কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে ইসলামি বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। কোরবানিদাতা চাইলে এই চামড়া নিজেই ব্যবহার করতে পারবেন। এটি দিয়ে জায়নামাজ, পানির মশক, জুতা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অর্থাৎ, চামড়া যদি ব্যক্তিগত উপকারে আসে, তবে তা নিজের কাছে রাখায় কোনো বাধা নেই।
তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোরবানিদাতারা চামড়া নিজেরা ব্যবহার করেন না, বরং তা বিক্রি করে দেন। এক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশ হলো, বিক্রিলব্ধ সম্পূর্ণ অর্থ সাদকা করে দেওয়া জরুরি। এই অর্থ কোনো অবস্থাতেই কোরবানিদাতা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করতে পারবেন না। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোরবানির বরকত যেন সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
ইসলামি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ আদ্দুররুল মুখতার (৬/৩২৮) এবং ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩০১) সহ অন্যান্য কিতাবেও এই মাসয়ালা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিধানের সারমর্ম হলো, কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত হওয়ার মাধ্যমে যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়, তেমনি এর চামড়া বিক্রির অর্থ গরিবদের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে সামাজিক সমতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
অতএব, এবার যখন কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনার কথা ভাববেন, তখন শরিয়তের এই নির্দেশনাটি মনে রাখবেন। হয় চামড়া নিজে ব্যবহার করুন, নয়তো বিক্রি করে এর সম্পূর্ণ মূল্য অভাবীদের মাঝে বিলিয়ে দিন। এতে আপনার কোরবানি আল্লাহতায়ালার কাছে আরও বেশি কবুল হবে এবং সমাজে এর সুফল পৌঁছাবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক