মেদ শরীর উপচে পড়তে চাইছে। হাঁটলে ভুঁড়ি চলে আগে। স্থূলতায় আপনার খুব দুঃখ। মানুষ কত কথাই না বলে। আড়ালে-আবডালে। ডাক্তার দেখালেন। তিনি বললেন ওজন কমাতে হবে। আপনার বয়স, উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশি। ডাক্তার একটা খাদ্যতালিকা ধরিয়ে দিলেন। তালিকার সারকথা হলো, কম খেতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার একদম বাদ। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে আমাদের মহানবি (সা.) যা বলে গেছেন, যা খেয়েছেন তিনি, সেটাই হলো সর্বোকৃষ্ট ডায়েট। রাসুল (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বড় ডায়টেশিয়ান। দুনিয়ার শিক্ষা তার ছিল না। তবে আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষায় শিক্ষিত তিনি। ডাক্তার যে খাদ্যতালিকা দিল আপনাকে, আমাদের প্রিয় নবি (সা.) তা দিয়েছেন অনেক আগেই। তার গোটা লাইফস্টাইল শিক্ষণীয়।
মুসলমানের পক্ষে তাকে অনুসরণ ব্যতীত সফলতা পাওয়া অসম্ভব। সুস্থতার জন্য তার খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতে হবে। কেবল ঈমান, আমল নয়। রাসুল (সা.) সব ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত। খাবার গ্রহণের ব্যাপারে আমরা তার অনুসরণ করি না কেন? আল্লাহ বলেন, হে নবি (মুহাম্মদ) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহতায়ালাকে ভালোবাসো, তবে তোমরা আমার অনুসরণ কর। তা হলে আল্লাহতায়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেবেন; আর আল্লাহতায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল, বড় করুণাময়। (সুরা আল ইমরান, ৩১)।
রাসুলের অনুসরণ মানে তার সবকিছু পালনে চেষ্টা করা। তার গোটা লাইফস্টাইল আমাদের জন্য অনুসরণীয়। রাসুলের সুন্নত হলো, পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি, এক ভাগ খালি থাকবে। আমরা সত্যিই কি এই সুন্নত পালন করি? ডাক্তাররা কম খেতে বলেন। যা নবি (সা.) অনেক আগেই বলে গেছেন। নিজে কম খেতেন।
খাবার নেই। পেটে পাথর বেঁধে থেকেছেন। মেহমানদারি করেছেন। আর আমাদের পেট না ভরলে টেবিল থেকেই উঠি না। পেঠ ভরে খাওয়া রাসুল (সা.)-এর পছন্দনীয় ছিল না। বার্লি, খেজুর, ডুমুর, আঙুর, মধু, তরমুজ, দুধ, মাশরুম, অলিভ অয়েল, ডালিম বা বেদানা, লাউ, কিশমিশ, জলপাই, ভিনেগার ও পানি। এই খাবারগুলো রাসুল (সা.)-এর প্রিয় ছিল। তিনি এসব খাবার আগ্রহভরে খেতেন। পছন্দনীয় বলে পেট ভরে খেতেন না। আমরা উল্টোটাই করি। পছন্দের খাবার গলা অবধি খেয়ে থাকি। উপরে উল্লিখিত প্রত্যেকটি খাবার পুষ্টিগুণে ভরপুর।
সব খাবারই নবিজি (সা.) খেতেন। খাবারে দোষ ধরতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবি (সা.) কখনো কোনো খাবারে দোষ ধরেননি, আর কখনো কোনো খাবারকে খারাপ বলেননি। যদি তার ইচ্ছে হতো- তা হলে তিনি খেয়ে নিতেন, ইচ্ছে না হলে রেখে দিতেন। খাবারটা যেমনই হোক, আমার তা পছন্দ হোক বা না হোক, আল্লাহতায়ালার দান করা রিজিকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন আমাদের ওপর ওয়াজিব। (বোখারি)
রাতের খাবার সন্ধ্যার দিকে ডাক্তাররা সেরে নিতে বলেন। আমাদের নবি (সা.) ইশার নামাজের পর শুয়ে পড়তেন। দৈনিক ৩০/৪০ মিনিট হাঁটার কথা চিকিসৎকরা বলেন। এ বিষয়েও নবি করীম (সা.)-এর শিক্ষা রয়েছে। আমাদের প্রিয় নবি (সা.) বেশিরভাগ সময় হেঁটে হেঁটে দাওয়াতের কাজ করতেন। দূরত্ব খুব বেশি হলে উট ব্যবহার করতেন। আমরা তো সামান্য দূরত্বে যানবাহনের খোঁজ করি। শারীরিক পরিশ্রমকে নবিজি গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্বনবি হয়েও তিনি ঘরের কাজ করতেন।
হাদিসে এসেছে তিনি ঘর পরিষ্কার, পশুপাখির খাবার দেওয়া, ছাগলের দুধ দোহন, ছেঁড়া কাপড়, জুতা সেলাই, বাজার করা, আটা পেষার কাজ নিজে করতেন। স্ত্রীদের সাহায্য করতেন। এসব কাজে ক্যালরি লস হতো। চিকিৎসকরা মেদ কমাতে ক্যালরি লস করার কথা বলেন। প্রকৃতপক্ষে যদি আমরা নবিজির খাদ্যাভ্যাসকে অনুসরণ করি, তা হলে শরীর স্থূলকার হওয়ার সুযোগ নেই। বলতে গেলে নবিজি (সা.) সারাজীবন ডায়েট করে গেছেন। ডায়েটের উৎকৃষ্ট নমুনা তার প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকা। তাই স্বাস্থ্যটাকে সুন্দর রাখতে চাইলে আমাদের প্রিয় নবি কারিমকে অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: প্রাবন্ধিক