ইসলামে নারীর সম্মান ও মর্যাদা অনেক বেশি। ইসলাম যেভাবে তাদের সম্মানিত করেছে, অন্য কোনো ধর্ম বা সভ্যতা তা পারেনি। কোরআনে তাদের নামে আছে আলাদা সুরাও। তাদের জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম ও সহজ। অল্প আমল করেই জান্নাতে যেতে পারেন তারা। আমলগুলোও সহজ।
চার আমলে জান্নাত লাভ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান মাসের রোজা রাখে, লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, সে নিজের ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস:৪১৬৩)
স্বামীর আনুগত্য: স্বামীকে মন উজাড় করে ভালোবাসতে হবে। তার পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য করতে হবে। কোনোভাবেই অকৃতজ্ঞ হওয়া যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা সেই নারীর প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না, যে স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না; অথচ সে তার প্রতি মুখাপেক্ষী।’ (নাসায়ি,হাদিস: ৯০৮৭)। আরেক হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন নারী উত্তম? তিনি বললেন, যার প্রতি তাকালে সে স্বামীকে সন্তুষ্ট করে। স্বামী আদেশ করলে তার আনুগত্য করে এবং (স্ত্রী) নিজের ব্যাপারে ও তার ধনসম্পদের ব্যাপারে যা স্বামী অপছন্দ করে, এমন কাজের মাধ্যমে স্বামীর বিরোধিতা করে না।’ (নাসায়ি, হাদিস:৩২৩১)
স্বামীকে কোনোভাবেই কষ্ট দেওয়া যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্ত্রী যখন তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন স্বামীর জন্য নির্ধারিত জান্নাতের হুর বলতে থাকে, হে নারী, তুমি স্বামীকে কষ্ট দিও না, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তোমার স্বামী তো তোমার কাছে কয় দিনের মেহমান মাত্র। অচিরেই তোমাকে ছেড়ে তিনি আমাদের কাছে চলে আসবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১৭৪)
আরও পড়ুন: ইমানের ৯ উপকারিতা
তাকওয়া অবলম্বন: মুমিন-মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য হলো, তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। যার মধ্যে তাকওয়া নেই, সে যেকোনো সময় পথভ্রষ্ট হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-কে বলেন, ‘হে আয়েশা, তোমার জন্য আল্লাহভীতি অর্জন করা আবশ্যক।’ (তিরমিজি, হাদিস:৯৭৮)
অনেকের মধ্যে গিবত, পরনিন্দা ও মিথ্যা বলার অভ্যাস আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ব্যাপারে উম্মতদের সতর্ক করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! তোমরা মিথ্যাচার থেকে দূরে থাক। কেননা, মিথ্যাচার দিয়ে না সফলতা অর্জন করা যায়, না অর্থহীন অপলাপ থেকে বাঁচা যায়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস:৪৬)
হিংসা-বিদ্বেষ ও গুনাহ পরিহার: অনেক নারীর মধ্যে পরশ্রীকাতরতা ও হিংসার প্রবণতা দেখা যায়। সহজে জান্নাতে যেতে হলে এসব পরিহার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারণা করা থেকে বিরত থাক। ধারণা বড় মিথ্যাচার। তোমরা দোষ তালাশ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পর হিংসা পোষণ করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হয়ো না; বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা। সুতরাং সবাই ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (বুখারি, হাদিস: ৬০৬৪)
গুনাহ থেকে বিরত থাকলে সহজে জান্নাতে যাওয়া যায়। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আয়েশা, আমল বিনষ্টকারী বিষয় (ছোট গুনাহ) থেকে বেঁচে থাক। কেননা, আল্লাহতায়ালা তা আশা করেন না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪৩৮৪)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক