ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির যে নির্দেশনা তৃণমূলে অভ্যুত্থান শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে, ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের ‘ফাইনাল বস’ রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও!

কোরবানির পশু জবাইয়ের পর করণীয় ও বর্জনীয়

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
কোরবানির পশু জবাইয়ের পর করণীয় ও বর্জনীয়
কোরবানির পশুর চামড়া খসানোর ছবি। সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক ত্যাগের মহান শিক্ষা ও ইবাদতের দিন। এ দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা হয়, যা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। কোরবানির এই ইবাদত শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রতিটি ধাপে ইসলাম নির্ধারিত আদব ও নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো,জবাইয়ের পর পশুর প্রতি আচরণ। অনেকেই জানতে চান, জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই চামড়া খসানো কিংবা কোনো অঙ্গ কাটা জায়েজ কি না। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট।

জবাইয়ের পর অপেক্ষার নির্দেশনা
শরিয়ত অনুযায়ী, পশু জবাইয়ের পর তা পুরোপুরি নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। পশুর নিস্তেজ হওয়ার আগেই চামড়া খসানো বা অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হিসেবে বিবেচিত। যদিও এটি সরাসরি হারাম নয়, তবে শরিয়তের নির্দেশনা হলো: মাকরূহ কাজ থেকেও বিরত থাকা।

এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো পশুর প্রতি দয়া ও সহানুভূতির আচরণ নিশ্চিত করা। কারণ, জবাইয়ের পরও কিছু সময় পর্যন্ত পশুর স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় থাকে এবং সে ব্যথা অনুভব করতে পারে। এই সময়ের আগে চামড়া খসানো বা শরীরে অন্য কোনো হস্তক্ষেপ করলে পশু অযথা কষ্ট পায়, যা ইসলামের শিক্ষা পরিপন্থী।

কেন অপেক্ষা করবেন?

১. পশুর কষ্ট লাঘব: জবাইয়ের পরও কিছু সময় পর্যন্ত প্রাণের স্পন্দন থাকতে পারে। এ অবস্থায় শরীরের কোনো অংশ কাটলে তা পশুর জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়। ইসলাম এমন আচরণ কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে। জবাইয়ের সময়ও ইসলাম দয়ার আচরণ শিক্ষা দেয়।
২. রক্তের সম্পূর্ণ নিষ্কাশন: জবাইয়ের পর কিছু সময় অপেক্ষা করলে পশুর দেহ থেকে রক্ত ভালোভাবে বের হয়ে যায়। এতে মাংস স্বাস্থ্যকর হয়, এবং পাক-পবিত্রতাও নিশ্চিত হয়।

করণীয় ও বর্জনীয়

করণীয়:
ক. পশু জবাইয়ের পর তাকে তার স্থানে শান্তভাবে রাখতে দিন।
খ. ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না সে সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়।
গ. নিশ্চিত হন যে পশুর শরীরে আর কোনো নড়াচড়া বা প্রাণের স্পন্দন নেই।

বর্জনীয়:
ক. নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো শুরু করবেন না।
খ. কোনো অঙ্গ যেমন মাথা বা পা কেটে আলাদা করবেন না।
গ. জবাই-পরবর্তী সময়ে শারীরিক কোনো হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকুন।

মানবিকতা ও ইবাদতের পরিপূর্ণতা
কোরবানির দিনে আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই না। তাঁর সৃষ্টির প্রতিও দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে চাই। জবাই-পরবর্তী এই ছোট্ট অপেক্ষা শুধুই একটি নিয়ম নয়, বরং এটি দয়ার প্রতিফলন। যা ইসলামের অন্যতম মৌল শিক্ষা। এই আচরণের মাধ্যমেই কোরবানির ইবাদত পূর্ণতা লাভ করে এবং আমাদের কৃত ত্যাগ আল্লাহর দরবারে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের রঙের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা আজ কত গবেষণাই না করছেন! কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রঙের পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা রুচিবোধ পবিত্রতার চূড়ান্ত প্রতীক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন মার্জিত পোশাক পরতেন, তেমনই সাহাবিদের তথা গোটা মুসলিম উম্মাহকে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অনুসরণ অনুকরণের পাতায় রাখার মতো তাঁর সেই চমৎকার নির্দেশনা আপনাকেও ভাবাতে পারে

পোশাকের বহুবিধ রঙের ভিড়ে মহানবি (সা.) উম্মতের জন্য সাদা রংকে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন দেয় কেননা, সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৩২৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস: ৯৫৬৬)

রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাদা পোশাক কেবল জীবিতদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের শেষ বিদায়ের সম্বল কাফনের জন্যও এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ

সাদা রংকে কেন এত প্রাধান্য দেওয়া হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সাহাবি হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র উত্তম আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও (আল-মুজামুল কাবীর, হাদিস: ৯৬৪; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস: ২০২৭)

সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সামান্য ময়লা লাগলেও তা দ্রুত চোখে পড়ে ফলে পোশাকটি দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করার তাগিদ তৈরি হয় ইসলাম যেহেতু ‘পবিত্রতা’কে ঈমানের অঙ্গ করেছে, তাই সাদা পোশাক পরার মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো মানুষকে সব সময় বাহ্যিক অভ্যন্তরীণভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী নির্দেশনা আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা ফ্যাশন মানেই চটকদার জমকালো রঙের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া নয় বরং সরলতা, শুভ্রতা পরিচ্ছন্নতার মাঝেই লুকিয়ে আছে পোশাকের আসল সৌন্দর্য জীবিত অবস্থায় সাদা পোশাকের শুভ্রতা ধরে রাখা এবং মৃত্যুর পর সেই একই শুভ্রতায় আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার মাঝে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

.৫১ মিনিট

এশা

.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোনো বড় দুর্ঘটনা বা কষ্টের খবর শোনার ঠিক প্রথম কয়েক সেকেন্ড আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান? আপনার সেই তাৎক্ষণিক আচরণই বলে দেবে আপনি আসলেই পরকালের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য কি না!

মানুষের জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখ, কষ্ট বা বিপদ আসা এক অনিবার্য বাস্তবতা কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে ইসলামের রয়েছে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা সম্প্রতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য আত্মিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রিয় নবিজি (রাসুল)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (রাসুল) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত ধৈর্য হলো কষ্টের প্রথমাবস্থায় বা প্রথম ধাক্কাতেই’ (বুখরি)

এই বাণীর পটভূমি বিশ্লেষণ করলে এক গভীর মানবিক সত্য উন্মোচিত হয় সাধারণত যেকোনো বড় বিপদ, স্বজন হারানো বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হলে মানুষ শুরুতে চিৎকার, কান্নাকাটি বা ভাগ্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে এর পর দিন, মাস বা বছর কেটে গেলে সময়ের নিয়মে ক্ষতের তীব্রতা কমে আসে এবং মানুষ বাধ্য হয়েই শান্ত হয় কিন্তু হাদিসের গভীর দর্শন অনুযায়ী, সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি মেনে নেওয়াকে প্রকৃতসবরবা ধৈর্য বলা হয় না

আসল পরীক্ষাটি হয় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন কষ্টের খবরটি প্রথম কান বা বুকে এসে আঘাত করে সেই প্রথম মুহূর্তটিতে যে ব্যক্তি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থেকে নিজের মুখ মনকে সংযত রাখে, ইসলাম তাকেই প্রকৃত ধৈর্যশীল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়

এই হাদিসটি আমাদের প্রচলিত জীবনবোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয় এটি শেখায় যে, ধৈর্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের নাম নয়, বরং এটি হলো আকস্মিক বিপদে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আধুনিক মনোবিজ্ঞানও বলছে, যেকোনো ট্রমার প্রথম কয়েক মুহূর্তের মানসিক প্রতিক্রিয়া মানুষের পরবর্তী সুস্থতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যার সমাধান ইসলাম বহু আগেই দিয়ে রেখেছে

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম
ছবি: সংগৃহীত

আজকের এই আধুনিক যুগে হাজারও মতবাদ, দর্শন আর মনগড়া জীবনরীতির ভিড়ে মানুষ প্রায়ই সঠিক পথের দিশা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মুক্তির আসল চাবিকাঠি কোথায়? হযরত জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত বা আদর্শ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর হেদায়াত। তিনি সতর্ক করেন, দ্বীনের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি বা মনগড়া উদ্ভাবনই হলো নিকৃষ্টতম কাজ, যা মানুষকে নিশ্চিত পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় এবং যার শেষ পরিণতি জাহান্নাম (মুসলিম, ১৪১; সুনানে নাসাঈ, ১৫৭৮)।

সমাজে কিছু মানুষের মানসিকতা ও কাজ স্রষ্টার কাছে চরম ঘৃণিত রূপ নেয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। তারা হলো–হারাম বা নিষিদ্ধ এলাকায় অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি, ইসলামের ভেতর জাহেলি যুগের কুসংস্কার বা রীতিনীতি চালুর আকাঙ্ক্ষাকারী এবং স্রেফ অন্যায়ভাবে রক্তপাতের উদ্দেশ্যে অন্যের রক্ত কামনা করা ব্যক্তি (বুখারি, ১৪২)।

মানুষের মুক্তি ও অবাধ্যতার সমীকরণ বোঝাতে ফেরেশতারা এক অলৌকিক উপমা দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) যখন নিদ্রিত ছিলেন (যার চক্ষু নিদ্রিত হলেও অন্তর ছিল জাগ্রত), তখন ফেরেশতারা বলেন, যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন শেষে একজন আহ্বায়ক পাঠালেন; যে সাড়া দিল সে খেতে পারল, আর যে দিল না সে বঞ্চিত হলো। এই উপমার ব্যাখ্যায় তারা বলেন, গৃহটি হলো জান্নাত, আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ এবং নির্মাতা স্বয়ং আল্লাহ। অতএব, মুহাম্মাদ (সা.)-এর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য, আর তিনিই মানুষের মধ্যে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী (বুখারি, মিশকাত ১৪৪)।

অনেকেই মনে করেন, সংসার বা স্বাভাবিক জীবন ত্যাগ করে কেবল বৈরাগ্য সাধনেই বুঝি পরম ধর্ম। একবার তিনজন ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাপ শুনে নিজেদের আমলকে কম মনে করে একজন সারা রাত নামাজ পড়া, একজন আজীবন রোজা রাখা এবং অন্যজন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। রাসুল (সা.) তাদের এই অতি-ধার্মিকতার ভুল ভেঙে দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু হওয়া সত্ত্বেও রোজা রাখি ও ছাড়ি, সালাত পড়ি ও ঘুমাই এবং বিয়েও করেছি। অতএব, যে আমার সুন্নাত বা জীবনপদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার শরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারি, মুসলিম, ১৪৫)।

সাহাবি হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় বিদায়ী খুতবা দিলেন যে সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেল। তিনি ভবিষ্যৎ মতভেদের যুগে নিজের সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দেন (আবু দাউদ, ১৬৫)। একইভাবে হযরত আলি (রা.) বর্ণিত হাদিসে মদিনার পবিত্র ভূমিতে কোনো মনগড়া প্রথা বা বিদ‘আত চালু করা অথবা বিদ‘আতিকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানতের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)।

দ্বীনের নামে নিজস্ব মনগড়া রীতি বা বিজাতিদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং রাসুল (সা.)-এর দেখানো সুন্নাহর সরল পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০ লাখ কওমি শিক্ষার্থী বাজেট বৈষম্যের শিকার। ছবি: সংগৃহীত

এবারের জাতীয় বাজেটেও কওমি শিক্ষাধারার জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখায় বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কওমি মাদরাসায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এই বৈষম্য দূর করে কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যে গতকাল ২১ জুন তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সাধারণ আলেম সমাজের ব্যানারে কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ আলেম সমাজের মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান। বৈঠকে কওমি অঙ্গনের তরুণ আলেম, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও নীতিগত বক্তব্য তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি অর্থনৈতিক ও বাজেট বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০২৬ সালে কওমি শিক্ষার্থীরা সেই একই ধরনের কাঠামোগত বঞ্চনার শিকার। দেশের মোট জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটে কওমি ধারার জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ না থাকা তাদের মৌলিক নাগরিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। 

বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আলেম মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম। তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে যারা ইসলামী দল করেন, তারা এক সময় বাজেট নিয়ে কথাই বলতেন না। এখন অবশ্য কথা বলেন, কিন্তু বাজেট নিয়ে তাঁদের উপস্থাপন অনেকটা বামপন্থীদের মতো। 

এবারের বাজেটে রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে আলাদা করার উদ্যোগ, করবহির্ভূত আয়ে গুরুত্বারোপ ও বাজেট বক্তব্য বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার বিষয়গুলোকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে তিনি কওমি শিক্ষার অনুপুস্থিতি ও ২০০৫-০৬ সালের সাথে তথ্যগত তুলনার বিভ্রান্তি তুলে ধরেন। 

উসুলে হাশতেগানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং হস্তক্ষেপ মুক্ত অবস্থায় সরকারি বরাদ্দ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তাবনা দাঁড় করাতে পারলে ভালো হবে। বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে প্রথম আলোর ধর্ম বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক, ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় জাকাত তহবিল থেকে রাজস্ব খাতে সরকারের পক্ষে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা সম্ভব। ইসলামি অর্থনীতির এই শক্তিশালী খাতটি রাষ্ট্রীয় মূলধারার অর্থনীতিতে সন্নিবেশ হতে পারে। তবে এই তহবিলকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ বলেন, তিনি সামষ্টিক বাজার পরিস্থিতি ও তরুণদের দূরদর্শিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে ভর্তুকি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পুরো রাষ্ট্র, বাজেটের প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনীতি বুঝতে পারছি কিনা, এটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়ক ও মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান কওমি তরুণদের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্রে শিক্ষার ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকারে কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে না।
তিনি ঘোষণা করেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অধিকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এই গোলটেবিল বৈঠক থেকে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেওয়া হবে।

সাধারণ আলেম সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইমাম সমাজ বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দীন ওয়াকফ সম্পত্তির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা নাজেহাল। এই সম্পত্তির আধুনিকায়ন এবং আমানতদারির সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে মাদ্রাসার প্রয়োজন পূরণ তো হবেই, সরকারও রাজস্ব পাবে। কওমি মাদ্রাসার জন্য সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি পরিহার করে এখন বরাদ্দের জোরালো দাবি তুলতে হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব সানাউল্লাহ খান রাষ্ট্রের সাথে কওমি অঙ্গনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারেনি কওমি অঙ্গণ। সম্পর্ক তৈরি না হলে রাষ্ট্র কখনো কওমি মাদ্ নিয়ে ভাববে না। এতিম মানেই কওমি মাদ্রাসা, এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী সনদের প্রায়োগিক কার্যকারিতা নিশ্চিতের দাবি তুলে বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে কোনো কাজে আসছে না। এই স্বীকৃতি যাতে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজে লাগে, রাষ্ট্রকে সেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় বাজেট সম্পর্কে প্রথমবারের মতো কওমি তরুণরা বক্তব্য রাখছেন, বিষয়টা প্রশংসার। সাধারণ আলেম সমাজের দাবির সাথে তিনি একমত পোষণ করেন।

লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সদস্য সচিব মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ কওমি তরুণদের বড় পরিসরে ব্যবসার মূলধারায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ব্যবসা করি, তখন আমরা এটাকে আটা, মধু বা কালোজিরার মধ্যে সীমাবদ্ধ করি। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইসলামী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি গঠনের প্রচেষ্টার কথা জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাধারণ আলেম সমাজের সভাপতি মাছুম বিল্লাহ মাহমুদী, সাধারণ সম্পাদক আকিফ আবদুল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহদী, অনলাইন একটিভিস্ট জাওয়াদ আহমাদ, বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. মাকছুদুর রহমান প্রমুখ এবং সাধারণ আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ। 

বৈঠক থেকে কওমি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আইটি, কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার জন্য স্বকীয়তা রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য নিয়মতান্ত্রিক চাপ সৃষ্টির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।