রোজা, ইসলামিক ইবাদতের মধ্যে অন্যতম মহান ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আল্লাহতায়ালা রোজাকে এত গুরুত্বপূর্ণ বানিয়েছেন যে, এটি সকল ইবাদতের মধ্যে একমাত্র এমন কাজ, যার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই দেবেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য হয়, তবে রোজা ব্যতিক্রম, কারণ এটি একমাত্র আমার উদ্দেশ্যে রাখা হয় এবং এর প্রতিদানও আমি নিজেই দেবো।’ (বুখারি, হাদিস: ১৮০৫)
এ ছাড়া রোজা রাখার এত বিশাল মর্যাদা রয়েছে যে, এটি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে এমন দূরে সরিয়ে নেয়, যার কল্পনাও করা সম্ভব নয়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছর দূরে সরিয়ে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৫১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জন্য এক মহৎ সুন্নাহ রেখে গেছেন, যা যথেষ্ট সহজ এবং অধিকাংশ মুসলিমের জন্য পালন করা সম্ভব। সেটি হলো প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি হলো প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, আর আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এসব কাজ পালন করব।’ (বুখারি, হাদিস: ১৮৮০; মুসলিম, হাদিস: ৭২১)
এ ছাড়াও, রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু যর (রা.)-কে বিশেষভাবে নির্দেশনা দেন, ‘হে আবু যর, তুমি যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬২)
এভাবে প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখলে, সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। কোরআনের আয়াতও এ বিষয়টি সমর্থন করে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একটি ভালো কাজ করবে, তার জন্য তার দশগুণ পুরস্কার রয়েছে। (সুরা আনআম, আয়াত ১৬০) সুতরাং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখলে এক মাসের সওয়াব মিলবে ইনশা আল্লাহ।
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক