বাচনভঙ্গির মাধ্যমে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়। তাই ইসলামে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে সুন্দর ভঙ্গিতে ও সঠিক কথা বলার চমৎকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে কথা বলার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আদব ও সুন্নত তুলে ধরা হলো:
১. সত্য ও সঠিক কথা বলা:
কথাবার্তায় সততা রক্ষা করা মুমিনের প্রধান গুণ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো’ (সুরা আহযাব, ৭০)। অতিরঞ্জিত করে বা বানিয়ে কথা বলা ইসলামে নিষিদ্ধ।
২. কর্কশ আওয়াজ পরিহার করা:
চিৎকার করে বা কর্কশ ভাষায় কথা বলা অভদ্রতা। হজরত লোকমান (আ.) গাধার স্বরকে অপ্রীতিকর উল্লেখ করে তার সন্তানকে কণ্ঠস্বর নিচু রাখার উপদেশ দিয়েছিলেন (সুরা লোকমান, ১৯)। অর্থাৎ, যতটুকু আওয়াজ দরকার, ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করা উচিত।
৩. স্পষ্ট ও ধীরস্থিরভাবে কথা বলা:
তাড়াহুড়ো করে বা অস্পষ্টভাবে কথা বলা সুন্নাহর পরিপন্থি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ততটুকু স্পষ্ট করে কথা বলতেন যে, কেউ চাইলে তার শব্দগুলো গণনা করতে পারত (সহিহ বুখারি, ৩৫৬৭)। তাই কথা বলার সময় এমনভাবে বলা উচিত যেন শ্রোতা সহজেই বুঝতে পারে।
৪. তর্কে না জড়ানো:
নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে তর্কে লিপ্ত হওয়া অনুচিত। এর ফলে সাধারণ আলোচনাও ঝগড়ায় রূপ নিতে পারে। নবিজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সঠিক যুক্তি জানা সত্ত্বেও ঝগড়ার ভয়ে তর্ক করে না, আমি তার জন্য জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হলাম (আবু দাউদ, ৪৮০০)।
৫. মুচকি হেসে কথা বলা:
গম্ভীর মুখে কথা না বলে হাসিমুখে কথা বলা সদকাস্বরূপ। এটি অন্যের মনে প্রশান্তি আনে। জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি যখনই রাসুল (সা.)-কে দেখেছি, তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসেছেন (সহিহ বুখারি, ৩০৩৫)।
৬. শ্রোতার দিকে মনোযোগ দেওয়া:
কারও সঙ্গে কথা বলার সময় এদিক-ওদিক না তাকিয়ে তার দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত। রাসুল (সা.) যখন কারও সঙ্গে কথা বলতেন, তখন পূর্ণ শরীর ঘুরিয়ে তার দিকে মনোনিবেশ করতেন (শামায়েলে তিরমিজি)। এটি শ্রোতাকে সম্মানিত করে।
এভাবেই আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি ও ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে একজন মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে প্রভূত কল্যাণ ও সম্মান লাভ করতে পারে।