জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক। ইবাদত, আচরণ, লেনদেন এবং বাহ্যিক বেশভূষা— সবই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রভাবিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার জীবনদর্শনে সুন্নাহকে কোনো একটি ক্ষেত্রে কম বা বেশি গুরুত্ব দেননি; বরং সব সুন্নাহকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। মুসলমানদের উচিত এসব সুন্নাহ অনুসরণ করা। কারণ এতে রয়েছে বিশাল কল্যাণ ও পুরস্কার।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো দাড়ি রাখা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনে উমর (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) গোঁফ ছাঁটতে এবং দাড়ি লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৫৪)। অপর এক হাদিসে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ১০টি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে একটি হলো গোঁফ ছোট রাখা এবং দাড়ি লম্বা করা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১)
দাড়ি রাখা শুধু ইসলামের এক দিক নয়, এটি একটি মহান আমল- যা মুশরিক এবং অগ্নিপূজক সম্প্রদায়ের বিপরীত পথ অনুসরণ করার মাধ্যমে তাদেরকে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়েও দাড়ি রাখার প্রথা ছিল। এই প্রথার মাধ্যমে মুসলিমদের নিজেদের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা বিধর্মীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গোঁফ ছেঁটে এবং দাড়ি রেখে তোমরা অগ্নিপূজকদের বিপরীত আমল করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০) এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উদ্দেশ্য ছিল, মুসলিমদের জন্য তাদের প্রকৃত চিহ্ন এবং বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা, যা তাদেরকে অন্য সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আলাদা করবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সবাই দাড়ি রাখতেন। তাই দাড়ি রাখা সাধারণ কোনো সুন্নাহ ছিল না, বরং এটি মুশরিক ও অগ্নিপূজক সম্প্রদায়ের বিরোধিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বর্তমানে যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও অনেক মুসলিম দেশে দাড়ি মুণ্ডনের প্রথা প্রচলিত, তখনও আমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক