প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বিভিন্ন আমলের কথা প্রমাণিত রয়েছেন। ফজরের নামাজের পর আছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বেশি। ফজরের নামাজের সওয়াব ও ফজিলতের কথা বহু হাদিসে আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঠান্ডা সময়ের (ফজর ও আসর নামাজ) নামাজ ঠিকমতো আদায় করে, সে জান্নাতের প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৩২৪)
ফজর নামাজের পর যেসব আমল করা যেতে পারে, তার কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হলো—
এক. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৯৪৪৮)
আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম।
আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
দুই. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮৯)। দোয়াটি হলো,
বাংলা উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রব্বাও, ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনাও, ওয়া বি মুহাম্মাদি নাবিইয়া।’
বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবি হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
তিন. সাইয়িদুল ইসতেগফার পাঠ করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ দৃঢ়বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা এ ইসতেগফারটি পড়ে এবং ওই দিনে বা রাতে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৩০৬)।
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি, ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু, আউজু বিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগিফরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আর আমি তোমার গোলাম। আমি তোমার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর যথাসাধ্য আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার ওপর তোমার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না।
চার. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার এ দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তা হলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৭৯)
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর