নবি-রাসুলদের জীবন শুধুই দাওয়াত, ইবাদত আর মুজাহাদায় সীমাবদ্ধ ছিল না—তারা ছিলেন পরিশ্রমী, আত্মমর্যাদাশীল এবং উপার্জনে স্বনির্ভর মানুষ। রিজিকের জন্য তারা কখনো পায়ের ওপর পা রেখে বসে থাকেননি। বরং নিজেদের ঘামেই উপার্জন করেছেন, যেন উম্মত বুঝে নেয়; রিজিক চাওয়া ইবাদত আর পরিশ্রম করার মর্যাদা।
হজরত আদম (আ.) ছিলেন প্রথম কৃষক; জমিতে চাষ করতেন, ঘাম ঝরাতেন। হজরত নুহ (আ.) কাঠ কেটে নিজ হাতে নৌকা নির্মাণ করেছেন, যেন উম্মত জানে, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল মানে কাজ ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং কাজ করার মধ্যেই বারাকাহ নিহিত রয়েছে।
হজরত ইবরাহিম (আ.) প্রাণী পালন করতেন; তার হাতে ছিল চারণভূমির শ্রম, কষ্ট আর মেহনতের সৌরভ। হজরত মুসা (আ.) বহু বছর রাখালের কাজ করেছেন। একজন নবি হয়েও অন্যের ভেড়া চরিয়েছেন। এতে শিখিয়েছেন, হালাল উপার্জন ছোট বা বড় নয়, বরং পরিচ্ছন্নতা ও সততার নামই সবচেয়ে বড় মর্যাদা।
নবি-রাসুলদের এই জীবন আমাদের জন্য স্পষ্ট শিক্ষা। রিজিক আল্লাহর কাছে নির্ধারিত, কিন্তু বারাকাহ লুকিয়ে থাকে পরিশ্রমে; আর কাজ করা তাওয়াক্কুলের বিপরীত নয়; বরং তাওয়াক্কুলের পরিপূর্ণ রূপ।
হজরত আদম (আ.) পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। হজরত শিস (আ.)ও পিতার মতো কৃষিকাজে অভ্যস্ত ছিলেন। হজরত ইদরিস (আ.)-এর পেশা ছিল কাপড় সেলাই করা। হজরত নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। জীবিকা নির্বাহের জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) ব্যবসা করতেন। হজরত ইসমাইল (আ.) পশু শিকার করতেন। হজরত ইয়াকুব (আ.) ব্যবসায়ী ছিলেন। হজরত ইউসুফ (আ.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন। হজরত শোয়াইব (আ.) পশুপালন করতেন। হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন। হজরত সুলাইমান (আ.) শাসক-বাদশাহ ও নবি ছিলেন। হজরত মুসা (আ.) নবুওয়তের আগে ছাগল বা বকরি চরাতেন। হজরত হারুন (আ.) বকরি চরাতেন। হজরত আইয়ুব (আ.)-এর পেশা ছিল গবাদিপশু পালন করা। হজরত ইউনুস (আ.)-এর গোত্রের পেশা ছিল চাষাবাদ। হজরত জাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
আর আমাদের প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন রাখাল। তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী। বিশুদ্ধ লেনদেন, সত্যবাদিতা ও আমানতের আলোয় তার ব্যবসা ছিল আদর্শের প্রতীক। তিনি দেখিয়েছেন, হালাল রিজিক শুধু পেট ভরায় না, মানুষকে মহান করে তোলে।
লেখক: গবেষক