হজ ইসলামের রুকনগুলোর মধ্যে পঞ্চম রুকন। হজ একজন মুসলিমের ওপর জীবনে একবারই ফরজ হয়। হজের শাব্দিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, ইবাদত পালনের লক্ষ্যে বায়তুল্লাহর উদ্দেশে গমন করাকে হজ বলা হয়। হজের ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হলো- তাওয়াফ করা, সায়ি করা, আরাফার ময়দানে অবস্থান করা, মিনা ও মুজদালিফায় রাত যাপন করা, প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা ইত্যাদি।
হজ ইসলামের একটি মৌলিক রুকন। তবে এটি পালন করা বেশ কষ্টসাধ্য ও কঠিন। কারণ, এতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুসলিমদের এক স্থানে সমবেত হতে হয়। কারও জন্য এ পথ সংক্ষিপ্ত হলেও কারও জন্য তা অনেক দীর্ঘ। তাই শরিয়াহ হজের জন্য সক্ষমতার শর্ত আরোপ করেছে।
আল্লাহতায়ালা হজ কেবল তার ওপর ফরজ করেছেন, যার পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে- যে সম্পদ দিয়ে বায়তুল্লাহ যাতায়াতের ব্যয় ও হজের পুরো সময়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ নির্বাহ করা সম্ভব হয়। এ ধরনের ব্যক্তির ওপরই হজ ফরজ।
যদি সে শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল হয়, তবে নিজেই হজ আদায় করবে। কিন্তু অসুস্থ বা অক্ষম হলে দুই পরিস্থিতি হতে পারে-
এক. অসুস্থতা যদি সাময়িক হয় এবং ভবিষ্যতে সুস্থ হওয়ার আশা থাকে, তবে সুস্থ হয়ে নিজে হজ আদায় করবে।
দুই. অসুস্থতা যদি স্থায়ী হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে হজ করাতে হবে। যেমন-অত্যধিক বৃদ্ধ ব্যক্তি বা এমন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, যা মৃত্যু পর্যন্ত থাকবে।
কেউ যদি হজ পালন না করেই মৃত্যুবরণ করে, তবে তার উত্তরসূরিদের জন্য ওয়াজিব হবে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে হজের খরচ আলাদা রাখা এবং তা দিয়ে তার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো। এই হাদিসটি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসেরই ব্যাখ্যা ও পরিপূরক। এ কারণেই গ্রন্থকার রাহিমাহুল্লাহ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের পরেই এটি উল্লেখ করেছেন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক