দাম্পত্য জীবন একটি পবিত্র বন্ধন, যা শুধু দুজন মানুষকে নয়, বরং দুটি পরিবারকে এক করে। এই সম্পর্ক ভেঙে গেলে যে কী পরিমাণ বিশৃঙ্খলা ও দুঃখ নেমে আসে, তা কেবল ভুক্তভোগীই জানেন। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ও বিচ্ছেদ ঘটানোর ষড়যন্ত্র করে, তারা কেবল মানবতারই শত্রু।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কঠোর হুঁশিয়ারি: ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নারীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে উসকে দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ এই হাদিসটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, যারা একটি সুখী পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারা ইসলামের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত।
ইসলামে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব: ইসলাম সাম্য, সমতা ও সংহতির ধর্ম। এটি পারিবারিক বন্ধনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যে ব্যক্তি এই পবিত্র বন্ধনে ফাটল ধরাতে চায়, তার মনে আসলে দ্বীনের কোনো অংশ নেই। কারণ, পারিবারিক বন্ধন রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কেন এটি এত বড় অপরাধ?: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে গেলে শুধু একটি পরিবারই তছনছ হয় না, বরং এর ফলে সমাজে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, ইজ্জত-আব্রু হুমকির সম্মুখীন হয় এবং আমল-আখলাক কলুষিত হয়।
একজন প্রকৃত মুসলিমের কাজ কখনো এমন হতে পারে না। কারণ, একটি সুস্থ পরিবারই একটি সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি। দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরানো শয়তানের একটি বড় কাজ। যারা এই কাজে লিপ্ত হয়, তারা প্রকৃতপক্ষে শয়তানেরই সহযোগী। আমাদের উচিত, যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্ররোচনা থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং দাম্পত্য সম্পর্ককে মজবুত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি সুখী ও শান্তিময় পরিবারই হলো জান্নাতের প্রতিচ্ছবি।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক