বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ফেসবুক বেশি জনপ্রিয় আমাদের দেশে। আমাদের দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুকের যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি আছে মন্দ দিক। তবে মন্দের প্রভাবই বেশি। ফলে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও দেশে বাড়ছে অপরাধ। ধ্বংস হচ্ছে নীতি-নৈতিকতা। কলুষিত হচ্ছে চরিত্র। তাই ফেসবুক ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। সচেতন হতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি—
ফেসুবকে রয়েছে মন্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতার অপব্যবহার করা যাবে না। কারও মন্তব্যের ঘরে গিয়ে অযৌক্তিক অযাচিত কথা বলা যাবে না। বড়োকে সম্মান ও ছোটকে স্নেহ দিয়ে মন্তব্য করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ছোটকে স্নেহ এবং বড়কে সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৪৩)
নিজের ফেসবুক ওয়ালে লেখারও স্বাধীনতা আছে ঢের। ইচ্ছামতো লেখা যায়। কিন্তু এ লেখায় কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো সংবাদ পেলে তা যাচাই করে শেয়ার করতে হবে। কারও ব্যাপারে অন্যায় কিছু লেখা যাবে না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, যদি তোমাদের কাছে কোনো অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা এর সত্যাসত্য যাচাই-বাছাই করো।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)
আরও পড়ুন: নারীর জান্নাত লাভের আমল
এখানে রয়েছে নানান রকম ভিডিও দেখার অবারিত সুযোগ। অনেকে ভিডিওর মোহে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করে দেয়। বয়ে যায় মূল্যবান সময়। অপচয় হয় সময়ের। হুমকির মুখে পড়ে ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন। এক হাদিসে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে একবার প্রশ্ন করা হলো, সৌভাগ্যবান কারা? তিনি বললেন, সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে এবং তা নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, দুর্ভাগা কারা? তিনি বললেন, দুর্ভাগা তারা যারা দীর্ঘায়ু পেয়েছে এবং তা আমলবিহীন অতিবাহিত করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৯)
দৃষ্টি হেফাজতের তেমন সুযোগ নেই এই অ্যাপে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় নীল পাতাজুড়ে ভেসে বেড়ায় বেপর্দা নারীর অর্ধ-উলঙ্গ ছবি। এসব ছবি এখানে প্রমোট করা হয়। মানুষ যেন সহজে পায়, সে ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। তাই সম্পূর্ণভাবে এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। পশ্চিমা সভ্যতার একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যমে সব নোংরামির পথ-পন্থা উন্মুক্ত করে সর্বত্র নষ্টামির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া। যাতে গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে পশ্চিমাদের শিকারে পরিণত হয় মুসলিম উম্মাহ। সুতরাং ইমান বাঁচাতে হলে এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। নিজের অবস্থা সব সময় ইমানের কষ্টিপাথরে যাচাই করতে হবে। জাবের (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ দৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘(দৃষ্টি পড়ামাত্র) তুমি তোমার চোখ ফিরিয়ে নেবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪৮)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫)
ফেসবুক ব্যবহারের উপকারিতা আছে কিছু; তবে ক্ষতি বেশি। ক্ষতির দিকগুলো এড়িয়ে চলে উপকারের বিষয়গুলো ধারণ করতে পারলে তবেই কল্যাণ বয়ে আসবে। ক্ষতিকর দিকগুলো উপেক্ষা করে আমরা শুধু উপকারগুলোই নিব, ইনশাল্লাহ।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক