আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাসের নাম ইমান। ইমান মানুষকে আলোর পথ দেখায়। সৌভাগ্যবান বানায়। জান্নাতে নিয়ে যায়। মুমিন-মুসলমানের উচিত ইমানের পথে পরিচালিত হওয়া। ইমানের নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। এখানে কয়েকটি উপকারিতা উল্লেখ করা হলো—
পবিত্র ও আনন্দময় জীবন লাভ
ইমানদার দুনিয়াতে পবিত্র ও আনন্দময় জীবন লাভ করবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়ায় কলুষতামুক্ত, স্বচ্ছ-সফেদ, নির্ঝঞ্জাট জীবনের অধিকারী হবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৭)। পবিত্র ও আনন্দময় জীবনের জন্য সম্পদের আধিক্যতার প্রয়োজন হয় না; বরং প্রয়োজন হয় অল্পতুষ্টি ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের অভ্যাস।
কাজে দৃঢ়তা ও অবিচলতা অর্জন
ইমানের কারণে ব্যক্তি দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভ করে। আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য লাভে ধন্য হয়। কবরে ফেরেশতাদের প্রশ্নে এবং কিয়ামতের বিভীষিকায় দিনেও আল্লাহতায়ালার নিরাপত্তার চাঁদরে বেষ্টিত থাকবেন এবং দৃঢ়তা অর্জন করবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে, আল্লাহ তাদের সুদৃঢ় বাক্যের দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ২৭)
দুনিয়ার জীবনে বরকত
ইমানদার দুনিয়ার জীবনে বরকত লাভ করবেন। বরকত বলতে শুধু কোনো কিছুর আধিক্যতা বোঝায় না; বরং বরকত হচ্ছে, কোনো কিছু নিয়মিত থাকা। ইমানের কারণে ব্যক্তি আসমান ও জমিনের বরকত লাভে ধন্য হয়। আল্লাহ বলেন, ‘জনপদগুলোর লোকেরা যদি ইমান আনত আর তাকওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের জন্য আসমান আর জমিনের কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম কিন্তু তারা (সত্যকে) প্রত্যাখ্যান করল। কাজেই তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের পাকড়াও করলাম।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৯৬)
আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ
আল্লাহর নিরাপত্তাই প্রকৃত নিরাপত্তা। ইমানদাররা দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহতায়ালার আজাব, গজব, শাস্তি ও বিভীষিকা থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে একমাত্র ইমানের ওপর অটল থাকার কারণে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং তাদের ইমানকে জুলুম (শিরক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ৮২)
শত্রুদের থেকে হেফাজত
ইমানের কারণে আল্লাহতায়ালা ব্যক্তিকে শারীরিক, মানসিক, আর্থিকসহ সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে হেফাজত রাখবেন। কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করেন।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৮)
উন্নত মর্যাদার অধিকারী হওয়া
যার ভেতরে ইমান আছে, সে আল্লাহর কাছে দামি। আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন, আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা মুজাদালা, আয়াত: ১১)
প্রশান্তির জীবন লাভ
ইমানদার আল্লাহর বন্ধু। আল্লাহর বন্ধু হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা থাকবে না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘জেনে রাখ! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। যারা ইমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত। তাদের জন্যই আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে। (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৬২-৬৩)
চির-কাঙ্ক্ষিত জান্নাত
ইমান ব্যক্তিকে চির-কাঙ্ক্ষিত জান্নাতে নিয়ে যায়। আল্লাহ খুশি হয়ে ইমানদারদের চিরস্থায়ী জান্নাতে বসবাসের সুযোগ করে দেবেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)
জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ
ইমানের গ্রহণের দ্বারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন জান্নাতিরা জান্নাতে আর জাহান্নামিরা জাহান্নামে চলে যাবে তখন আল্লাহ বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ইমান আছে তাকে বের কর। অতঃপর তাদের এমন অবস্থায় বের করা হবে যে, তারা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। তাদের জীবন-নদে নামিয়ে দেওয়া হবে। এতে তারা তরতাজা হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে জমাট আবর্জনায় সজীব উদ্ভিদ গজিয়ে ওঠে। (বুখারি, হাদিস: ৬৫৬০)
লেখক: খতিব, বাইতুল আজিম জামে মসজিদ রংপুর