম্মাদ, সুরা ফাতহ, সুরা হুজুরাত ও সুরা জারিয়াতের ১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে ২৬তম পারা তেলাওয়াত করা হবে। এই অংশে মুত্তাকিদের পুরস্কার, মুমিনরা পরস্পরে ভাই ভাই, বাবা-মায়ের আনুগত্য, নবিজির মুখে জিনদের কোরআন শ্রবণ, গুজব রটানো, যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে আচরণনীতি, হুদায়বিয়ার সন্ধি, মক্কা বিজয়, সাহাবিদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টিসহ নানা বিষয় আলোচিত হয়েছে।

সুরা আহকাফের বিষয়বস্তু
মক্কায় অবতীর্ণ ৩৫ আয়াতবিশিষ্ট সুরা আহকাফ। আহকাফ অর্থ বালুকাময় উঁচু স্থান। এ সুরায় আল্লাহতাআলার একত্ববাদ, মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাত এবং আখেরাত, মক্কার কাফেরদের গোমরাহি, জিদ, গর্ব ও অহংকার, গোমরাহির ফলাফল সম্পর্কে কাফেরদের সতর্কবার্তা, বাবা-মায়ের অনুগত বিশ্বাসী সন্তান এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তানের বিবরণ, নবিজির মুখে কোরআন শুনে জিনদের মুগ্ধ হওয়ার কাহিনি, আদ জাতি এবং তাদের ধ্বংসের ঘটনা আলোচিত হয়েছে। 

কোরআনে মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা মুহাম্মদ ৩৮ আয়াত বিশিষ্ট। এ সুরায় মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম থাকায় এ নাম রাখা হয়েছে। এ সুরা ছাড়াও আরও তিনটি সুরায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যথা—আলে ইমরান, আহজাব ও ফাতহ। এ সুরায় মুমিন ও কাফেরদের মাঝে চির সংঘাত, আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের সাহায্য, মুত্তাকিদের পুরস্কার, জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয়ের পাশাপাশি কৃপণতা থেকে নিষেধ, ঈমানদারদের পুরস্কার ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা রয়েছে। 

যে কাজ ধ্বংস ডেকে আনে
সুরা মুহাম্মাদের ৩৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘দেখ, তোমরাই তারা যাদের আল্লাহর পথে ব্যয় করতে বলা হচ্ছে, অথচ তোমাদের অনেকে কৃপণতা করছ; যারা কার্পণ্য করে তারা কার্পণ্য করে নিজেদেরই প্রতি। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত, যদি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো তাহলে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন; তারা তোমাদের মতো হবে না।’ ধনসম্পদ আল্লাহর দান। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্পদশালী করেন, যাকে ইচ্ছা গরিব রাখেন। আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা এবং অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো সম্পদশালীর ঈমানি দায়িত্ব। ইসলাম ও মানুষের উপকারে সম্পদ ব্যয়ে কার্পণ্য করা যাবে না। আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় না করে কার্পণ্য করা হারাম এবং এ জন্য কোরআনে জাহান্নামের ভয় দেখানো হয়েছে। সাধারণ খাতেও খরচ না করে কার্পণ্য করা উত্তমের পরিপন্থি এক অভ্যাস। কৃপণতার কারণে আগের অনেক জাতি ধ্বংস হয়েছিল। নবিজি (সা.) উম্মতদের এই অভ্যাস ছাড়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি কৃপণতা থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাইতেন। কারণ, কৃপণতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় কাজ। মুমিনকে মিতব্যয়ী হতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয়ও করবে না, কৃপণতাও অবলম্বন করবে না। 

সুরা ফাতহে মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ
সুরা ফাতহ মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ২৯। কোরআনের ৪৯ নম্বর সুরা এটি। ফাতহ অর্থ বিজয়। ষষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে মক্কার কাফেরদের সঙ্গে সন্ধি চুক্তি সম্পাদনের পর নবি (সা.) যখন মদিনার দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন সুরাটি নাজিল হয়। আল্লাহ হুদাইবিয়ার সন্ধির আকারে নবি (সা.) ও মুসলমানদের যে মক্কায় বিজয় দান করেছিলেন সে বিষয়ের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে এই সুরায়। মুমিন নর-নারীদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা এবং কাফের ও মুনাফিকদের শাস্তি, হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে নবিজির সঙ্গে উপস্থিত সাহাবিদের প্রতি আল্লাহতাআলার সন্তুষ্টির ঘোষণা, খায়বার বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান, নবিজির আনীত ধর্ম সব ধর্মের ওপর বিজয় লাভের বিবরণ রয়েছে এ সুরায়। 

গুজব রটানো ভয়াবহ পাপ
আধুনিকোত্তর এই যুগে ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশ্বের বৃহৎ এক গোষ্ঠী এই সাইটগুলো ব্যবহার করে। সেখানে নানা মত, ভিন্ন আয়োজন ও হরেকরকম খবরের চর্চা হয়। বিশেষ করে আমাদের দেশে যে কোনো খবর সবকিছুর আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। কোনো সংবাদ গ্রহণ বা প্রচার করার আগে তার সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে হবে। 

যদি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো খবর পাওয়া যায় তা হলে গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে খবর পাওয়ার মাধ্যম নির্ভরযোগ্য কিনা। নির্ভরযোগ্য না হলে তার ভিত্তিতে কোনো তৎপরতা চালানোর আগে খবরটি সঠিক কি না তা যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে।

অসত্য, মিথ্যা, সন্দেহ সৃষ্টিকারী, গুজব কিংবা পরস্পরে শত্রুতা সৃষ্টি হয়—এমন কিছু পোস্ট ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। সংবাদ যাচাই-বাছাই না করে গুজব ছড়ানো ভয়াবহ পাপ। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুসলমানেরা, যদি কোনো পাপাচারী লোক কোনো খবর নিয়ে আসে, তা হলে তা যাচাই-পরীক্ষা করে দেখবে যেন অজ্ঞতাবশত কোনো জাতির ওপর আক্রমণ করা না হয়। এরূপ কাজ করলে তোমাদের নিজেদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনুতাপ করতে হবে।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৬) 

রাসুল (সা.) বলেন, ‘সব শোনা কথা (যাচাই-বাছাই করা ছাড়া) বলা কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (আবু দাউদ: ৪৯৯২) 

যেসব কাজ থেকে বাঁচতে হবে
সুরা হুজুরাতের ১১ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে, সমাজজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এমন কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যথা—ক. উপহাস করা। খ. খোঁটা দেওয়া। গ. মন্দ নামে ডাকা। ঘ. অনুমান করা। ঙ. দোষ অনুসন্ধান। চ. গিবত। 

সুরা কফের বিষয়বস্তু
কোরআনের ৫০তম সুরা কফ মক্কায় অবতীর্ণ। এটি ৪৫ আয়াত বিশিষ্ট সুরা। এই অংশে ইসলামের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস, কাফের-মুশরিকদের প্রতি সতর্কবার্তা, পূর্ববর্তী জাতি ধ্বংসের কারণ, মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা, মানুষের সঙ্গে দুজন ফেরেশতার বাস, মৃত্যুর সময় মানুষের আমলনামা বন্ধ, কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মানুষের আমলের জবাব, জান্নাত-জাহান্নামের বিবরণ, সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর ইবাদত ও তাসবিহ আদায়ের বর্ণনা রয়েছে। 

এ ছাড়া তারাবির আজকের অংশে কাফেরদের উত্থাপিত আপত্তির জবাব, যুদ্ধের হুকুম, আল্লাহর সাহায্য, তাকওয়া, কসম, ওয়াদা, আল্লাহর আজমত ও বড়ত্ব এবং মানুষের সঙ্গে দুজন ফেরেশতা নিযুক্ত ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা রয়েছে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!
ছবি: সংগৃহীত

খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামল। ইয়েমেন থেকে প্রতিবার হজযাত্রী বা সাহায্যকারী দল মদিনায় এলে উমর (রা.) ভিড়ের ভেতর একজন মানুষকে খুঁজতেন। নাম তার উওয়াইস আল-কারনি। অপরিচিত, গরিব, সাধারণ এক রাখাল। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জীবনে একবারও দেখতে পাননি–কারণ ইয়েমেনে তার এক অসুস্থ বৃদ্ধা মা ছিলেন, যাকে ছেড়ে তিনি হিজরত করতে পারেননি। মায়ের সেবাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইবাদত।

অথচ এই অপরিচিত মানুষটি সম্পর্কেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আগেই বলে গিয়েছিলেন–ইয়েমেন থেকে উওয়াইস নামে এক ব্যক্তি আসবে, যে তার মায়ের প্রতি অত্যন্ত অনুগত; সে যদি আল্লাহর নামে কসম করে, আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করে দেন। নবিজি (সা.) বলেছিলেন, সম্ভব হলে তার কাছে নিজেদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া চেয়ে নিও। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলিম জাহানের খলিফা উমর (রা.) নিজে এই অখ্যাত যুবকের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, আমার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চেয়ো। (মুসলিম, ২৫৪২)

মানুষের জীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম, অপরিশোধ্য। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। (নির্দেশ এই যে) তুমি আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা লুকমান, ১৪)
লক্ষ করুন, আল্লাহ এখানে নিজের শুকরিয়ার পাশেই মা-বাবার শুকরিয়াকে যুক্ত করেছেন এবং মা সন্তানকে কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, কষ্ট সয়েই জন্ম দিয়েছে। এই কষ্টের কারণেই মায়ের অধিকার বাবার চেয়েও বহুগুণ বেশি।

একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার উত্তম সঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ আবার জিজ্ঞেস করলে আবারও বললেন, ‘তোমার মা।’ চতুর্থবার বললেন, ‘এরপর তোমার বাবা।’ (বুখারি, ৫৯৭১; মুসলিম, ২৫৪৮)। তিনবার ‘মা’ আর একবার ‘বাবা’–এ যেন স্রষ্টার নির্ধারিত মর্যাদার নিক্তি।

মাকে অবহেলা করার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। যে সন্তান এই নিয়ামতকে অবহেলা করে, তার পরিণতি ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার বললেন, ‘তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক!’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে সে, হে আল্লাহর রাসুল?’ তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা অথবা তাদের একজনকে বার্ধক্যে পেল, অথচ (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (মুসলিম, ২৫৫১)

বৃদ্ধ মা যখন সবচেয়ে অসহায়, ঠিক তখনই যদি সন্তান মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে খোলা জান্নাতের দরজাও তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিরকের পরই সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহের মধ্যে গণ্য করেছেন (বুখারি)। আর সবচেয়ে ভীতিকর বার্তা এই যে, এর শাস্তি কেবল আখিরাতে নয়–দুনিয়াতেই নেমে আসে। 
আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব গুনাহের শাস্তি আল্লাহ যতটা ইচ্ছা কিয়ামত পর্যন্ত পিছিয়ে দেন, কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি তিনি বান্দার জন্য মৃত্যুর আগে, এ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করে দেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, ৪/১৫৬)

লেখিকা: আলেমা ও গৃহিণী

 

২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২১ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২২ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশ এখন আগুনঝরা। বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বইছে তাপপ্রবাহ; কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। রাস্তায় বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে আছেন। এমন সময়ে একজন মুমিনের কর্তব্য কেবল গরমে হাঁসফাঁস করা নয়; বরং ঈমান, সবর ও সতর্কতা মিলিয়ে নিরাপদভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করা উচিত।

ইসলাম তাপকে নিছক প্রাকৃতিক বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে না, দেখে এক গভীর স্মারক হিসেবে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘বলো, জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও কঠিন উত্তপ্ত, যদি তারা বুঝত!’ (সুরা তাওবা, ৮১)। দুনিয়ার সামান্য রোদের এই অসহনীয় তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; আখিরাতের কঠিন উত্তাপের কথা। তাই গরম যেন আমাদের গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং বেশি বেশি ইস্তিগফারের তাগিদ দেয়।

আবার পানির অপরিহার্যতা স্মরণ করিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি পানি থেকেই প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, ৩০)। গরমে শরীরের পানিশূন্যতাই সবচেয়ে বড় বিপদ, তাই পানির এই নিয়ামতের কদর করা ঈমানি দায়িত্ব। পানাহারে আল্লাহর নির্দেশ হলো সংযম, তিনি এরশাদ করেছেন, ‘খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ, ৩১)।

তীব্র গরমে নামাজ নিয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন স্বস্তির নির্দেশনা। তিনি বলেছেন, ‘গরম যখন প্রচণ্ড হয়, তখন (জোহরের) নামাজ ঠাণ্ডার সময়ে আদায় করো; কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের নিশ্বাস থেকে।’ (বুখারি, ৫৩৩-৫৩৪; মুসলিম, ৬১৫)। অর্থাৎ দুপুরের তীব্র রোদে কষ্ট করে নয়, একটু দেরিতে; যখন তাপ কমে আসে, তখন জোহর পড়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এ যেন গরমকালে মুসল্লির জন্য রহমতস্বরূপ ব্যবস্থা।


তাপপ্রবাহে নিরাপদ থাকতে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান মিলিয়ে পরামর্শগুলো মেনে চলা যায়–

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি বা খাবার-স্যালাইন পান করুন। অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়, তাই স্যালাইন বিশেষ উপকারী। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পানীয় ছিল মিষ্টি ও ঠাণ্ডা পানীয় (তিরমিজি, ১৮৯৫)।

তীব্র গরমে ডাবের পানি, লেবু-পানি বা ঠাণ্ডা পানি যে শরীর ও মনকে স্বস্তি দেয়, নবিজি (সা.)-এর এই পছন্দে তারই ইঙ্গিত আছে। আর পানি পানের পদ্ধতিও তিনি শিখিয়েছেন–এক নিশ্বাসে ঢকঢক করে নয়, বরং কয়েক নিশ্বাসে ধীরে ধীরে পান করতেন (মুসলিম, ২০২৮)। গরমে হঠাৎ অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি একসঙ্গে গলায় ঢালার চেয়ে এ পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ।

দ্বিতীয়ত, রোদ এড়িয়ে চলুন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত সূর্য সবচেয়ে প্রখর থাকে। এ সময় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো; বের হলে ছাতা, টুপি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘক্ষণ এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন, যাতে শরীরের একাংশ রোদে আর একাংশ ছায়ায় থাকে; তিনি একে শয়তানের বসার স্থান বলেছেন (আবু দাউদ, ৪৭৮৮)। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এর একটি হিকমত হলো রোদের তাপে কষ্ট পাওয়া এড়ানো। অর্থাৎ দুপুরের প্রখর রোদকে নবিজি (সা.) নিজেই এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।

তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। ইসলাম পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে আরামদায়ক পোশাকের অনুমতি দেয়। সুতির, হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় তাপ শোষণ কম করে এবং বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। আনাস ও উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল ‘কামিস’ (লম্বা, ঢিলেঢালা জামা) (আবু দাউদ, ৪০২৫; তিরমিজি, ১৭৬২) 
উষ্ণ আবহাওয়ায় তার পরিধেয় ছিল মূলত ঢিলেঢালা ও আবৃত পোশাক, যা শরীরকে রোদ থেকে রক্ষা করত আর বাতাস চলাচলেও বাধা দিত না। 

চতুর্থত, হালকা খাবার খান। ভারী, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও বেশি ভাজাপোড়া খাবার গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায়। মৌসুমি ফল, শসা, লেবু-পানি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম-সন্তান পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমাই তার জন্য যথেষ্ট। তবু যদি বেশি খেতেই হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাসের জন্য রাখুক।’ (তিরমিজি, ২৩৮০; ইবনে মাজাহ, ৩৩৪৯) । ভারী ও অতিরিক্ত খাবার গরমে হজমে চাপ ফেলে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে–এই পরিমিতির সুন্নাহই তখন সবচেয়ে উপকারী।

পঞ্চমত, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমিভাব বা অজ্ঞান হওয়া–এসব দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে নিয়ে শরীরে পানি দিন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, তাই তা পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করো।’ (বুখারি, ৩২৬৩; সহিহ মুসলিম, ২২০৯) শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে পানি দিয়ে শীতল করার এই নির্দেশনা সরাসরি হিটস্ট্রোক মোকাবিলার সঙ্গে মিলে যায়–আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অজ্ঞানভাব দেখা দিলে দ্রুত শরীর ঠাণ্ডা করার পরামর্শ দেয়।

তীব্র গরমে শুধু নিজে বাঁচলেই হবে না, অন্যকে বাঁচানোও ঈমানের দাবি। সাহাবি সাদ ইবনু উবাদা (রা.) যখন তার প্রয়াত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন কোন সদকা সর্বোত্তম। তিনি উত্তর দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৬৮৪; আবু দাউদ, ১৬৭৯) 
এরপর সাদ (রা.) মদিনায় একটি কূপ খনন করে দিয়েছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে রাস্তার পাশে তৃষ্ণার্ত পথিক, রিকশাচালক বা শ্রমিকদের জন্য একটু ঠাণ্ডা পানি বা স্যালাইনের ব্যবস্থা করা–এ এক মহৎ সদকা।

এমনকি অবলা প্রাণীর তৃষ্ণা মেটানোও আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। নবিজি (সা.) সেই ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে তৃষ্ণার্ত এক কুকুরকে কূপ থেকে পানি তুলে পান করিয়েছিল, আর তাতেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবন্ত প্রাণের সেবায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি, ২৩৬৩; মুসলিম, ২২৪৪)। তাই বাড়ির ছাদে বা উঠানে পাখি ও প্রাণীর জন্য এক পাত্র পানি রেখে দেওয়াও এক নীরব ইবাদত। এই তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য দ্বিমুখী পরীক্ষা–সবরের পরীক্ষা এবং প্রজ্ঞার পরীক্ষা। গরমকে গালি না দিয়ে বরং একে আখিরাতের স্মারক হিসেবে নিয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করি, সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের নির্দেশনা মেনে নিজেকে নিরাপদ রাখি, আর তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়াই। 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ

ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগে এসে আমাদের লাইফস্টাইল ও বিনোদনের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। কনসার্ট, পার্টি, ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন আর নাইটলাইফ আজ আমাদের কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে মানবতার মুক্তির দূত রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সময়ের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা আজকের সমাজের চিত্রকে হুবহু ফুটিয়ে তোলে। বুখারি শরিফের ৫৫৯০ নম্বর বর্ণনায় তিনি বলেন, অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু দল আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মাদক এবং গান-বাজনার বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য হালাল বা বৈধ মনে করবে।

বর্তমান সময়ে বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল আর গান ছাড়া আমাদের যেকোনো উৎসব যেন জমেই না। অথচ সাহাবিদের জীবনে আত্মিক পবিত্রতা রক্ষার তাগিদ ছিল। হাদিসে এসেছে, একবার চলার পথে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে হযরত ইবনু উমর (রা.) তার দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে যান এবং নাফে-কে জিজ্ঞেস করেন কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে কি না। নাফে না বললে তিনি আঙুল বের করে বলেন, একদা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে থাকা অবস্থায় এমন শব্দ শুনে রাসুল (সা.) ঠিক একইভাবে কানে আঙুল দিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছিলেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়, গান-বাজনার কলুষতা থেকে কানকে বাঁচিয়ে রাখা কতটা জরুরি।

আজকের দিনে সমাজের একশ্রেণির বিত্তশালী মানুষ বিলাসবহুল পার্টি আর উইকএন্ড নাইটে মেতে ওঠেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, উম্মতের কিছু দল রাতে আমোদ-প্রমোদ ও ভোগবিলাসে মত্ত থাকবে, আর সকালে তাদের আকৃতি শূকর ও বানরে রূপান্তরিত হবে (সিলসিলায়ে সহিহাহ, ১৬০৪)। এর মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য হলো,তাদের চাল-চলন, পোশাক ও সংস্কৃতি হবে বিজাতিদের মতো; হালাল-হারামের কোনো তোয়াক্কা থাকবে না। তাদের ঘরে কুকুর ও মূর্তির ছড়াছড়ি থাকবে এবং ব্যভিচার হয়ে পড়বে এক সাধারণ বিষয়।

বর্তমান সমাজে মদের আধুনিক সব নাম দিয়ে তাকে আভিজাত্যের অনুষঙ্গ বানানো হচ্ছে। হযরত আবু মালিক আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে এবং তার নাম রাখবে ভিন্ন। আর সমাজ বা রাষ্ট্রের একশ্রেণির নেতাকে গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বরণ ও সম্মান করা হবে। এই চরম নৈতিক স্খলনের কারণে আল্লাহতায়ালা তাদের ভূমিকম্পের মাধ্যমে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রকে বানর ও শূকরে পরিণত করবেন (ইবনে মাজাহ, ৪০২০)।

আধুনিকতা ও অন্ধ অনুকরণের জোয়ারে আমরা যেন আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। সাময়িক আনন্দ আর অপসংস্কৃতির এই কর্দমাক্ত পথ পরিহার করে নৈতিক ও পবিত্র জীবন গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটি কেমন ছিল এবং সেটি কোন দেশ থেকে আসত? আর যখনই তিনি কোনো নতুন পোশাক গায়ে দিতেন, তখন তিনি এমন একটি কাজ করতেন যা আমাদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামে পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়, বরং পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় মার্জিত পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতেন তবে তাঁর একটি বিশেষ চাদরের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের তালিকায় সবচেয়ে প্রিয় ছিল ‘হিবারা’ সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কাপড় ছিল হিবারা (ইয়ামানে তৈরি এক বিশেষ চাদর)’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮১৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৬২)

তৎকালীন আরব বিশ্বে ইয়েমেনের তৈরি পোশাকের বিশেষ খ্যাতি ছিল সুতি বা কাতান কাপড়ের ওপর লাল, নীল কিংবা সবুজ রঙের ডোরাকাটা কারুকার্যময় বিশেষ চাদরকে ‘হিবারা’ বলা হতো এটি যেমন ছিল আরামদায়ক, তেমনই দেখতেও ছিল অত্যন্ত মার্জিত আকর্ষণীয়

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও মার্জিত পোশাক পরিধান করেছিলেন হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, একদা রাসুল (সা.) (অসুস্থতার কারণে) উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর কাঁধে ভর করে বাইরে বের হলেন সময় তাঁর দেহে পরা ছিল একটি ইয়ামেনি নকশি কাপড় তার পর তিনি লোকদের নামাজের ইমামতি করেন (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৩৭৮৭) এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি পরিপাটি সুন্দর পোশাক পরিধান করাকে পছন্দ করতেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো নতুন পোশাক (যেমন- পাগড়ি, জামা বা চাদর) লাভ করতেন, তখন তিনি আনন্দের সঙ্গে সেটির নাম উচ্চারণ করতেন এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক চমৎকার দোয়া পাঠ করতেন হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন কাপড় পরিধানের পর বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাসাওতানিহি, আসআলুকা মিন খাইরিহি ওয়া খাইরি মা সুনিআ লাহ, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিআ লাহ

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা যেহেতু তুমিই আমাকে তা পরিধান করিয়েছ আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আরও কল্যাণ চাচ্ছি যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরি করা হয়েছে তার আর আমি তোমার শরণাপন্ন হচ্ছি এর যাবতীয় অনিষ্ট হতে এবং যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে তার অনিষ্ট হতে (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১২৬৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের এই পছন্দ অভ্যাস থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে রুচিশীলতা পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কতখানি অপচয় না করে সাধ্যের মধ্যে সুন্দর মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং নতুন পোশাকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত সুন্দর একটি সুন্নাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক