আল্লাহতায়ালা মানুষকে হালাল উপায়ে রিজিক অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর নামাজ শেষ হয়ে গেলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং আল্লাহকে স্মরণ করো বেশি বেশি, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)
পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিজীবের রিজিক আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আল্লাহ বলেন, ‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিক আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রাখেননি। তিনি তাদের স্থায়ী ঠিকানাও জানেন এবং সাময়িক ঠিকানাও। সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৬)
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এমন কিছু আমলের কথা জানা যায়, যার দ্বারা সম্পদ বা রিজিক বৃদ্ধি পায়। এখানে কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো—
দোয়া পড়লে রিজিক বাড়ে
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসয়ালুকাল হুদা, ওয়াত তুকা, ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, চরিত্রের নির্মলতা ও ধনাঢ্যতা প্রার্থনা করছি। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৮৯)
বেশি বেশি ইসতেগফার করা
আয়-উপার্জন বৃদ্ধির পরীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হলো, বেশি বেশি ইসতেগফার করা। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদেরকে বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে উন্নতি দান করেন এবং তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন উদ্যান আর তোমাদের জন্য নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)
যে দোয়া বেশি পড়তে হয়
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে রিজিক দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০)
দোয়া পড়া
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা, ওয়া রিজকান তাইয়িবা।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান চাই, কবুল হওয়ার মতো আমল ও পবিত্র রিজিক চাই।’ (ইবনে মাজা)
সুরা কুরাইশ পড়া
হজরত জুলফিকার নকশেবন্দি খুতবাতে জুলফিকার কিতাবে উল্লেখ করেছেন, সকাল-সন্ধ্যা সুরা কুরাইশের আমল করার দ্বারা সম্পদ ও রিজিক বৃদ্ধি পায়। (খুতবাতে জুলফিকার)
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর