কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহিমান্বিত ইবাদত। তাই কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। কোরবানির উদ্দেশ্যে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, যা কোরবানিকে অবৈধ করে তোলে, তাহলে করণীয় কী? এ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানির পশুতে নির্দিষ্ট কিছু ত্রুটি থাকলে তা দ্বারা কোরবানি জায়েজ হয় না। যেমন: পশুর দৃষ্টিশক্তি না থাকা, এক-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি কান বা লেজ কাটা থাকা, একেবারেই দুর্বল ও হাড্ডিসার হওয়া, বা খোঁড়া হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারা। যদি কোরবানির নিয়তে কেনা ভালো পশুতে এমন কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে ওই পশু দ্বারা কোরবানি করা সহিহ হবে না। এক্ষেত্রে ত্রুটিমুক্ত আরেকটি পশু কোরবানি করতে হবে।
তবে এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম বিধান হলো। যদি ক্রেতা গরিব হন, অর্থাৎ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে এই ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই তিনি কোরবানি করতে পারবেন। তার জন্য নতুন পশু কেনার প্রয়োজন নেই। এটি গরিবদের জন্য ইসলামের একটি বিশেষ সুবিধা, যা তাদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমিয়ে দেয়। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫)
অতএব, কোরবানির পশু কেনার সময় সতর্ক থাকুন এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে নিজের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। আল্লাহ আমাদের কোরবানি কবুল করুন।
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক