ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী লালমোহনে ব্রিজ ভেঙে খাদে ট্রাক, চালক নিহত বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী? মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল ৪ দল ফ্রান্সের কাছে হারলেও গর্বিত ইরাকি সমর্থকেরা টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি আরও ২ জনের রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গ্রেপ্তার ১৬ অ্যান্টি-করোসিভ প্রেম কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটে লঞ্চ চলাচল সীমিত, ভোগান্তিতে ৫ লাখ মানুষ কবর থেকে তোলা হচ্ছে না সালমান শাহর মরদেহ মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের: ডিএমপি কমিশনার ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন

বানভাসিদের পাশে আলেমসমাজ

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৪, ০১:১১ পিএম
বানভাসিদের পাশে আলেমসমাজ
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ প্রস্তুতকরণ ও বিতরণের ছবি।

ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পানির ঢলে বাংলাদেশের ১১ জেলা তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। নিঃস্ব হাজারো পরিবার। বাসস্থান ও খাদ্যবস্ত্রের হাহাকারে বিপন্ন আকাশ-বাতাস। বন্যার শুরু থেকেই বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের আলেমসমাজ ও তাদের নেতৃত্বাধীন সেবামূলক সংগঠন। বন্যা-পরবর্তী সময়েও চিকিৎসা, ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করবেন তারা। বন্যার্তদের পাশে আলেমসমাজের সহযোগিতামূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরা হলো


আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন: উম্মাহর স্বার্থে সুন্নাহের সঙ্গে কাজ করে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে ফাউন্ডেশনটি। এবারের বন্যাও সবচেয়ে বেশি ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সংস্থাটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন, ‘এ বছর ১০০ কোটি টাকার ত্রাণ কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করব। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৃত মানুষের পরিবারের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করা হবে।’ 

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ: বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করছে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংস্থা এটি। পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে তিনটি টিমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তিন জায়গায় কাজ করেছি। বানভাসিদের উদ্ধার, হাজারো মানুষকে শুকনো খাবার দিয়েছি। বন্যা-পরবর্তীতে চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনেও কাজ করব আমরা।’

হেমায়াতে ইসলাম মিশন: ছারছীনা দরবারের সেবামূলক সংগঠন হেমায়াতে ইসলাম মিশন বানভাসিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ছারছীনা দরবার শরিফের পীর মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন জানান, ‘আটকে পড়া বন্যার্তদের উদ্ধারে আমাদের ২০টি ট্রলার কাজ করেছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষকে খাবার দেওয়া হয়েছে।’

আল-মারকাযুল ইসলামী: বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আল-মারকাযুল ইসলামী। এটির বর্তমান চেয়ারম্যান হামজা শহিদুল ইসলাম। আইটি ও মিডিয়া অফিসার নাজমুল হাসান সাকিব জানান, ‘ঢাকা থেকে খাদ্য প্যাকেজিং করে একদল স্বেচ্ছাসেবী বন্যার প্রথমেই গিয়েছেন বন্যাদুর্গতদের কাছে। সেখানে নিরলস কাজ করছেন তারা। করেছেন উদ্ধার কাজও। দিয়েছেন হাজারো মানুষকে খাবার।’ 

তাকওয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: অসহায় মানুষের সেবা সংস্থা তাকওয়া ফাউন্ডেশন। এটি পরিচালনা করছেন মাওলানা গাজী ইয়াকুব। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আটকে পড়াদের উদ্ধার করেছি। মানুষকে খাবার, পানীয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বানিয়ে সেখানে মানুষদের আশ্রয় দিয়েছি।’

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ: প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। নানামুখী সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে। হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের প্রচার সম্পাদক মুহসিন বিন তাজ বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য কাজ করেছেন ২০ জনের একটি দল। সেখানে চারজন চিকিৎসকও রয়েছেন। ৫ হাজার বানভাসি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি আমরা।’ 

বাসমাহ ফাউন্ডেশন: বহুমুখী সেবামূলক কাজ করছে বাসমাহ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির প্রধান মাওলানা মীর হোসাইন। শুরু থেকেই এবারের বন্যার্তদের পাশে আছে বাসমাহ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্য সহায়তা, উদ্ধারকাজ, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনসহ নানামুখী কাজ করছে তারা। 

হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন: ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে বন্যাদুর্গত এলাকায় একটি টিম কাজ করছে। 
ফাউন্ডেশনটির সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ রজিবুল হক বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে হাজারো মানুষকে শুকনো খাবার দিয়েছি। অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। যেসব মাদরাসার ছাত্রদের বই নষ্ট হয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে তাদের বই দেব।’ 

ফি সাবীলিল্লাহ ফাউন্ডেশন: হেলিকপ্টারযোগে বন্যার্তদের মাঝে উদ্ধারকাজ করেছে ফি সাবীলিল্লাহ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ। ফাউন্ডেশনের টিম সমন্বয়ক মাওলানা হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ২২ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছি। ২৪ তারিখে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। হাজারো মানুষকে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, জরুরি ওষুধ ও প্রাথমিক সেবা দিয়েছি।’

রাহমাতুল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশন: বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেবামূলক সংগঠন রাহমাতুল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশন। এটি প্রতিষ্ঠাতা মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী। ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মুফতি আহসান শরীফ বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বন্যার্তদের জন্য কাজ করছি। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে শুকনো খবার ও রান্না করা খাবার দিয়েছি। বন্যার পরে পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করব।’ 

পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ: মুসলিম সন্তানদের মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিতকরণসহ নানামুখী সেবামূলক কাজ করছে মাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইনের পিসব। তিনি জানান, ‘শুরুতে দক্ষ সাঁতারুদের দিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেছি। রান্না করা ও শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দিয়েছি। বন্যার পরে অসহায়দের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন ও টয়লেট নির্মাণ করব। তাদের পুনর্বাসন এবং স্বাবলম্বী করার প্রজেক্টও হাতে নিয়েছি।’ 

মুহসিনীন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি: শুরু থেকেই বানভাসি মানুষের পাশে আছেন মুহসিনীন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংস্থাটির ফাউন্ডার হাফেজ আল-মুনাদি। তিনি জানান, ‘বন্যার শুরু থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাবার ও পানীয় পৌঁছানো এবং আলেমদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

সাদাকাহ ফাউন্ডেশন: বানভাসি মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন সাদাকাহ ফাউন্ডেশন ইউএসএ। সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ইরফান সিদ্দিকী জানান, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় ফাউন্ডেশনের একটি টিম কাজ করছে। শুকনো খাবার দিচ্ছে। আমাদের এ সেবামূলক কার্যক্রম ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত সিদ্দিকীয়া কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।’ 

ত্ব-হা যিন নূরাঈন ফাউন্ডেশন: বন্যার শুরু থেকেই ত্ব-হা যিন নূরাঈন ফাউন্ডেশনের একটি টিম ফেনীর বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছেন। প্রথম দিকে তারা উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তারা। 

ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী: বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আমীর ইবনে আহমাদ জানান, ‘একদল স্বেচ্ছাসেবী টাকা সংগ্রহ করছেন, আরেকদল কাজ করছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। সেখানে আমরা শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দিয়েছি।’ 

আযহারী সাইবার টিম বাংলাদেশ: সৈয়দ হাসান আল আযহারী ‘আযহারী সাইবার টিম বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ টিমের সিনিয়র সদস্য মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের টিমের ১৯ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে বন্যাদুর্গত এলাকায়। ফেনী ও ফটিকছড়িতে হাজারো মানুষকে খাবার দিয়েছি। খাবার বিতরণের নাম দিয়েছি ‘ভালোবাসা’। বন্যার পরে অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ ও মেরামতে কাজ করব।’ 

কওমি উদ্যোক্তা: আলেম উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম কওমি উদ্যোক্তাও বন্যার্তদের জন্য কাজ করছেন। কউ’র কো-ফাউন্ডার মুহাম্মাদ মুমিনুল ইসলাম জানান, ‘শুরুর দিনগুলোয় ১৫ জনের একটি দল রেসকিউ করেছেন। দুর্গম অঞ্চলের মানুষদের খাবার দিয়েছেন।’ 

ইক্বরা সংস্থা: বন্যার্তদের জন্য কাজ করছে কারি শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফের প্রতিষ্ঠিত ইক্বরা সংস্থা। সংস্থাটি তহবিল সংগ্রহ করে ছুটে গেছেন বানভাসিদের কাছে। দিয়েছেন খাবার ও নগদ অর্থ। 

মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবার: বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি সেবায় কাজ করছেন মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবার। শিক্ষা পরিবারের ইনচার্জ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জানান, ‘এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও শিশুখাদ্য দিয়েছি। কাপড়ও দিয়েছি অনেককে। বর্তমানে সেখানে একটি টিম কাজ করছে। টিমে স্থানীয় ডাক্তারও আছেন।’ 

সাধারণ আলেম সমাজ: বানভাসি মানুষের জন্য কাজ করছেন সাধারণ আলেম সমাজ। প্রায় ৫০ জনের একটি টিম সেখানে প্রতিদিনই কাজ করেছে। বানভাসিদের শুকনো খাবার ও চাল-ডাল দিয়েছেন। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় বেশ কাজ করেছেন। 

মতলব দক্ষিণ ইমাম-উলামা ঐক্য পরিষদ: ঐক্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মুফতি গোলাম সারওয়ার ফরিদী জানান, ‘বন্যাদুর্গতের পাশে দাঁড়িয়েছে মতলব দক্ষিণ ইমাম-উলামা ঐক্য পরিষদ। আমরা নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছি। বন্যা-পরবর্তী সময়ে মানুষের ঘর নির্মাণ ও মেরামতে নগদ সহায়তা দেব।’ 

ইফাদাতুল মুসলিমিন ফাউন্ডেশন: মানুষের উপকারে কাজ করছেন ইফাদাতুল মুসলিমিন ফাউন্ডেশন। এবারের বানভাসিদের তারা শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, লবণ ও মোমবাতি ইত্যাদি দিয়েছেন। 

আল-ইহসান যুব সংগঠন: বহুমুখী সেবামূলক কাজ করছে মাঝের চর আল-ইহসান যুব সংগঠন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুফতি আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষ সংগঠনে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আমরা বন্যার্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার ওষুধ, শিশুখাদ্য ও নারীদের কাপড় দিয়েছি।’ 

বিডি আর্তসেবা ফাউন্ডেশন: দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেবা দিচ্ছে বিডি আর্তসেবা। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘বন্যায় প্রথম দিন থেকেই উদ্ধারকারী টিম একটি ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে জরুরি ত্রাণ সেবা দিচ্ছে। খাদ্য, শিশুখাদ্য, পানীয়, জরুরি মেডিসিন, নারী ও শিশুদের বিশেষ প্রয়োজনীয় ব্যবহৃত পোশাক, প্যাড ইত্যাদি বিতরণ করছে।’ 

এ ছাড়া বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ, শুভেচ্ছা ফাউন্ডেশন, খেদমতে খালক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, রিসালাতুল ইসলাম বাংলাদেশ, ফতোয়া বোর্ড নরসিংদী, মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়া ঢাকা, কওমী ইয়ুথ ক্লাব, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, মুফতি ওয়াক্কাস (রহ.) ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, খিদমাতুল উম্মাহ ট্রাস্ট, ইমাম ওলামা পরিষদ কিশোরগঞ্জ, আল-ইহসান উলামা পরিষদ ও তরুণ কাফেলা, লক্ষ্মীপুর আলোর দিশারী ফাউন্ডেশন, আল-কাসেম ফাউন্ডেশন, শায়খ রেঙ্গা (রহ.) ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, উলামা পরিষদ মাধবদী থানা, আল-মাদানী ফাউন্ডেশন, বেনিফিটস ফর উম্মাহ, আদ-দাওয়াহ কওমী ছাত্র কাফেলা, ইত্তেফাতুত তুল্লাব যুব সংঘ, দারুল আরকাম ইনস্টিটিউট, আদ-দাওয়াহ বাংলাদেশ, আল-বিলদান ফাউন্ডেশন, থোল্লাকান্দি ওলামা পরিষদ, তানযিমুল উলামা ওয়াল আইম্মা, রাবেতায়ে আবনায়ে রাহমানিয়া, মাহাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া, ইসলামী ছাত্র ফোরাম বাংলাদেশ ও আন-নূর হেল্পিং হ্যান্ড বাংলাদেশসহ আলেমদের নেতৃত্বাধীন বহু সেবামূলক সংগঠন। 

পাশাপাশি দেশের প্রায় মসজিদের ইমাম, খতিব, মাদরাসার মুহতামিম, প্রিন্সিপাল বা অধক্ষ ও উলামায়েকেরাম বানভাসিদের জন্য অর্থ সহায়তা তুলেছেন। খাবার, নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে গেছেন বন্যাকবলিত এলাকায়। কেউ টাকা তুলে দিয়েছেন কোনো সংগঠনের কাছে।

এদিকে বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে ইসলামি রাজনীতি দলগুলোও এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস, যুব জমিয়ত বাংলাদেশ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস অন্যতম। 

লেখক : সহ-সম্পাদক, ইসলাম, খবরের কাগজ

হাদিসের কথা নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে যেমন লুকিয়ে থাকে স্বর্ণ বা হীরার খনি, মানুষের ভেতরেও কি তেমন কোনো গোপন খনি রয়েছে যা কেবল সঠিক আলো পেলেই জ্বলে ওঠে?মানবচরিত্রের মনস্তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের এক অনন্য রূপরেখা এঁকেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনি মানুষকে তুলনা করেছেন খনির সাথে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ যেমন পরিশোধন করলে মূল্যবান হয়ে ওঠে, মানুষের সুপ্ত প্রতিভাও তেমনি দ্বীনি জ্ঞান সত্যের ছোঁয়ায় বিকশিত হয় ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে যারা নৈতিকভাবে উত্তম মর্যাদাবান ছিলেন, ইসলামের আলো পেয়ে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পর তারাই সমাজের সবচেয়ে খাঁটি শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন

তবে এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটে দুটি জায়গায়, নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং  জীবনযাপনের সততায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিভাষায়, শাসনক্ষমতা নেতৃত্বের পদের জন্য তারাই সবচেয়ে যোগ্য, যারা ক্ষমতার লোভ রাখে না, বরং এর গুরুদায়িত্বকে ভয় পায় এবং পদকে অপছন্দ করে আর সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হলোদু-মুখোবা সুবিধাবাদীরা, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী একেক দলের কাছে একেক রূপ ধারণ করে

চরিত্রের এই খাঁটিত্ব ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলোসত্যবাদিতা সত্য কেবল একটি গুণ নয়, এটি মানুষের ভেতরের খনিকে হীরার মতো উজ্জ্বল করার মাধ্যম নিয়মিত সত্য বলার অভ্যাস মানুষকে পুণ্যের পথে চালিত করে, আর পুণ্য তাকে পৌঁছে দেয় জান্নাতে এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে আল্লাহর দরবারে সেই ব্যক্তিসিদ্দীকতথা সত্যবাদী হিসেবে অমরত্ব পায়

বিপরীতে, মিথ্যার পথটি অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি ছোট মিথ্যা মানুষকে ক্রমান্বয়ে নির্লজ্জতা পাপাচারের অতলে তলিয়ে দেয়, যার অবধারিত পরিণতি হলো জাহান্নাম আর যে ব্যক্তি ক্রমাগত মিথ্যা বলতে থাকে, সে আল্লাহর খাতায়কাজজাবতথা মিথ্যাবাদী হিসেবে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়

এই দুটি হাদিসের মেলবন্ধন আমাদের শেখায় যে, নেতৃত্ব বা সামাজিক মর্যাদা কোনো বাহ্যিক অলংকার নয় ক্ষমতার লোভ বর্জন, দ্বিমুখী আচরণ পরিহার এবং কথার সততাই মানুষের ভেতরেরখনিজকেখাঁটি সোনায় রূপান্তর করে আল্লাহর দেওয়া খনিকে আমরা সত্য দিয়ে সাজাব নাকি মিথ্যা দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

শামায়েল সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের রঙের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা আজ কত গবেষণাই না করছেন! কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রঙের পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা রুচিবোধ পবিত্রতার চূড়ান্ত প্রতীক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন মার্জিত পোশাক পরতেন, তেমনই সাহাবিদের তথা গোটা মুসলিম উম্মাহকে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অনুসরণ অনুকরণের পাতায় রাখার মতো তাঁর সেই চমৎকার নির্দেশনা আপনাকেও ভাবাতে পারে

পোশাকের বহুবিধ রঙের ভিড়ে মহানবি (সা.) উম্মতের জন্য সাদা রংকে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন দেয় কেননা, সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৩২৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস: ৯৫৬৬)

রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাদা পোশাক কেবল জীবিতদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের শেষ বিদায়ের সম্বল কাফনের জন্যও এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ

সাদা রংকে কেন এত প্রাধান্য দেওয়া হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সাহাবি হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র উত্তম আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও (আল-মুজামুল কাবীর, হাদিস: ৯৬৪; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস: ২০২৭)

সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সামান্য ময়লা লাগলেও তা দ্রুত চোখে পড়ে ফলে পোশাকটি দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করার তাগিদ তৈরি হয় ইসলাম যেহেতু ‘পবিত্রতা’কে ঈমানের অঙ্গ করেছে, তাই সাদা পোশাক পরার মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো মানুষকে সব সময় বাহ্যিক অভ্যন্তরীণভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী নির্দেশনা আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা ফ্যাশন মানেই চটকদার জমকালো রঙের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া নয় বরং সরলতা, শুভ্রতা পরিচ্ছন্নতার মাঝেই লুকিয়ে আছে পোশাকের আসল সৌন্দর্য জীবিত অবস্থায় সাদা পোশাকের শুভ্রতা ধরে রাখা এবং মৃত্যুর পর সেই একই শুভ্রতায় আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার মাঝে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

.৫১ মিনিট

এশা

.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোনো বড় দুর্ঘটনা বা কষ্টের খবর শোনার ঠিক প্রথম কয়েক সেকেন্ড আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান? আপনার সেই তাৎক্ষণিক আচরণই বলে দেবে আপনি আসলেই পরকালের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য কি না!

মানুষের জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখ, কষ্ট বা বিপদ আসা এক অনিবার্য বাস্তবতা কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে ইসলামের রয়েছে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা সম্প্রতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য আত্মিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রিয় নবিজি (রাসুল)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (রাসুল) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত ধৈর্য হলো কষ্টের প্রথমাবস্থায় বা প্রথম ধাক্কাতেই’ (বুখরি)

এই বাণীর পটভূমি বিশ্লেষণ করলে এক গভীর মানবিক সত্য উন্মোচিত হয় সাধারণত যেকোনো বড় বিপদ, স্বজন হারানো বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হলে মানুষ শুরুতে চিৎকার, কান্নাকাটি বা ভাগ্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে এর পর দিন, মাস বা বছর কেটে গেলে সময়ের নিয়মে ক্ষতের তীব্রতা কমে আসে এবং মানুষ বাধ্য হয়েই শান্ত হয় কিন্তু হাদিসের গভীর দর্শন অনুযায়ী, সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি মেনে নেওয়াকে প্রকৃতসবরবা ধৈর্য বলা হয় না

আসল পরীক্ষাটি হয় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন কষ্টের খবরটি প্রথম কান বা বুকে এসে আঘাত করে সেই প্রথম মুহূর্তটিতে যে ব্যক্তি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থেকে নিজের মুখ মনকে সংযত রাখে, ইসলাম তাকেই প্রকৃত ধৈর্যশীল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়

এই হাদিসটি আমাদের প্রচলিত জীবনবোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয় এটি শেখায় যে, ধৈর্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের নাম নয়, বরং এটি হলো আকস্মিক বিপদে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আধুনিক মনোবিজ্ঞানও বলছে, যেকোনো ট্রমার প্রথম কয়েক মুহূর্তের মানসিক প্রতিক্রিয়া মানুষের পরবর্তী সুস্থতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যার সমাধান ইসলাম বহু আগেই দিয়ে রেখেছে

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম
ছবি: সংগৃহীত

আজকের এই আধুনিক যুগে হাজারও মতবাদ, দর্শন আর মনগড়া জীবনরীতির ভিড়ে মানুষ প্রায়ই সঠিক পথের দিশা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মুক্তির আসল চাবিকাঠি কোথায়? হযরত জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত বা আদর্শ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর হেদায়াত। তিনি সতর্ক করেন, দ্বীনের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি বা মনগড়া উদ্ভাবনই হলো নিকৃষ্টতম কাজ, যা মানুষকে নিশ্চিত পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় এবং যার শেষ পরিণতি জাহান্নাম (মুসলিম, ১৪১; সুনানে নাসাঈ, ১৫৭৮)।

সমাজে কিছু মানুষের মানসিকতা ও কাজ স্রষ্টার কাছে চরম ঘৃণিত রূপ নেয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। তারা হলো–হারাম বা নিষিদ্ধ এলাকায় অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি, ইসলামের ভেতর জাহেলি যুগের কুসংস্কার বা রীতিনীতি চালুর আকাঙ্ক্ষাকারী এবং স্রেফ অন্যায়ভাবে রক্তপাতের উদ্দেশ্যে অন্যের রক্ত কামনা করা ব্যক্তি (বুখারি, ১৪২)।

মানুষের মুক্তি ও অবাধ্যতার সমীকরণ বোঝাতে ফেরেশতারা এক অলৌকিক উপমা দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) যখন নিদ্রিত ছিলেন (যার চক্ষু নিদ্রিত হলেও অন্তর ছিল জাগ্রত), তখন ফেরেশতারা বলেন, যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন শেষে একজন আহ্বায়ক পাঠালেন; যে সাড়া দিল সে খেতে পারল, আর যে দিল না সে বঞ্চিত হলো। এই উপমার ব্যাখ্যায় তারা বলেন, গৃহটি হলো জান্নাত, আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ এবং নির্মাতা স্বয়ং আল্লাহ। অতএব, মুহাম্মাদ (সা.)-এর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য, আর তিনিই মানুষের মধ্যে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী (বুখারি, মিশকাত ১৪৪)।

অনেকেই মনে করেন, সংসার বা স্বাভাবিক জীবন ত্যাগ করে কেবল বৈরাগ্য সাধনেই বুঝি পরম ধর্ম। একবার তিনজন ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাপ শুনে নিজেদের আমলকে কম মনে করে একজন সারা রাত নামাজ পড়া, একজন আজীবন রোজা রাখা এবং অন্যজন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। রাসুল (সা.) তাদের এই অতি-ধার্মিকতার ভুল ভেঙে দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু হওয়া সত্ত্বেও রোজা রাখি ও ছাড়ি, সালাত পড়ি ও ঘুমাই এবং বিয়েও করেছি। অতএব, যে আমার সুন্নাত বা জীবনপদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার শরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারি, মুসলিম, ১৪৫)।

সাহাবি হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় বিদায়ী খুতবা দিলেন যে সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেল। তিনি ভবিষ্যৎ মতভেদের যুগে নিজের সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দেন (আবু দাউদ, ১৬৫)। একইভাবে হযরত আলি (রা.) বর্ণিত হাদিসে মদিনার পবিত্র ভূমিতে কোনো মনগড়া প্রথা বা বিদ‘আত চালু করা অথবা বিদ‘আতিকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানতের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)।

দ্বীনের নামে নিজস্ব মনগড়া রীতি বা বিজাতিদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং রাসুল (সা.)-এর দেখানো সুন্নাহর সরল পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক