ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পানির ঢলে বাংলাদেশের ১১ জেলা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। নিঃস্ব হাজারো পরিবার। বাসস্থান ও খাদ্যবস্ত্রের হাহাকারে বিপন্ন আকাশ-বাতাস। বন্যার শুরু থেকেই বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের আলেমসমাজ ও তাদের নেতৃত্বাধীন সেবামূলক সংগঠন। বন্যা-পরবর্তী সময়েও চিকিৎসা, ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করবেন তারা। বন্যার্তদের পাশে আলেমসমাজের সহযোগিতামূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরা হলো
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন: উম্মাহর স্বার্থে সুন্নাহের সঙ্গে কাজ করে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। এবারের বন্যাও সবচেয়ে বেশি ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সংস্থাটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন, ‘এ বছর ১০০ কোটি টাকার ত্রাণ কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করব। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৃত মানুষের পরিবারের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করা হবে।’
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ: বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করছে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংস্থা এটি। পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে তিনটি টিমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তিন জায়গায় কাজ করেছি। বানভাসিদের উদ্ধার, হাজারো মানুষকে শুকনো খাবার দিয়েছি। বন্যা-পরবর্তীতে চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনেও কাজ করব আমরা।’
হেমায়াতে ইসলাম মিশন: ছারছীনা দরবারের সেবামূলক সংগঠন হেমায়াতে ইসলাম মিশন বানভাসিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ছারছীনা দরবার শরিফের পীর মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন জানান, ‘আটকে পড়া বন্যার্তদের উদ্ধারে আমাদের ২০টি ট্রলার কাজ করেছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষকে খাবার দেওয়া হয়েছে।’
আল-মারকাযুল ইসলামী: বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আল-মারকাযুল ইসলামী। এটির বর্তমান চেয়ারম্যান হামজা শহিদুল ইসলাম। আইটি ও মিডিয়া অফিসার নাজমুল হাসান সাকিব জানান, ‘ঢাকা থেকে খাদ্য প্যাকেজিং করে একদল স্বেচ্ছাসেবী বন্যার প্রথমেই গিয়েছেন বন্যাদুর্গতদের কাছে। সেখানে নিরলস কাজ করছেন তারা। করেছেন উদ্ধার কাজও। দিয়েছেন হাজারো মানুষকে খাবার।’
তাকওয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: অসহায় মানুষের সেবা সংস্থা তাকওয়া ফাউন্ডেশন। এটি পরিচালনা করছেন মাওলানা গাজী ইয়াকুব। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আটকে পড়াদের উদ্ধার করেছি। মানুষকে খাবার, পানীয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বানিয়ে সেখানে মানুষদের আশ্রয় দিয়েছি।’
হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ: প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। নানামুখী সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে। হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের প্রচার সম্পাদক মুহসিন বিন তাজ বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য কাজ করেছেন ২০ জনের একটি দল। সেখানে চারজন চিকিৎসকও রয়েছেন। ৫ হাজার বানভাসি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি আমরা।’
বাসমাহ ফাউন্ডেশন: বহুমুখী সেবামূলক কাজ করছে বাসমাহ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির প্রধান মাওলানা মীর হোসাইন। শুরু থেকেই এবারের বন্যার্তদের পাশে আছে বাসমাহ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্য সহায়তা, উদ্ধারকাজ, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনসহ নানামুখী কাজ করছে তারা।
হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন: ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে বন্যাদুর্গত এলাকায় একটি টিম কাজ করছে।
ফাউন্ডেশনটির সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ রজিবুল হক বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে হাজারো মানুষকে শুকনো খাবার দিয়েছি। অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। যেসব মাদরাসার ছাত্রদের বই নষ্ট হয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে তাদের বই দেব।’
ফি সাবীলিল্লাহ ফাউন্ডেশন: হেলিকপ্টারযোগে বন্যার্তদের মাঝে উদ্ধারকাজ করেছে ফি সাবীলিল্লাহ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ। ফাউন্ডেশনের টিম সমন্বয়ক মাওলানা হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ২২ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছি। ২৪ তারিখে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। হাজারো মানুষকে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, জরুরি ওষুধ ও প্রাথমিক সেবা দিয়েছি।’
রাহমাতুল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশন: বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেবামূলক সংগঠন রাহমাতুল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশন। এটি প্রতিষ্ঠাতা মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী। ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মুফতি আহসান শরীফ বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বন্যার্তদের জন্য কাজ করছি। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে শুকনো খবার ও রান্না করা খাবার দিয়েছি। বন্যার পরে পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করব।’
পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ: মুসলিম সন্তানদের মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিতকরণসহ নানামুখী সেবামূলক কাজ করছে মাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইনের পিসব। তিনি জানান, ‘শুরুতে দক্ষ সাঁতারুদের দিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেছি। রান্না করা ও শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছি। বন্যার পরে অসহায়দের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন ও টয়লেট নির্মাণ করব। তাদের পুনর্বাসন এবং স্বাবলম্বী করার প্রজেক্টও হাতে নিয়েছি।’
মুহসিনীন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি: শুরু থেকেই বানভাসি মানুষের পাশে আছেন মুহসিনীন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংস্থাটির ফাউন্ডার হাফেজ আল-মুনাদি। তিনি জানান, ‘বন্যার শুরু থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাবার ও পানীয় পৌঁছানো এবং আলেমদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
সাদাকাহ ফাউন্ডেশন: বানভাসি মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন সাদাকাহ ফাউন্ডেশন ইউএসএ। সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ইরফান সিদ্দিকী জানান, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় ফাউন্ডেশনের একটি টিম কাজ করছে। শুকনো খাবার দিচ্ছে। আমাদের এ সেবামূলক কার্যক্রম ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত সিদ্দিকীয়া কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।’
ত্ব-হা যিন নূরাঈন ফাউন্ডেশন: বন্যার শুরু থেকেই ত্ব-হা যিন নূরাঈন ফাউন্ডেশনের একটি টিম ফেনীর বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছেন। প্রথম দিকে তারা উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তারা।
ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী: বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আমীর ইবনে আহমাদ জানান, ‘একদল স্বেচ্ছাসেবী টাকা সংগ্রহ করছেন, আরেকদল কাজ করছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। সেখানে আমরা শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দিয়েছি।’
আযহারী সাইবার টিম বাংলাদেশ: সৈয়দ হাসান আল আযহারী ‘আযহারী সাইবার টিম বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ টিমের সিনিয়র সদস্য মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের টিমের ১৯ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে বন্যাদুর্গত এলাকায়। ফেনী ও ফটিকছড়িতে হাজারো মানুষকে খাবার দিয়েছি। খাবার বিতরণের নাম দিয়েছি ‘ভালোবাসা’। বন্যার পরে অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ ও মেরামতে কাজ করব।’
কওমি উদ্যোক্তা: আলেম উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম কওমি উদ্যোক্তাও বন্যার্তদের জন্য কাজ করছেন। কউ’র কো-ফাউন্ডার মুহাম্মাদ মুমিনুল ইসলাম জানান, ‘শুরুর দিনগুলোয় ১৫ জনের একটি দল রেসকিউ করেছেন। দুর্গম অঞ্চলের মানুষদের খাবার দিয়েছেন।’
ইক্বরা সংস্থা: বন্যার্তদের জন্য কাজ করছে কারি শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফের প্রতিষ্ঠিত ইক্বরা সংস্থা। সংস্থাটি তহবিল সংগ্রহ করে ছুটে গেছেন বানভাসিদের কাছে। দিয়েছেন খাবার ও নগদ অর্থ।
মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবার: বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি সেবায় কাজ করছেন মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবার। শিক্ষা পরিবারের ইনচার্জ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জানান, ‘এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও শিশুখাদ্য দিয়েছি। কাপড়ও দিয়েছি অনেককে। বর্তমানে সেখানে একটি টিম কাজ করছে। টিমে স্থানীয় ডাক্তারও আছেন।’
সাধারণ আলেম সমাজ: বানভাসি মানুষের জন্য কাজ করছেন সাধারণ আলেম সমাজ। প্রায় ৫০ জনের একটি টিম সেখানে প্রতিদিনই কাজ করেছে। বানভাসিদের শুকনো খাবার ও চাল-ডাল দিয়েছেন। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় বেশ কাজ করেছেন।
মতলব দক্ষিণ ইমাম-উলামা ঐক্য পরিষদ: ঐক্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মুফতি গোলাম সারওয়ার ফরিদী জানান, ‘বন্যাদুর্গতের পাশে দাঁড়িয়েছে মতলব দক্ষিণ ইমাম-উলামা ঐক্য পরিষদ। আমরা নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছি। বন্যা-পরবর্তী সময়ে মানুষের ঘর নির্মাণ ও মেরামতে নগদ সহায়তা দেব।’
ইফাদাতুল মুসলিমিন ফাউন্ডেশন: মানুষের উপকারে কাজ করছেন ইফাদাতুল মুসলিমিন ফাউন্ডেশন। এবারের বানভাসিদের তারা শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, লবণ ও মোমবাতি ইত্যাদি দিয়েছেন।
আল-ইহসান যুব সংগঠন: বহুমুখী সেবামূলক কাজ করছে মাঝের চর আল-ইহসান যুব সংগঠন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুফতি আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষ সংগঠনে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমরা বন্যার্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার ওষুধ, শিশুখাদ্য ও নারীদের কাপড় দিয়েছি।’
বিডি আর্তসেবা ফাউন্ডেশন: দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেবা দিচ্ছে বিডি আর্তসেবা। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘বন্যায় প্রথম দিন থেকেই উদ্ধারকারী টিম একটি ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে জরুরি ত্রাণ সেবা দিচ্ছে। খাদ্য, শিশুখাদ্য, পানীয়, জরুরি মেডিসিন, নারী ও শিশুদের বিশেষ প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত পোশাক, প্যাড ইত্যাদি বিতরণ করছে।’
এ ছাড়া বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ, শুভেচ্ছা ফাউন্ডেশন, খেদমতে খালক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, রিসালাতুল ইসলাম বাংলাদেশ, ফতোয়া বোর্ড নরসিংদী, মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়া ঢাকা, কওমী ইয়ুথ ক্লাব, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, মুফতি ওয়াক্কাস (রহ.) ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, খিদমাতুল উম্মাহ ট্রাস্ট, ইমাম ওলামা পরিষদ কিশোরগঞ্জ, আল-ইহসান উলামা পরিষদ ও তরুণ কাফেলা, লক্ষ্মীপুর আলোর দিশারী ফাউন্ডেশন, আল-কাসেম ফাউন্ডেশন, শায়খ রেঙ্গা (রহ.) ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, উলামা পরিষদ মাধবদী থানা, আল-মাদানী ফাউন্ডেশন, বেনিফিটস ফর উম্মাহ, আদ-দাওয়াহ কওমী ছাত্র কাফেলা, ইত্তেফাতুত তুল্লাব যুব সংঘ, দারুল আরকাম ইনস্টিটিউট, আদ-দাওয়াহ বাংলাদেশ, আল-বিলদান ফাউন্ডেশন, থোল্লাকান্দি ওলামা পরিষদ, তানযিমুল উলামা ওয়াল আইম্মা, রাবেতায়ে আবনায়ে রাহমানিয়া, মাহাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া, ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশ ও আন-নূর হেল্পিং হ্যান্ড বাংলাদেশসহ আলেমদের নেতৃত্বাধীন বহু সেবামূলক সংগঠন।
পাশাপাশি দেশের প্রায় মসজিদের ইমাম, খতিব, মাদরাসার মুহতামিম, প্রিন্সিপাল বা অধক্ষ ও উলামায়েকেরাম বানভাসিদের জন্য অর্থ সহায়তা তুলেছেন। খাবার, নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে গেছেন বন্যাকবলিত এলাকায়। কেউ টাকা তুলে দিয়েছেন কোনো সংগঠনের কাছে।
এদিকে বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে ইসলামি রাজনীতি দলগুলোও এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস, যুব জমিয়ত বাংলাদেশ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস অন্যতম।
লেখক : সহ-সম্পাদক, ইসলাম, খবরের কাগজ