মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.) মহিলা মাদরাসায় ছাত্রীদের মেধা বিকাশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য আয়োজন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও মেধার প্রদর্শনী উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা কিরাত, ইসলামি সংগীত, বক্তৃতা, আবৃত্তি, আর্ট, ক্যালিগ্রাফি, শিক্ষামূলক নাটিকা এবং ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়। উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার এবং অন্য অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল সম্মাননা প্রদান পর্ব। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সারা দেশে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া এই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উত্তরীয় ও বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। শুধু শিক্ষার্থী নয়, তাদের এই সাফল্যের কারিগর ‘গর্বিত মায়েদের’ হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদরাসার মুহতামিমা ফারহানা ইসলাম। তিনি বলেন, সুশিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়; এটি মানুষ গড়ার একটি সুনিপুণ শিল্প। এখান থেকেই চরিত্রের জন্ম হয় এবং সফলতার দিকে পথচলা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল-হাজ্জ ফরিদা রশিদ। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর ভেতরেই সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। সঠিক পরিচর্যা পেলে সেই প্রতিভাই একদিন সমাজ ও জাতির আকাশে আলো ছড়াবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানজিয়া সুমাইয়া, রহিমা ফারজানা, সেলিমা আমান, উম্মে আয়মান কাশফা, মালিহা সুলতানা, মোমেনা সুরমা, সুমনা মারজান, শাকেরা, হালিমা সাদিয়া, জেবা, মাহমুদা, ফারজানা ও হাবিবাসহ আরও অনেক গুণিজন। পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পরিচালনা করেন মাদরাসার শিক্ষিকা তাসদিকা।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুফতি সাইফুল ইসলাম এক লিখিত বার্তায় জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে তারা নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এমন আয়োজন করে থাকেন। তিনি আরও জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ পবিত্র কোরআন খতম শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে। পরিশেষে তিনি প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি মেধা বিকাশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।